মোহাম্মদ উল্লাহ, চকরিয়া:
চকরিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি’র) মোড়ক লাগানো সারের বস্তায় নিন্ম মানের সার প্যাকেটজাত করে বিক্রির অভিযোগে হারবাং ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার জামান এন্টারপ্রাইজের দোকান থেকে ৮৯ বস্তা জব্দ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে এসব সার জব্দ করার পর বৃহস্পতিবার সকালে তা উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ সেন্টারের পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে নষ্ট করা হয়। নিম্নমানের সার এনে সরকারী সংস্থা বিএডিসির বস্তায় প্যাকেটজাত করার পর প্রতারণার মাধ্যমে হারবাংসহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় এসব সার বিক্রি করলেও রহস্যজনকভাবে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ওই সার ডিলার।

এদিকে ভেজাল ও নিম্নমানের সার এনে তা কৃষকদের কাছে বিক্রির অভিযোগে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে বিক্ষোভ করেছে একদল কৃষক। এসময় তারা প্রতারণার আশ্রয় নেয়া সার ডিলার জামান এন্টারপ্রাইজের ডিলারশীপ বাতিল ও প্রতারক চক্রের মূলহোতা মহি উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবী জানান।

সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান কৃষি বান্দব সরকার কৃষকদের দূড়গোড়ায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিসিআইস সার ডিলার নিয়োগের পাশাপাশি ওয়ার্ড ভিত্তিক ও খুচরা সার বিক্রেতা নিয়োগ করেন। সেই আলোকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পান মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজ।

এ প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর মো.সাইদুজ্জমান কিছুদিন ব্যবসা পরিচালনার পর গত কয়েক বছর পূর্বে বস্তাপ্রতি কমিশনের ভিত্তিতে তা পরিচালনার দায়িত্ব দেন পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে। এর আগে মহিউদ্দিন চকরিয়া পৌরশহরের সার ডিলার সরুয়ার এন্ড সন্সের দোকানে চাকুরীকালিন ভেজাল সার বিক্রির দায়ে চাকরিচ্যুত হন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মহিউদ্দিন জামান এন্টারপ্রাইজের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শুরু হয় সার নিয়ে নানা অনিয়ম দূর্ণীতি। তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে ভেজাল ও নিন্মমানের সার এনে জামান এন্টারপ্রাইজের দোকানে গুদামজাত করা পর তা সরকারী সংস্থা বিএডিসির বস্তায় ঢুকিয়ে প্যাকেটজাত করার পর এসব সার হারবাংসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। এভাবে তিনি গত কয়েক বছরে কৃষকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। ফলে এসব সার জমিতে প্রয়োগ করে একদিকে দরিদ্র কৃষকরা যেমন প্রতারিত হচ্ছেন তেমনি সরকারী সংস্থা বিএডিসির সারের গুনগত মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চকরিয়া উপজেলার কয়েকজন বিসিআইসি সার ডিলার বলেন, জামান এন্টারপ্রাইজের সত্বাধীকারি একজন বিসিআইসি নিযুক্ত সরকারী সার ডিলার হলেও কি করে তিনি একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে ভেজাল ও নিন্মমানের সার বিক্রি করেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি’র) মোড়ক লাগানো সারের বস্তায় নিন্ম মানের সার প্যাকেটজাত করে বিক্রি করায় সরকারী সংস্থা বিএডিসির সারের গুনগত মান নিয়েও এখন কৃষকদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সারা দেশের বিসিআইসি সার ডিলারদের পাশাপাশি সরকারী সংস্থা বিএডিসির ভামূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসিম হোসেন বলেন, হারবাং ইউনিয়নের জামান এন্টারপ্রাইজের সারের গুদাম থেকে নিন্মমানের সার জব্দ করার পর নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে এসব ভেজাল সার ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন মিটমাট হয়ে গেছে। তারপরও এ ব্যাপারে কোন কথা থাকলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা বলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, নিন্মমানের সার উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সার ডিলারকে এ ব্যাপারে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশের ব্যাপারে সন্তোসজনক কোন জবাব দিতে না পারলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •