ফেনী সংবাদদাতাঃ
ফেনী জেলার পরশুরাম থানার দক্ষিন মোহাম্মদপুর কালাম হুজুরের বাড়ীতে ২১ নভেম্বর বিকাল পৌনে ৬ টায় আবু বক্কর দম্পতির একমাত্র শিশু সন্তান তরিকুলকে নৃশংসভাবে খুন করে তারই আপন বড়মা (জেঠিমা) আর্জিনা আক্তার (২৯)।
নাঁড়ি ছেড়া ধন একমাত্র সন্তান তরিকুলকে চিরতরে হারিয়ে ঘন ঘন মুর্চা যাচ্ছে তার গর্ভধারিনী মা।

ফেনী গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলে আর্জিনা আক্তার আবু বক্কর ও তার স্ত্রীকে শিক্ষা দেয়ার জন্য তরিকুলকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনার দিন ঘরের উঠানে একা পেয়ে তরিকুলকে মুখ চেপে ধরে রান্না ঘর সংলগ্ন টিউব ওয়েল এর পাশে নিয়ে টিউব ওয়েলের হাতল দিয়ে তরিকুলের মাথায় আঘাত করে। পরে রান্না ঘরের ফাঁক দিয়ে ছুঁড়ে মারে তরিকুলকে। অল্পক্ষন পরে ঘরের বাইরে গিয়ে তরিকুলের নিথর দেহ অদুরে ধান ক্ষেতের আইলে ফেলে আসে। বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ফেনীর আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে এ ভাবেই বর্ণনা দেয় আর্জিনা আক্তার আপন দেবরের শিশু পুত্রের লোমহর্ষক নৃশংস হত্যা কান্ডের।
আর্জিনা আদালতে বলে, কেউ যেন বুঝতে না পারে আর্জিনা আক্তার ও কান্না কাটি করে অন্যান্যদের সাথে তরিকুলকে খোঁজাখুঁজি করে।
লাশ উদ্ধারের সময় নিহত তরিকুলের শরীরে বাহ্যিক কোন জখমের চিহ্ন দেখা যায়নি। কিন্তু যেখানে লাশ পাওয়া যায় সেখানে ৩ বছর বয়সী তরিকুলের নিজে নিজে যাওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এখানেই পরশুরাম থানা পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশের রহস্যের গন্ধ পাওয়া, যে এটা খুন। পরিকলপিত খুন । শুরু থেকেই আর্জিনাকে আমরা সন্দেহের তালিকায় রেখে আগাতে থাকি। কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রমান না থাকায় কাস্টোডিতে আনা যাচ্ছেনা। তরিকুলের দাফনের পর তার মা- বাবা সহ আর্জিনা আক্তার এবং অন্যান্যদের কৌশলে থানায় এনে জিজ্ঞাসা শুরু করে থানার ওসির দায়িত্বে থাকা মাহাবুবুর রহমান পিপিএম এবং ডিবি পুলিশের পরিদর্শক শাহীন মিয়া ও এস আই মিজানুর রহমানের সমন্বয়ে যৌথ টিম। নিবিড় তদারকি করেন পুলিশ সুপার স্যার এবং আমি নিজে। এক পর্যায়ে আর্জিনা স্বীকার করে, শিশু তরিকুলকে খুন করার কথা।
৪ ভাইয়ের এ পরিবারে নিহত তরিকুলের পিতা মৌলানা আবু বক্কর সবার ছোট। স্থানীয় মসজিদে ইমামতি করেন। বাকী ৩ ভাইয়ের সবাই মৌলানা। দীর্ঘ দিন ধরে মৌলানা আবুবক্করের পরিবারের সাথে মৌলানা আবুল বশর ( আর্জিনা আক্তারের স্বামী) এর ঝগড়া – বিবাদ চলে আসছে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার সহ গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ মীমাংসাও করেন। স্থানীয় মীমাংসায় সন্তুষ্ট হতে না পেরে ৩ সন্তানের মা (মা নামের কলংক) আর্জিনা আক্তার সূযোগ খুঁজে আবুবক্কর পরিবারকে চরম শিক্ষা দেয়ার।
গত বৃহস্পতিবার আবু বক্কর নিজ হাতে গরম কাপড় পড়িয়ে ছেলে তরিকুলকে ঘরের উঠানে রেখে মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যায়। নামাজ শেষে বাড়ীতে এসে দেখে তরিকুলকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা। বাড়ীর আশে পাশে সব যায়গায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আর্জিনা আক্তারের স্বামী আবুল বশরের ঘরের পিছনে ধান ক্ষেতের আইলের উপর তরিকুলের মৃত দেহ পাওয়া যায়। জীবিত মনে করে ছেলেকে নিয়ে ছুটে যায় পরশুরাম হাসপাতালে। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন তরিকুল বেঁচে নেই।
অভিযোগ পেয়েই পরশুরাম থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান পিপিএম নিহত তরিকুলের লাশের সুরতহাল তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরন করে। নেমে পড়েন মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে । পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখাও শুরু করে ছায়া তদন্ত। নিহত তরিকুলের পিতা বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন পরশুরাম থানায়। রজু হয় হত্যা মামলা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •