ইমাম খাইর, সিবিএন:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মানে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নাম। জাতীয়তাবাদী দলের রাজনৈতিক ধারায় আধুনিকায়নসহ রাজনীতিতে নতুন দিক-নির্দেশনা সৃষ্টি এ উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত। তারেক রহমান বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের নিজস্ব সুখ সমৃদ্ধির চিত্র বিশ্ব মানচিত্রে উজ্জ্বল করার জন্য নিয়েছেন অন্যতম প্রধান ভূমিকা।
তারেক রহমানের ৫৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে জেলা শ্রমিক দল আয়োজিত দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথি কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল এসব কথা বলেন।
জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বুধবার (২০ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার শহীদ স্মরণীস্থ জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে সভায় লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে তরুণ সমাজকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করে উন্নয়ন ও উৎপাদনের মধ্যে যুক্ত করলে দেশ অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে-এই চিন্তার ধারক-বাহক ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে তারেক রহমান সারাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। দেশের জনগোষ্ঠীর তৃণমূলে দীর্ঘদিনের অচলায়তন কাটিয়ে প্রাণসঞ্চার করেছিলেন তারেক রহমান।
কক্সবাজার জেলা শ্রমিকদল আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন -কক্সবাজার শহর শ্রমিক দলের সভাপতি এস্তাক আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান ফাহিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহিম, জেলা শ্রমিক দলের দপ্তর সম্পাদক ও পর্যটন অঞ্চল শ্রমিকদলের সভাপতি এম খাইরুল আমিন হিরু, সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, শহর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ হোসেন গুরা মিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল হুদা, টেকনাফ পৌর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন কালু, জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সওদাগর, শহর শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি হালিম ভান্ডারী, আবাসিক হোটেল শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ আলী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, পৌরসভা ১ নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আফসার মিয়া, পৌর শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ইসহাক, জেলা শ্রমিকদল নেতা মিজান।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন -জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক একরামুল হক, শহর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ফারুক আজম, মোঃ হোসেন মাদু, রেজাউল করিম, জেলা ছাত্রদল নেতা রোস্তম রানা।

তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সোনার সংসারের প্রথম সন্তান তারেক রহমান। তিনি ১৯৬৫ সালের এইদিনে (২০ নভেম্বর) জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম পিনো।
১/১১ সরকারের সময়ের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। সেখানকার সাউথ ওয়েলিংটন ও লন্ডন হসপিটালে তার চিকিৎসা চলছে। লন্ডনের চিকিৎসার সুবিধার্থে তিনি লন্ডনে সপরিবারে বাস করছেন। তবে তার সঙ্গে আছেন সহধর্মিণী ডা. জুবায়দা রহমান ঝুনু, একমাত্র কন্যা জায়মা রহমান। জন্মদিনে তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন। তিনি প্রবাসে থাকলেও তার প্রাণ পড়ে আছে দেশেই। আর বাংলাদেশের মানুষ তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে পিতৃহারা তারেক রহমান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষে ভর্তি হন এবং স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন মেধাবী ছাত্র তারেক রহমান।
পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বগুড়া কমিটির সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শুরু। মাত্র ২২ বছর বয়সে ১৯৮৮ সালে তারেক রহমান বগুড়া জেলার গাবতলী থানা বিএনপির সদস্য হন। আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনে যোগ দেয়ার আগেই তারেক রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার সঙ্গি হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও মায়ের পাশাপাশি তারেক রহমানও দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। মূলত এ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতির প্রথম সারিতে তারেক রহমানের সক্রিয় আগমন ঘটে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০২ সালে তারেক রহমানকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ দায়িত্ব পেয়ে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার আলোকে তারেক রহমান দেশব্যাপী দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। মূল সংগঠন ছাড়াও জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এখান থেকেই তিনি মাঠ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য শোনেন এবং তাদের মতামত গ্রহণ করেন। এ সভাগুলোতে তারেক মূলতঃ দলের গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ মতবিনিময় করেন। এরপর পঞ্চম এবং ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

দলের চেয়ারপারসন ও মা বেগম খালেদা জিয়াকে কথিত দুর্নীতি মামলায় কারাগারে পাঠানো হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান।
লন্ডন থেকে স্কাইপির মাধ্যমে তিনি দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডেও সদস্যদের সাথে চলমান মনোনয়ন বোর্ডে অংশ নেন।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •