শাহেদ মিজান, সিবিএন:

সদ্য সম্পন্ন টেকনাফের তিন ইউনিয়ন আ.লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল বাতিল করেছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ। ইউনিয়নগুলো হলো- টেকনাফ সদর, বাহারছড়া ও হ্নীলা। জেলা আওয়ামী লীগ না জানিয়ে এক তরফাভাবে সম্মেলন ও কাউন্সিল আয়োজন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিকে পদায়ন করার কারণে এসব ইউনিয়নের সম্মেলন ও কাউন্সিল বাতিল করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তথ্য মতে, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে কোনো রকম আলোচনা বা পরামর্শ না করে সম্প্রতি টেকনাফ সদর ,বাহারছড়া ও হ্নীলার সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে তিনি এক তরফাভাবে তার নিজ ইউনিয়ন হ্নীলায় ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে তার পুত্র ইয়াবার ব্যবসায়ীর তালিকায় থাকা রাশেদ মোহাম্মদ আলী ও হবু বেয়াই জালাল আহামদকে সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশ ছিলো- সিনিয়র সহ-সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে ওয়ার্ড কমিটিগুলোর সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন করে ইউনিয়নের সম্মেলন করা। কিন্তু তা না করেই তড়িঘড়ি করে ইউনিয়নের সম্মেলন দিয়ে দেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী।

একইভাবে বাহারছড়া ইউনিয়নেও জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশ অমান্য করে সম্মেলন দেয়া হয়। সেখান সভাপতি হন সাইফুল্লাহ কোম্পানি এবং সাধারণ সম্পাদক হন হাসান উল্লাহ। এই ইফনিয়নও অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর নিয়ন্ত্রণে হয়।
অন্যদিকে সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে টেকনাফ সদর ইউনিয়নে বহুল বিতর্কিত ও তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী হামজালালকে এক তরফাভাবে সভাপতি পদে পদায়ন করা হয়। তবে এই ইউনিয়নের সম্মেলন ও কাউন্সিল উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আবুল বশরের নিয়ন্ত্রণে হয়।

এসব অভিযোগে প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত এসব ইউনিয়নের সম্মেলন ও কাউন্সিল বাতিল ঘোষণা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। একই সাথে তিন ইউনিয়নে পুনরায় সম্মেলন ও কাউন্সিল আয়োজন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং বিতর্কিত হামজালালকে আওয়ামী লীগেই না রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম অমান্য করায় টেকনাফের ওই তিন ইউনিয়নের সম্মেলন ও কাউন্সিল বাতিল করা হয়েছে। সঠিক পন্থা অবলম্বন করে সেসব ইউনিয়নের পুনরায় সম্মেলন ও কাউন্সিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং শিগরিই আবার সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরো বলেন, দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেভাবে চাচ্ছেন সেভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। যে কাউকে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অংশ নিতেও দেয়া হবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •