সংবাদদাতা:
কক্সবাজার সদরের পোকখালীতে ওয়ার্ড সম্মেলন ও কাউন্সিলের জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতা লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের রমজানের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। আহত মর্তুজা শাহেদ জামাল ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি বর্তমানে কক্সবাজার শহরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন মেম্বার ওই এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রিড়া সম্পাদক।
ভিকটিম মর্তুজা শাহেদ জামাল অভিযোগ করে বলেন, গত ১৮ নভেম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে ব্যালট জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করার পর থেকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলেন হেলাল মেম্বার। তারই ধারাবাহিকতায় আমার উপর অতর্কিত হামলা করা হয়। খিলঘুষি, ইট দিয়ে আঘাত করেন হেলাল মেম্বার। এ সময় টেনে হেঁছড়ে আমার পরনের শার্টও ছিঁড়ে ফেলা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আমি কোনভাবে প্রাণে রক্ষা পাই।
তিনি বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার পিতা বঙ্গবন্ধুর সাথে পাকিস্তানে কারাবন্দি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আগের ফ্লাইটে কারামুক্ত হয়ে দেশে ফিরেন। দুঃখের বিষয়, হেলাল মেম্বার ছাত্র জীবনে শিবিরের রাজনীতি করতেন। কর্মজীবনে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ক্ষমতার পালাবদলে কয়েকজন সুবিধাভোগি আওয়ামী লীগ নেতার পরশে রাতারাতি ‘বড় আওয়ামী লীগার’ বনে যান। এই হাইব্রিড যেন এখন মূল আওয়ামী লীগ। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে মার খাচ্ছি। লাঞ্ছিত হচ্ছি।
পোকখালীতে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত মর্তুজা শাহেদ জামালের অভিযোগ, হেলাল মেম্বার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। তাই কাউন্সিলে তার মদতপুষ্ট লোকদের জিতিয়ে আনতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করেন। ব্যালট জালিয়াতি ও কারচুপির আশ্রয় নেন। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পক্ষ হয়ে প্রতিবাদ করায় আমার উপর নির্যাতন করা হচ্ছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হেলাল উদ্দিন মেম্বার বলেন, মর্তুজা শাহেদ জামাল একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ মিথ্যা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •