লাইফস্টাইল ডেস্ক:

হাতের মুঠোয় পৃথিবী বন্দী করতে গিয়ে কখন যেন আমরা নিজেরাই হাতের তালুতে বন্দী হয়ে পড়েছি। অফিসের কাজ, খবর পড়া থেকে শুরু করে অবসর কাটানোর একমাত্র মাধ্যম যেন হয়ে উঠেছে মুঠোফোনটি। এতে কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা নিজেদেরকেই হারিয়ে ফেলছি। রাতের ঘুমের ব্যাঘাত যেমন নিত্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি টানাপড়েন শুরু হয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। মোবাইলে বুঁদ দুনিয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মুখোমুখি আলাপ, আড্ডার অবসর। দৈনন্দিন জীবনে বাড়ছে উদ্বেগ। জেনে নিন মোবাইল আসক্তি দূর করার কিছু কার্যকর উপায়।

টেকনোলজির জন্য যদি স্ট্রেস বাড়ে ও অশান্তি শুরু হয়, বুঝতে হবে আপনি ব্যাপারটা সামলাতে পারছেন না। তখন কাজের ও ব্যক্তিগত সময়কে আলাদা করে নিন। বন্ধু ও সহকর্মীদের জানান যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর আর আপনাকে ফোনে বা চ্যাটে পাওয়া যাবে না।
অবসর সময়ে মেইল বা টেক্সট পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলে চেষ্টা করুন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে চেক করতে।
গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সামনাসামনি করার চেষ্টা করুন। কম সময়ে, ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে সমাধানে পৌঁছতে পারবেন।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও টেক্সটিং বা মেইলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সামনে বসে কথা বলা। এতে স্ট্রেস অনেক কম থাকে। তাই খুব দরকার না পড়লে টেক্সট ছেড়ে ফোনে কথা বলুন বা সামনাসামনি দেখা করুন।
ডিজিটাল স্ট্রেসের সবচেয়ে বড় কারণ টেকনোলোজি ফোবিয়া। সবাই এগিয়ে যাচ্ছে- এই বোধ থেকে জন্ম হয় মানসিক চাপের। মনে রাখবেন, টেকনোলোজি ঠিক ততটুকুই আপনার প্রয়োজন, যতটুকু আপনার নিজের কাজ বা আনন্দের জন্য চাই। এর বাইরে এটি কেবল ক্ষতিরই কারণ হবে।
পরিবার ও নিজের জন্য রাখা সময়ে যেন টান না পড়ে। এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা- যতটুকু সময়ই রাখছেন তা যেন যথাসম্ভব কম্পিউটার বা মোবাইল ফ্রি থাকে।
ইন্টারনেটে পড়াশোনা করার পাশাপাশি বই পড়াও বজায় রাখুন।
বিছানায় যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে থেকে নেট, মোবাইল সব বন্ধ করে দিন। অনিদ্রার প্রকোপ কমবে।
সপ্তাহে অন্তত এক বেলা টেকনোলোজিকে যথাসম্ভব বর্জন করে যা করতে মন চায়, তাই করুন৷ কানে আইপডের তার না গুঁজে শুনুন পাখির ডাক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •