ফারুক আহমদ, উখিয়া :
উখিয়ার বালুখালি বাজারে ( পান বাজার) সরকারি জায়গায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের নিকট হতে একটি সিন্ডিকেট অবৈধ ভাবে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় ও উত্তোলন করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর ফলে প্রায় কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া বাজারটি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়া আশংকা দেখা দিয়েছে এমন অভিমত স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের।
সুশীল সমাজের দাবী , উপজেলা প্রশাসন জরব দখলকাী ও সিন্ডিকেটের কবল হতে সরকারি বাজারটি বেদখল মুক্ত করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদেরকে ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করে দেওয়া। অন্যথায় এ বাজারটি বেহাত হওয়ার পরিলক্ষিত হয়েছে ।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয় অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৪২৬ বাংলা সনে বালুখালী বাজার তথা পান বাজার হিসাবে পরিচিত এ বাজারটি সর্বোচ্চ ডাকে ইজারা প্রদান করা হয়েছে।প্রায় ৯৮ লাখ টাকা দিয়ে বাজারটি ইজারা নেন নুরুল আবছার চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, ৮২ লাখ টাকা ইজারা দরের সাথে ১২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ভ্যাট সংযুক্ত করা হয়। এছাড়াও
সরকারি কোষাগারে আরো ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা জামানত রয়েছে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ১৭ টি বাজারের মধ্যে সর্বোচ্চ কোটি টাকায় বালুখালি বাজারটি ইজারা প্রদান করা হলেও নেই কোন নিয়ন্ত্রণ ও ডিমারকেশন। স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা বিক্রেতা জানান , উক্ত বাজারের সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে সেট তৈরি করে দোকান বসিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের নিকট হতে একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট চাঁদা উত্তোলন ও আদায় করছে প্রতিনিয়ত।
কাঁচা মাছ ব্যবসায়ী জসীমউদ্দীন (৩৪) আবদুল মান্নান (২৫) ও দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম (৩২) এ প্রতিবেদককে বলেন, নুরুল কবির ও ফয়েজ বাজারের উত্তর পার্শ্বে ব্যবসায়ীদের নিকট হতে টাকা আদায় করে। এভাবে অসংখ্য দোকান হতে প্রতিদিন নিয়মিত টাকা উত্তোলনের কারণে ব্যবসায়ীদের নিকট হতে ইজারাদার সরকারি নির্ধারিত টোল আদায় করতে পারছে না।
বালুখালি বাজারের ইজারাদার আক্ষেপ করে বলেন, কোটি টাকায় বাজারটি সরকারি ভাবে ইজারা দেওয়া হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে টোল আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করে আরো জানান, ওই এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে নুরুল কবির ও ফয়জুল কবির ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সিন্ডিকেট গঠন করে সরকারি বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা উত্তোলন করছে। এর ফলে বাজার হতে সরকারি টোল আদায় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকের মতে ইজারাদার সরকারি টোল আদায় করতে ব্যর্থ হলে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বালুখালি বাজারের উত্তর পাশে দীর্ঘদিনের সরকারি কাঁচা তরকারি ও মাছ বাজারের নির্ধারিত জায়গা জবর দখল করে সেট তৈরী করেছে নুরুল কবির ও ফয়েজ। বর্তমানে বাজারটি তাদের দখলে। উক্ত বিষয়েে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে সরকারি জায়গায় বাজার সেট তৈরি করার অভিযোগে একরামুল হক নামক এক ব্যক্তি কে আটক করে দুই মাসের সাজা প্রদান করা হয়েছিল।
উখিয়া উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, মানবাধিকার কর্মী নুরুল আলম চৌধুরী ও ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর নিশা সাংবাদিকদের বলেন উপজেলা প্রশাসন বাজারটি সর্বোচ্চ দামে ইজারা প্রদান করেছেন ঠিকই, কিন্তু সরকারি ভাবে বাজারটি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনো পারেনি । স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ব্যবসায়িদের নিকট হতে জোরপূর্বক টাকা উত্তোলন করছে। তারা এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরী জানান, বাজারটি উপজেলা প্রশাসন রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে না থাকায় কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হবে। কেননা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পেশিশক্তি প্রদর্শন করে অবৈধভাবে ও জোরপূর্বক ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ীদের নিকট চাঁদা উত্তোলন করায় সরকারি টোল আদায় এক প্রকার বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে ইজারাদার অভিযোগ করে বলেন হাট-বাজার সংরক্ষণ ও পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে নির্ধারিত হারের টোল আদায়ের কথা থাকলেও চিহ্নিত সিন্ডিকেটের অযথা হস্তক্ষেপ , জবরদখল ও বাধা প্রদানের কারণে টোল আদায় করা যাচ্ছে না। এতে করে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত মুখে পড়েছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন উপজেলা প্রশাসন বাজারটি ইজারা দিলেও তা এখনো বুঝে দেননি, এমনকি অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলনও বন্ধ করতে পারেনি।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, বাজার হতে সিন্ডিকেট কর্তৃক অবৈধ চাঁদা আদায়ের ঘটনা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাজারটি সরকারি ভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •