নিজস্ব প্রতিবেদক:

রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় বাংলাদেশীদের দৃষ্টিশক্তি উন্নয়নে কাজ করছে ইউএনএইচসিআর, ফুজি অপটিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড এবং অরবিস।তাদের কর্মসুচির অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় দৃষ্টিশক্তিহীন স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চশমা বিতরণ করেছে।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্প এবং স্থানীয় বাংলাদেশীদের জন্য পরিচালিত ‘আই কেয়ার প্রোগ্রাম’-এর অংশ হিসাবে অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কাছে চশমা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ শামছু দ্দৌজা।

তিনি বলেন, ইউএনএইচসিআর শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণ উভয়ের জন্য কাজ করছে। এরকম আরও সহায়তা আমাদের প্রয়োজন। এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ।

ফুজি অপটিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড হাজার হাজার শরণার্থীর স্পষ্ট দৃষ্টি নিশ্চিত করতে ১৯৮৪ সাল থেকে ইউএনএইচসিআর-এর সাথে কাজ করে আসছে। ফুজি অপটিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড বেসরকারী খাতে ইউএনএইচসিআর-এর দীর্ঘদিনের অংশীদার। তাদের সিইও ডঃ আকিও কানাই ইউএনএইচসিআর-এর সাথে তাঁর মূল্যবান কাজের স্বীকৃতি হিসাবে ২০০৬ সালে ইউএনএইচসিআর-এর নানসেন রিফিউজি পুরষ্কার লাভ করেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় বাংলাদেশীদের জন্য ফুজি অপটিক্যাল কোম্পানী লিমিটেডের কাছ থেকে ১,৫০০টি চশমা অনুদান পেয়েছে। এই অনুদানটির সাথে ২০১৭ সালে পাওয়া ১,০০০টি চশমা মিলে মোট ২,৫০০টি চশমা হয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী এবং স্থানীয় বাংলাদেশীদের চক্ষু সেবা দেয়ার জন্য ২০১৮ সালে ‘কক্সবাজার বায়তুশ শরফ হাসপাতাল’ (সিবিবিএসএইচ) এর সাথে অংশীদার হয়ে অরবিস তাদের কাজ শুরু করে। তাদের কাজের মধ্যে আছে আউটরিচ প্রোগ্রাম, স্কুলে দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা কার্যক্রম এবং শিশুবান্ধব স্পটগুলোতে স্ক্রিনিং। বালুখালীর ক্যাম্প-১১তে একটি স্ক্রিনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ভিশন সেন্টার চালু করা হয়েছে।

সিবিবিএসএইচ ইউএনএইচসিআর-এর দীর্ঘদিন ধরে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। এটি স্থানীয় জনগণের সেবা প্রদানের পাশাপাশি শরণার্থীদের জন্য একটি রেফারেল হাসপাতাল হিসাবে কাজ করে। স্থানীয় জনগণের জন্য ইউএনএইচসিআর-এর সহায়তার অংশ হিসাবে ইউএনএইচসিআর এমনভাবে কাজ করে যেন জেলার মধ্যে হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা উন্নত হয়। সিবিবিএসএইচ শরণার্থী এবং স্থানীয় বাংলাদেশী উভয়ের ব্যবহারের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছে, যেটি সব ধরণের সুবিধা ও যন্ত্রপাতি সম্বলিত।

“আমরা শুধু একটি চশমা দিয়ে একজন মানুষকে সাহায্য করছি না, বরং এই দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে তার পুরো পরিবার উপকৃত হবে। শরণার্থী ও স্থানীয় উভয় জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা বাড়াতে আমাদের আরও নজর দিতে হবে। সবাই মানুষ এবং সবাই আমাদের সাহায্য পাবে”, বলেন আজ উখিয়ায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত কক্সবাজারের ইউএনএইচসিআর-এর সাব-অফিসের প্রধান মারিন কাইদুমচাই।

“২০১৮ সাল থেকে ১২০,০০০ এর বেশি চোখের স্ক্রিনিং করা হয়েছে, ২,৮০০ এর বেশি রোগীর ক্যাটারাক্ট সার্জারি করা হয়েছে, ২০,০০০ এর বেশি লোক ঔষধ পেয়েছেন, এবং ৯,০০০ এর বেশি চশমা বিনামূল্যে রোগীদের বিতরণ করা হয়েছে”, বলেন অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডঃ মুনির আহমেদ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •