বিদেশ ডেস্ক:
বিক্ষোভকারীরা ছেড়ে যাওয়ার পর হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় চার হাজার পেট্রোল বোমা পাওয়ার দাবি করেছে সেখানকার পুলিশ। দুই দিন ধরে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সেখানে বিস্ফোরক দ্রব্য, এসিড ও অস্ত্র পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। পরে ক্যাম্পাসটি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হংকংয়ে চলমান বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সেখানে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় পুলিশ। পরে মূল প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিলে ভেতরে আটকা পড়ে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পুলিশের প্রবেশ ঠেকিয়ে রাখার পর বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে প্রবেশে সক্ষম হয় কর্মকর্তারা।

শুক্রবার হংকং পুলিশ জানিয়েছে, পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করায় ১ হাজার ৩৭৭ জনকে আটক করা হয়েছে। ক্যাম্পাস ত্যাগের সময় আটক হয়েছে ৮১০ জন আর আশেপাশের এলাকা থেকে আটক হয়েছে ৫৬৭ জন।

অবরোধের মধ্যে পাঁচদিন পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এলভিস। তিনি বলেন, ব্যারিকেড তৈরি করতে চেয়ার-টেবিল সব নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে আমরা সবাই মাটিতে ঘুমাতাম। তারপরও সেটা আরামের ছিল কারণ সবাই খুবই ক্লান্ত থাকতাম। তিনি বলেন, ‘অনেকেই ধরা পড়েছিল। তিনবার আমরা পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি কারণ পুলিশ আমাদের দিকে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। মনে হয় না তারা আমাদের পালাতে দিতে চেয়েছে। পরিস্থিতি ছিলো খুবই ভীতিকর। সব জায়গায় রক্ত ছড়িয়ে ছিল’।

অবরোধের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের কর্মী বা মেডিক্যাল টিমের কাছ থেকে পাওয়া সামগ্রী দিয়ে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এলভিস বলেন, সব পানিতেই টিয়ারগ্যাসের স্বাদ হয়ে যায়। সেকারণে আমরা বোতলজাত পানি পান করতাম। চতুর্থ দিন সব পানির বোতল শেষ হয়ে যায়, সেকারণে আমরা ফেলে দেওয়া বোতল থেকে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করতে থাকি। এলভিস বলেন, কেউ কেউ একটি সড়ক সেতু থেকে ঝোলানো দড়ি বেয়ে নেমে পালাতে পেরেছে। কিন্তু অন্যদের ছেড়ে বিপদজনক এই উপায়ে পালাতে চাননি এলভিস। একবার চেষ্টা চালাতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান তিনি।

বিক্ষোভকারীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার পর ওই এলাকা পরিস্কার করতে গিয়ে তিন হাজার ৯৮৯টি পেট্রোল বোমা, এক হাজার ৩৩৯টি বিস্ফোরক সামগ্রী, ৬০১ বোতল এসিড এ ৬৭৩টি অস্ত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, এক সময়ের ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •