সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁহ:
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্তৃক দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে পাহাড়ে অবাধে চলছে বৃক্ষ নিধন।
বনাঞ্চল নিধনের কারণে বিপন্ন হচ্ছে বণ্যপ্রাণির আবাসস্থল পাহাড়।
বন্যহাতির পছন্দের খাবার পাহাড়ের কলাগাছসহ বিভিন্ন রকমের পাহাড়ি গাছগাছালি নিধনের ফলে একদিকে হারাচ্ছে বনের সুন্দর্য্য অন্যদিকে বনের বন্যপ্রাণিরা আহারের খুঁজে ছুটে যাচ্ছে লোকালয় এবং জনবসতি এলাকায়।
সেজন্য পরিবেশ যেমন হুমকির মুখে তেমন জনবসতি এলাকার জনগণও ব্যাপকভাবে অাতঙ্কে রয়েছে।
সম্প্রতি সময়ে ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধিন খুটাখালী,মেদাকচ্ছপিয়, কোনাপাড়া, পার্ক অফিস, সেগুনবাগিচা,গোলডেবা, নতুন অফিস জুমনগর লোকালয়ে বন্যহাতির বিচরন ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আশংকাজনকহারে বেড়ে চলেছে।
লোকালয়ে বন্য হাতির পাল ছুঁটে আসচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বার বার বন্য হাতির দল বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয়ে আসার পিছনে বনবিভাগকে দুষছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানায়, বনবিভাগের গাফেলতি,অবহেলা বা প্রকৃতির দায়ভার না নেয়ার কারনে বন্য হাতি লোকালয়ে বার বার আসছে।
এর ফলে প্রতি বছর হচ্ছে একাধিক প্রাণহানি। নষ্ট হচ্ছে অসংখ্য বসত ঘর, কাঁচা-পাকা ফসল ও মূল্যবান গাছ পালা। এতে করে কেউ হারাচ্ছে পরিবারের কর্তাকে। আবার কেউ হারাচ্ছে প্রজন্মকে।
আবার কেউ হারাচ্ছে কষ্টার্জিত শস্য ফসল বা বাগানের গাছপালা।
প্রতিনিয়ত সাধারন মানুষের হারানো শক্তি গুলোর জন্য কেহ দায় নিতে চায়না।
সচেতন মহল মনে করেন, হয়তো প্রকৃত দায়িত্ব পালন না করায় বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে।
আবার ক্ষেত্র বিশেষে বনাঞ্চল উজাড়ে প্রকৃত আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে না এমনতর অভিযোগ ভুক্তভোগিদের।
তারা মনে করেন বনাঞ্চল উজাড়ের ফলে ও সঠিক ভাবে বন্য জীবজন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বন্যহাতি লোকালয়ে ছুটে আসচ্ছে।
শুধু বন্য হাতি নয় বিভিন্ন বন্য জীব জন্তুও লোকালয়ে ছুটে আসছে।
সংশ্লিষ্ট বনাঞ্চল উজাড়ের ফলে একদিকে প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য হারাছে অন্যদিকে বন্য জীব জন্তুও হারিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে বন্য হাতির আক্রমনে যারা ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছেন তাদের মৃত ব্যক্তির পরিবারকে বন বিভাগ থেকে ১ লক্ষ, আহতদের ৫০ হাজার ও ফসল ক্ষতিগ্রস্থদের ২০/২৫ হাজার টাকা দেয়ার কথা রয়েছে।
এলাকাবাসি বনবিভাগের ভুল ব্যবস্থাপনার কারনে বনাঞ্চল উজাড় হওয়ায় বন্য হাতি লোকালয়ে এসে এসব জানমালের ক্ষতি করছে বলে দাবী করেন।
ফুলছড়ি রেঞ্জের বিভিন্ন রিজার্ভ ফরেস্টের মাতৃবৃক্ষসহ বন রক্ষা করতে স্থানীয় বন বিটের কঠোর নজরদারির প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •