মোঃ নেজাম উদ্দিনঃ
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলার ৪টি উপজেলায় শনিবার (১৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান কাজ।
রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা এলাকায় ঐতিহাসিক কানা রাজার সুড়ঙ্গ বা আঁধার মানিক গুহা চত্বরে এ জরিপ ও অনুসন্ধান কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের যুগ্ম সচিব জাকির হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান, কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশন কক্সবাজার এর সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, কক্সবাজার সিভিল সোসাইটিজ ফোরাম এর সহসভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য শামশুল আলম, বাংলাভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মোর্শেদুর রহমান খোকন, দৈনিক রূপালী সৈকতের বার্তা সম্পাদক মোঃ নেজাম উদ্দিন, নুরুল হক কোম্পানি, চিত্র শিল্পী তানভির সরওয়ার রানা, সাংবাদিক সোয়েব সাইদ, সাংবাদিক কামাল হোসেন, রামু উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া, ফায়সাল সাকিব প্রমুখ।
বিকেলের দিকে যুগ্ম সচিব জাকির হোসেন এলাকায় পৌঁছালে শত শত উৎসুক জনতা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করে।
প্রধান অতিথি জাকির হোসেন বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহ্য ইতিহাস তুলে ধরতে এমন কিছু চিহ্ন আমাদের দেশে রয়েছে তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। যদি এমন অভূতপূর্ব নিদর্শনগুলো খুঁজে বের করতে পারে তাহলে পর্যটক সমাগম ঘটবে, এতে এলাকার উন্নয়ন ঘটবে।
বিশেষ অতিথি কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, এমন একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখে সত্যিই আমি অভিভূত।
টুরিস্ট পুলিশের কাজ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান জানান, কক্সবাজার জেলার সদর, রামু, উখিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাসব্যাপী প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরো জানান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হান্নান মিয়ার নির্দেশান অনুযায়ী এ জরিপ ও অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রত্নতাত্ত্বিক এ জরিপ ও অনুসন্ধান কাজের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার তাঁরা কক্সবাজার এসেছেন।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- তত্ত্বাবধায়ক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো.আতাউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিল্ড অফিসার মো.শাহীন আলম, সদস্যদের মধ্যে সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. হাফিজুর রহমান, গবেষণা সহকারি মো. ওমর ফারুক, সার্ভেয়ার চাইথোয়াই মারমা, পটারী রের্কডার ওমর ফারুক ও লক্ষণ দাস।
প্রতিনিধি দলটি উদ্বোধনের আগের দিন শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে রামুর ঐতিহাসিক কানা রাজার সুড়ঙ্গ বা আঁধার মানিক চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল ও প্রস্তুতিমূলক কাজ পরিদর্শন করেন।
তখন সাথে ছিলেন বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী তানভীর সরওয়ার রানা, ছড়াকার কামাল হোসেন, সাংবাদিক সোয়েব সাঈদ, স্থানীয় বাসিন্দা কফিল উদ্দিন, মো. আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর রম্যভূমি রামু উপজেলার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে প্রাক জরিপ দল। ওইসময় দলটি রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে ঐতিহাসিক কাঁনা রাজার সুড়ঙ্গ বা আঁধার মানিক এবং ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসেরচর এলাকার ঐতিহাসিক লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহার ও ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের ডাক বাংলো পরিদর্শন করেন।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা জানান, ঐতিহাসিক কানা রাজার সুড়ঙ্গ বা আঁধার মানিককে ঘিরে এখানে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের কারনে এর গুরুত্ব আরো বেড়ে যাবে। তিনি প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান কাজে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •