মহানবী (সা.) যেভাবে মদিনার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন

ডেস্ক নিউজ:
মদিনা শরিফের নগররাষ্ট্র ১০ বছরের চেয়েও কম সময়ে উন্নতির ধাপগুলো পেরিয়ে এক বিশাল ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। যার রাজত্বের সীমা উত্তরে ইরাক ও শামের সীমান্ত থেকে নিয়ে দক্ষিণে ইয়েমেন ও হাদরামাউত পর্যন্ত, পশ্চিমে লোহিত সাগর থেকে নিয়ে পূর্বে পারস্য উপসাগর ও ইরান রাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। যার পরিমাপ হলো প্রায় ১০ লাখ বর্গমাইল।

যদিও আগে থেকেই মদিনা শহরের নিয়ম-রীতি আরবের প্রাচীন নিয়ম অনুসারে গোত্রভিত্তিক নেতৃত্বাধীন ছিল। কিন্তু দ্রুতই তা একটি সর্বব্যাপী ও কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতায় রূপ নিল। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি জীবন্ত মোজেজা যে এ বিচ্ছিন্ন একটি জাতিকে নিপুণভাবে একটি জাতিসত্তায় পরিণত করলেন। এটি আরবদের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল। কেননা তারা বিভিন্ন গোত্রভিত্তিক শাসনব্যবস্থায় অভ্যস্ত ছিল। ফলে বিভিন্ন অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজমান ছিল।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর যখন সেখানে ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেন, তখন মদিনায় বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের লোকের বসবাস ছিল। তাদের মধ্যে প্রধান দুটি গোত্র ছিল আউস ও খাজরাজ। বনু কাইনুকা, বনু নজির ও বনু কুরাইজা নামের ইহুদি গোত্ররাও তখন মদিনা এলাকায় বসবাসরত ছিল। এ ছাড়া আরো দুই-চারটি উপদলও ছিল। ইসলামপূর্ব সময়ে মদিনার প্রধান দুটি গোত্র আউস ও খাজরাজের মধ্যে প্রায়ই যুদ্ধ লেগে থাকত। এ দুটি গোত্রের প্রায় সবাই যখন ইসলামের ছায়াতলে একত্র হলো, তখন তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো। এমন পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে নিম্নের সমস্যাগুলো তাত্ক্ষণিক সমাধানের প্রয়োজন ছিল :

ক. নিজের সাথিদের ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দায়িত্ব এবং অধিকার চিহ্নিতকরণ।

খ. মুহাজিরদের আবাসন ও জীবনযাপনের যাবতীয় উপকরণের ব্যবস্থা।

গ. শহরের অমুসলিম বিশেষত ইহুদিদের সঙ্গে সমঝোতা।

ঘ. শহরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রতিরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া।

ঙ. মক্কার কুরাইশদের পক্ষ থেকে আক্রান্ত মুহাজিরদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা।

উপরোক্ত লক্ষ্যগুলো সামনে রেখে রাসুলে করিম (সা.) প্রথম ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মীয় ও গোত্রগত সম্প্রদায়ের জনগণের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে সবাইকে একটি চুক্তির আওতায় নিয়ে এলেন। ইতিহাসে যা ‘মদিনা চুক্তি’ বা ‘মদিনা সনদ’ নামে পরিচিত।

মদিনা সনদের ধারাবাহিক বিবরণ পাওয়া যায় ইতিহাস ও সিরাতের বিভিন্ন কিতাবে। অবশ্য এর কিছু ধারা বিভিন্ন হাদিসের কিতাবেও বিক্ষিপ্তভাবে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। আবার সিরাত ও ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনায় কিছু কমবেশিও রয়েছে। এগুলোকে একত্র করে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জিয়া আলউমরি তাঁর ‘আলমুজতামাউল মাদানি’ কিতাবে। সেখানে তিনি এ চুক্তির বর্ণনাসূত্র নিয়ে গবেষণার সারমর্মও পেশ করেছেন। মদিনা সনদ ও সংশ্লিষ্ট আলোচনার জন্য দেখুন কিতাবটির ১০৭ থেকে ১৩৬ পৃষ্ঠা।

মদিনা চুক্তির মূল কথাগুলো ছিল নিম্নরূপ :

১. এটি ছিল মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকারী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক সম্পাদিত একটি চুক্তি। মদিনায় বসবাসকারী প্রায় সব ধর্ম-গোত্রের মানুষকে এ চুক্তির অধীনে আনা হয়।

২. এ ভৌগোলিক সীমায় বসবাসকারী লোকজন একই দেশে বসবাসকারী নাগরিক বলে গণ্য হবে।

৩. চুক্তির আওতাভুক্ত লোকজন যে যে ধর্মেরই হোক একে অন্য থেকে জান-মালের নিরাপত্তা পাবে (যতক্ষণ না সে চুক্তি ভঙ্গ করে)।

৪. ফিতনা-ফ্যাসাদকে শক্ত হাতে দমন করা হবে।

৫. বহিঃশক্তি ও বহিরাগত হামলাকে সবাই মিলে প্রতিহত করবে।

৬. কোনো বিষয়ে বিরোধ পরিলক্ষিত হলে তার ফায়সালা করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল অর্থাৎ কোরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী তা মীমাংসিত হবে।

৭. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুমতি ছাড়া কেউ যুদ্ধে বের হবে না। (মাজমুআতুল ওয়াছাইকিছ সিয়াসিয়্যাহ লিল‘আহদিন নববী ওয়াল খিলাফাতির রাশিদাহ, ড. হামিদুল্লাহ, পৃ. ৬১, ৬২; আলমুজতামাউল মাদানি ফি আহদিন নুবুওয়াহ, ড. আকরাম জিয়া আল-উমারি পৃ. ১২১, ১২২)

এ ছাড়া উক্ত চুক্তিতে নগরায়ণের পলিসি হিসেবে নিম্নের বিষয়গুলোর প্রতিও বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে :

এক. শান্তি প্রতিষ্ঠা।

দুই. শিক্ষা ও দীক্ষার প্রচার এবং সহজীকরণ।

তিন. আবাসন, আয়-রোজগার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা।

সর্বশেষ সংবাদ

কুতুবদিয়ায় ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ২

কক্সবাজারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই

গর্জনিয়ায় আদালতের আদেশকে তোয়াক্কা না করে কৃষককে জমি থেকে উচ্ছেদের তৎপরতা

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে এমভি পারিজাত ও এমভি দোয়েল পাখি-১ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

অল্প কথা,গল্প নয়!

একটি কালভার্টে দুঃখ ঘোচাবে ৭ হাজার মানুষের

স্বপ্নজালের নতুন পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি ঘোষণা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সাথে বৈঠকে বসতে চায় বাংলাদেশ

চকরিয়ায় গাঁজা বিক্রেতা গ্রেফতার

কক্সবাজারে ৪৬৭ মানবপাচার মামলার একটিও নিষ্পত্তি হয়নি

কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর পাক্ষিক সাহিত্য সভা ২৫ জানুয়ারি

রাঙামাটিতে হত্যার হুমকি, বখাটে শিক্ষকের ২দিনের জেল

বিজিবি’র সাথে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা নিহত, ১ লক্ষ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

আগামী বছর থেকে সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটাই ভর্তি পরীক্ষা

চকরিয়ায় বন্ধুসভার মতবিনিময় সভা

উপনিবেশ শাসন সংরক্ষনে দেশসেরা বদরখালী সমিতি, আর শ্রেষ্ট মানুষ ছিলেন আবদুল হান্নান

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার কি অন্তর্বর্তী আদেশেই সীমাবদ্ধ?

রায়ে ‘জয়ের স্বাদ’ পেয়েছেন রোহিঙ্গারা

কালেক্টরেট সহকারী সমিতির ৪র্থ দিনের মতো কর্মবিরতি পালন