শাহীন মাহমুদ রাসেলঃ

সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের ওলিগলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে থাকা থানার চিহ্নিত দালাল রাসেল। মূলত সে দাগি অপরাধী। পুলিশের সোর্স পরিচয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে সে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ পিএমখালীর সাধারন মানুষ এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।

দিন দিন কক্সবাজার সদর থানায় দালালদের উৎপাত বেড়েই চলেছে। অসহায় মানুষদের নির্মম অত্যাচারের মাত্রা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। দালালদের দিয়ে থানায় মামলার তদবির না করালে বাদী বিবাদী উভয় পক্ষকে মামলায় জড়ানোর হুমকিও দিয়ে বেড়াচ্ছে দালালরা।

সদর থানার উল্লেখযোগ্য দালাল হিসেবে পরিচিত পিএমখালীর মোহসিনিয়া পাড়ার মৃত ঠান্ডা মিয়ার ছেলে রাসেল প্রকাশ (গুলগুল্ল্যা)। যিনি নিজেকে ওসি’র একান্ত কাছের লোক পরিচয় দিয়ে নিরীহ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে আহরহ। এ নিয়ে উপজেলার সকল মানুষের মনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

প্রতিমাসের এলাকার আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে দালাল রাসেলকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। এত কিছুর পরও দালাল রাসেল থানায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

দালালদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিরীহ কিছু পরিবার অনেক ঝামেলা সত্ত্বেও বর্তমানে থানায় যেতে রাজি নন। আবার অনেকে দালালের কাছে জিম্মি হয়ে হারিয়েছেন সর্বস্ব। এক শ্রেণীর অসাধু কিছু পুলিশ অফিসারের কারণে সাধারণ মানুষ থানা থেকে বিমুখ। দালাল ও কিছু অসাধু পুলিশ অফিসারদের কারণে মামলা করে বাদী বিবাদী আপস নিষ্পত্তি হলেও মামলা থেকে রেহায় পাচ্ছে না। এই রাসেল টাকার বিনিময়ে দারোগাদের দিয়ে কিছু লোককে মামলায় জড়ানো আবার অনেককে মামলার চার্জশীট থেকে বাদ দেয়ার ব্যবস্থা করেন এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীরা জানায়, রাসেল বিভিন্ন সময় এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবী করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকাশ্যে বলে বেড়ান ইয়াবার মামলায় ঢুকিয়ে দেবো। থানার কতিপয় পুলিশ সদস্যের সাথে আঁতাত করে কিছু নিরীহ লোককে আসামি করার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করেন। এসব কর্মকান্ডে সদর থানায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাসেল সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই সদর থানার গেইটে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। থানায় আগত সকল লোকদের সাথে সে দেখা করে বলে কি কারনে আসছেন আমাকে বলেন, আমি আ.লীগের নেতা এবং আমি ওসি সাহেবের লোক, আপনার কোন মামলা করাতে হলে আমি ওসি সাহেব কে বলে মামলা করিয়ে দিব। এইভাবে লোকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধী গ্রেফতারে পুলিশ মাঝেমধ্যে তাদের সহযোগিতা নেয়। আর এ সুযোগে রাসেলের মতো সোর্সের অপরাধ ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। আর পুলিশের সঙ্গে সখ্য থাকার সুযোগে এসব সোর্স অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ এমন কোনো অপরাধ নেই, যা সোর্সরা নিয়ন্ত্রণ করছে না। আবার কখনও কখনও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়েও এরা নিরপরাধ মানুষের অর্থকড়ি হাতিয়ে নেয়। পিএমখালীর পাড়া-মহল্লায় এখন আতঙ্কের নাম পুলিশের সোর্স ও থানার দালাল।

অভিযোগ রয়েছে, সোর্সদের ভুয়া তথ্যে পুলিশ সদস্যদেরও অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। সোর্সরা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদাবাজি করে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্যান্য অপরাধকাণ্ডেও তারা অপ্রতিরোধ্য। আবার মামলার আসামি কিংবা বাদীর পক্ষ নিয়ে প্রতিপক্ষকে হুমকি-ধমকি দেয়। বিভিন্ন থানায় এসআই পদমর্যাদার পুলিশের সঙ্গে এ সোর্সদের যোগাযোগ বেশি। এদের সহযোগিতা নিয়েই তারা বিভিন্ন মামলার তদন্তে যান।

পিএমখালীর মোহসিনিয়া এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, সোর্সরা এলাকায় পুলিশের চেয়েও বেশি ক্ষমতার দাপট দেখায়। এরা মানুষের সঙ্গে যা ইচ্ছা তাই ব্যবহার করে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে রাসেলের মুঠোফোনে (০১৮১১…১৬৬) কল করলে বন্ধ পাওয়া যায়।

সদর থানার ওসি (তদন্ত) খাইরুজ্জামান বলেন, ব্যাক্তিগতভাবে তাকে আমি চিনিনা। পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।

তিনি আরোও বলেন, আমাদের দরজা সবার জন্য খোলা, কোন দালালের প্রয়োজন নেই। যারা থানার সামনে ঘুরাঘুরি করে তাদের সব ধরনের অপরাধ-অপকর্মের ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর ভূমিকা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোথাও পুলিশের নাম ব্যবহার করে হয়রানি করেছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এইসব সোর্সদেরকে ভয় পায় সন্ত্রাসীরাও, পুলিশের সোর্সদের এতটাই দাপট যে তাদেরকে রীতিমতো ভয় পায় দাগি সন্ত্রাসীরাও। সোর্সদের তারা রীতিমতো সমীহ করে চলে। তাদের ধারণা উল্টাপাল্টা করলে যেকোনো সময় তাদেরকে ধরিয়ে দিতে পারে সোর্সরা। সন্ত্রাসী ও পুলিশের সঙ্গে সখ্যের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের নিয়ে থাকেন আতঙ্কে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •