‘জাগো তারুণ্য, রুখো জঙ্গিবাদ’ যথার্থ অনুপ্রেরণামূলক

নিজস্ব প্রতিনিধি:

‘জাগো তারুণ্য রুখো জঙ্গিবাদ’ শিরোনামে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের নিয়মিত জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমের এবারের সেমিনারটি আয়োজন করা হয়েছিল রাজধানী মিরপুরের হযরত শাহ্ আলী মহিলা কলেজে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে প্রায় দুই বছর ধরে সেমিনার করে আসছে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন।

এবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী অভিনেতা সাইমন সাদিক। জঙ্গিবাদ নিয়ে ‘জান্নাত’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি পুরস্কার পান।

অনুষ্ঠানে মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এই নায়ক বলেন, জান্নাত নামে যে সিনেমার জন্য আমি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি, সেখানে আমি একজন জঙ্গির চরিত্রে অভিনয় করেছি। সিনেমাটিতে কাজ করতে গিয়ে আমার অনেক কিছু শেখা হয়েছে। আর সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের জঙ্গিবাদবিরোধী এই সেমিনারে অংশগ্রহন করতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি।

সারাবিশ্বে জঙ্গিবাদ একটি আতঙ্কের নাম। ধর্মের নামে তরুণ-তরুণীদের আকৃষ্ট করে নিরীহ মানুষ হত্যার এক ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে আছে কতিপয় মানুষ। নানা প্রলোভনে তরুণদের তাদের দলে ভেড়ান তারা। আমার ছাত্রজীবনে এরকম এক প্রলোভনের শিকার হয়েছিলাম আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধু। আমাদের নানা ক্রিকেট খেলার সামগ্রী ও নানা রকম খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দলে ভেড়াতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। কারণ আমরা সচেতন ছিলাম।

এখন অনেক মেয়ে বা নারী জঙ্গি রয়েছে। মেয়েদের আকৃষ্ট করা তুলনামূলকভাবে সহজ। সুন্দর সুন্দর গিফট্ পেয়ে মেয়েরা সহজেই পটে যায়। তবে সব মেয়েরা নয়। লেটেষ্ট একটি আইফোন দিয়ে হয়তো আপনাকে নিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে। তখন হয়তো আপনি কিছুই টের পেলেন না। কিন্তু যখন বুঝতে পারলেন তখন আর কিছুই করার থাকে না। একটি আইফোন হয়তো বিষফোড়ার মত যন্ত্রনা দিতে থাকবে বাকি জীবন। তাই সতর্ক থাকতে হবে, কোন রকম প্রলোভনে আকৃষ্ট হবার আগে চিন্তা করতে হবে, পরিবারের সাথে আলোচনা করতে হবে, শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা, ১৭ আগষ্ট ২০০৫ এ ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা, ১৮ জুলাই ২০১৬ তে হলি আর্টিজান হামলা। এই হামলাগুলো কারা করছে? তরুণদেরই ব্যবহার করা হচ্ছে এই সব হামলায়। তাই ভুল পথ থেকে সরে আসতে হবে তরুণদের। পাশাপাশি সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর কানতারা খান। শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে, যারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে জঙ্গিবাদ উস্কে দিতে। ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং অধিকার। সেই বিশ্বাস ও অনুভূতির জায়গাটিতে তারা আঘাত করছে ক্ষমতা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের লোভে। যার সঙ্গে ধর্মের আদৌ কোন সম্পর্ক নেই।

সবচেয়ে শক্তিশালী, তরুনরাই। এই তরুনদের হাত ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, গণ অভ্যূথান, মুক্তিযুদ্ধ এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে সে সময়ের তরুনদের হাত ধরে। শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশে^ যত বড় বড় অর্জন রয়েছে তার পেছনে তরুনদের অবদান রয়েছে। তাই সুচিন্তা বিশ্বাস করে আমাদের এই শ্লোগান-‘জাগো তারুণ্য, রুখো জঙ্গিবাদ’ যথার্থ অনুপ্রেরণামূলক।

পরিশেষে, হযরত শাহ্ আলী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ময়েজ উদ্দিন বলেন, ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং অধিকার। সেই বিশ্বাস ও অনুভূতির জায়গাটিতে তারা আঘাত করছে ক্ষমতা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের লোভে। যার সঙ্গে ধর্মের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। জঙ্গিবাদের ফলে ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে। ইসলামে বলা হয়েছে, সেই প্রকৃত মুসলমান যার কাছে অন্য ধর্মের মানুষের জান, মাল নিরাপদ থাকে।

সুচিন্তা’র গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে রবিউল ইসলাম রবি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মে জঙ্গিবাদ সমর্থন-অসমর্থন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জব্বার হোসেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •