মো: ছফওয়ানুল করিম, পেকুয়া:
দীর্ঘ ২৫ বছর পর বিদ্যুত সংযোগ পেলেও ১০ দিনের মাথায় আবারো অন্ধকার হয়ে গেল এলাকাটি। এ যেন মান্না দের গানের “কপালে সবার নাকি সুখ সয়না” কলির সাথেই এলাকাবাসির সুখের বিষয়টি মিলে গেল। জানাযায়, ২৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসি অভিযোগ করেন, ওই এলাকায় এক রাতেই ৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যায়। তৎমধ্যে ২টি ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ও অপরটির ভিতর থেকে মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় দুবৃত্তরা। স্থানীয় লোকজন জানান, পেকুয়া উপজেলায় আজ থেকে ২৫ বছর আগে পল্লী বিদ্যুত এলেও শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা এলাকার একাংশে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয় গত ১৩ নভেম্বর। বেশ ঘটাও করে বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকাটির বিদ্যুত সংযোগ উদ্বোধন করেন। এসময় প্রায় ৩২ টি পরিবারে নতুন মিটার দিয়ে সংযোগ দেয়া হয়।
তারা জানান, গত ২৩ নভেম্বর রাতের আঁধারে কে বা কারা ৩টি খুঁটির ৩ টি ট্রান্সফরমারই চুরি করে নিয়ে যায়। এতে করে আবারো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ওই এলাকাটি। স্থানীয় অধিবাসি মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতার আহমদ জানান, “ঘটনার দিন থেকে দীর্ঘসময় ধরে বিদ্যুত না আসায় পেকুয়া পল্লী বিদ্যুত অফিসে অভিযোগ করতে গেলে তারা তদন্ত করে জানায় আমাদের এলাকায় দেয়া ৩ টি নতুন ট্রান্সফরমারই চুরি হয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে পেকুয়া পল্লী বিদ্যুতের ইনচার্জ পুর্ণেন্দু মজুমদার ‘ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে’ উল্লেখ করে বলেন, “বহু বছর পর শিলখালী ইউনিয়নের হাজীরঘোনা এলাকায় লোকজনের চাহিদার ভিত্তিতে নতুন বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয় কিন্তু এ সুখ তাদের কপালে বেশীদিন সয়নি। যেহুতু ট্রান্সফরমারগুলো চুরি হয়ে গেছে সেহুতু আমরা চেষ্ঠা করব যতদ্রæত সম্ভব নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে এলাকায় বিদ্যুত সরবরাহ করার জন্য।”
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের চকরিয়া জোনাল অফিসের ইনচার্জ ও ডিজিএম মোসাদ্দেকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকাতে স্থানীয় লোকজনকে সচেতন করার জন্য আমরা অনেক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করি। কিন্তু যারা বিদ্যুতের বেনিফিসিয়ারী তারা যদি একটু সতর্ক না থাকেন তাহলে চুরি রোধ করা যায়না। তিনি বলেন, আবাসিক ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে নিয়ম হল কোন ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেলে গ্রাহকদেরকে অর্ধেক টাকা দিয়ে নতুন ট্রান্সফরমার কিনে নিতে হবে।”

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •