‘সূখের স্বপ্নে দুঃখের শেষ’

– ইমরান বিন আলী

রাত ২টা বাজে। আজ পূর্নিমা রাত। ঘুম থেকে ধড়ফড় করে উঠল দৃষা। দেখল ওর চোখ ভর্তি পানি। আর এক ফোটা পানি ওর গাল দিয়ে গড়ে পড়ছে।ওর বুঝতে আর বাকি রইল না যে আজও ফাহাদ কে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছে। তারপর ও ঘুমানোর চেষ্টা করল।কিন্তু ওর আর ঘুম ধরলো না।

তখন দৃষা জানালা খুলে চাঁদের দিকে তাকাল।আর ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখল ২.১৫ বাজছে।ওর ফাহাদ এর কথা মনে হল। মনে হল কত না রাত এইভাবে ফাহাদ এর সাথে কথা বলে কাটিয়েছে।মনে হল ফাহাদ এর ছোট ছোট সেই সব কথা।

দৃষা ভাব্তে লাগল ফাহাদ এখনও কি রাত জাগে।দৃষা মনে মনে বলল এখন মনে হয় ফাহাদ ওর GF এর সাথে ফোনে এ /messenger এ কথা বলছে।দৃষা ভাবতে লাগল ফাহাদ এর সাথে তার পরিচয় এর কথা। আজব একটা দিন ছিল। না দৃষা ফাহাদ কে চিনত্ কখনও।কিভাবে যেন হঠাত করেই কাকতালীয় ভাবে পরিচয় হল।কিভাবে যেন দৃষা ফাহাদ এর বন্ধু হয়ে গেল।ফাহাদ এর সাথে সারাক্ষন সব সময় কথা বলত।

একবার ফাহাদ এর ফোন নষ্ট হয়ে যায়।ফাহাদ তখন দৃষা সাথে কথা বলার জন্য ওর বন্ধুর ফোন নিয়েছিল।তার পর কি, ফাহাদ যখন কষ্টে ছিল দৃষা ফাহাদ এর পাশে ছিল ।কখনই দৃষা ফাহাদ কে একা রাখে নি।কারণ ফাহাদ কে যে সে খুব ভালবাসে। ফাহাদ বিষয় টা জানত।আর একদিন ফাহাদ নিজেই দৃষা কে বলল যে ফাহাদ তাকে খুব ভালবাসে।সে দিন থেকে দৃষা আর ফাহাদ এর ভালবাসার যাত্রা শুরু।কিন্তু এত সুখ কি দৃষা’র ভাগ্যে থাকে।দৃষা এর মনে পড়ল ফাহাদ এর জন্ম দিন টার কথা।কত শত ঝামেলা পার করে দৃষা ফাহাদ এর জন্যে গিফট বানিয়েছিল নিজের হাত এ। দৃষা ভাবল ফাহাদ এর GFও কি ফাহাদ কে এমন গিফট দেয়?।

দৃষার মনে হল সেই দিন টার কথা,ফাহাদ আর সাথে প্রথম কোথাও বেড়াতে যাওয়ার দিন তার কথা।সেই দিন দৃষা কি না রাগ করেছিল ফাহাদ এর ওপর। ফাহাদ এর সাথে অনেক দিন ধরে বেড়াতে যাওয়ার প্লান করেছিল, আর সকালে ফাহাদ বলে যে আজ তার বন্ধুরা হটাত্‍ করে বেড়াতে যেতে ঠিক করছে আর ওর যেতেই হবে। আজ যাওয়া হবে না। শুনে দৃষা কি না রাগ করল। কিন্তু পরে ফাহাদ ওকে নিয়ে গিয়েছিল বেড়াতে।সেই দিন প্রথম দৃষা ফাহাদ এর ঘাড়ে মাথা রেখেছিল।দৃষা কত না স্বপ্ন দেখেছিল,ফাহাদ কে নিয়ে।ওদের ছোট্ট একটা সংসার হবে,সেখানে তাদের ভালবাসাই সংসার টা ভরে যাবে।

জীবনের সব সমস্যা সব ঝামেলা সে সহ্য করবে শেষ করবে, ফাহাদ এর হাত টা ধরে।ফাহাদ এর হাত টা ধরে সে তার সারা জীবন চলবা।ফাহাদ এর ভালবাসার জন্য সে সব সহ্য করবে।সারাজীবন ফাহাদ এর পাশে থাকবে।দৃষা ভাবল যখনি ফাহাদ এর দৃষা দরকার ছিল দৃষা ফাহাদ এর পাশে ছিল।সে আজও ফাহাদ এর পাশে থাকতে চায়।কিন্তু আজ যে ফাহাদ নিজের পাশে দৃষা কে রাখ্তে চায় না।দৃষা ভাবল সে ফাহাদ এর কাছে এমন কি বা চেয়ে ছিল। শুধু চেয়ে ছিল যে ফাহাদ এই অবুঝ দৃষা কে সব্সময়ই যেন বুঝাক্,এই অবুঝ টার পাশে থাক্,এই পাগলী দৃষা টা কে যেন ভালবাসে,দৃষা টা কে যেন সামলায়্,হ্যাঁ দৃষা তো পাগল কিন্তু শুধু ফাহাদ এর জন্যে যে।

দৃষা যে সম্পূর্ন ভাবে ফাহাদ এর উপর নির্ভর ছিল।দৃষা শুধুই যে চাইত ফাহাদ যেন দৃষার ভুল হলে বা না বুঝলে তা শুধরায় দেয় যেন বুঝায় দেয়।কিন্তু এটা কি দৃষা অনেক বেশি চাওয়া ছিল।দৃষা ভুল করলে বা না বুঝলে তা শুধরে না দিয়ে ফাহাদ দৃষা কে যে সারাজীবন এর জন্য শাস্তি দিয়ে গেল। ফাহাদ এর বা দোষ কি।এটা মনে হয় দৃষারি প্রাপ্য ছিল।এটাই দৃষা ভাগ্যে ছিল।দৃষা মনে মনে বলল আচ্ছা এখনও কি ফাহাদ এর রাগ আগের মত আছে?ফাহাদ এর GF টা কি ফাহাদ এর রাগ সামলাতে পারে? আচ্ছা ফাহাদ এর Gf টা কেমন হইছে? নিশ্চয় দৃষা থেকে সম্পূর্ন আলাদা। একদম perfect যেমন টা ফাহাদ চায়্।ফাহাদ এর Gf মনে হয় খুব lucky কারন ফাহাদ তাকে মনে হয় খুব ভালবাসে।

আচ্ছা ফাহাদ কি ভাল আছে?।দৃষা চায় না যে ফাহাদ একটুও কষ্ট পাক।তাই তো সে কোন দিন ফাহাদ কে কষ্ট দেয় নি।অর আজ কেও ফাহাদ কে যে কষ্ট দিবে তাকে সারবে না দৃষা।আজ অনেক অনেক দিন হল ফাহাদ দৃষা কে ছেড়ে চলে গেছে।তাও আজও ফাহাদ এর সব স্মৃতিগুলা দৃষা পরিস্কার মনে আছে।দৃষা ফাহাদ এর সাথে আর যোগাযোগ’ও করে নি কারন ফাহাদ তা চায় না।দৃষা জানে যে ফাহাদ আর ফিরবে না।তাও দৃষা আজও ফাহাদ কে ভালবাসে।কারন দৃষা জানে যে পৃথিবীতে কিছু মানুষ জন্মে যাদের ভাগ্যে ভালবাসা থাকে না।যাদের ভালবাসা যায় না।যারা শুধু ভালবাসতে জানে।দিতে জানে।পেতে জানে না।আর দৃষা তাদেরই এক জন্।

এইসব কথা আর ফাহাদ এর সেই ছোট ছোট কথা ভাবতে ভাবতে দৃষা নিজেকে আবিষ্কার করল চোখ ভর্তি অশ্রু তে।ততক্ষনে পূর্নিমার চাঁদ টা আরও উজ্জ্বল হয়ে গেছিল।দৃষা চাঁদটার দিকে তাকিয়ে, ফাহাদ এর উদ্দেশ্যে চাঁদ টা কে দৃষা বলল ‘ তুমি যার সাথেই থাক খুব ভাল থেকো,তোমার খুশিতেই আমি খুশি,কিন্তু কেন জানি আজও আমি তোমায়কেই ভালবাসি।

সময় বদলেছে আমি বদলেছি সবার জন্যে কিন্তু আসলে যে আমি সেখানেই আছি।আজও তোমার আছি, তোমাকেই খুব ভালবাসি।তোমার পথ চেয়ে বসে আছি”।নিজের অজান্তেই দৃষা দীর্ঘশ্বাস ফেলল,তার চোখ হতে কয়েক ফোটা অশ্রু গাল দিয়ে গড়িয়ে পড়ল,আর চাঁদটার দিকে তাকিয়ে বলল..”

I LOVE YOU,

I NEED YOU,

PLEASE COME BACK IN MY LIFE,

I JUST LOVE YOU”

(সত্য কাহিনী অবলম্বনে)

সর্বশেষ সংবাদ

চিরিঙ্গা বাশঘাটা ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বিশাল সীরাতুন্নবী (সা:) মাহফিল অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-বিজ্ঞান নির্ভর সুদক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে : এমপি জাফর আলম

চট্টগ্রামস্থ চকরিয়া সমিতির নির্বাচনে ৩য় বার সভাপতি লায়ন কমর উদ্দিন

কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর ৪৬২তম সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত

টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন্দুকযুদ্ধে হতাহত ৩

শুভ জন্মদিন সাউদ

জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শীতার্ত শিশুদের মাঝে স্বপ্নজালের শীতবস্ত্র বিতরণ

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে : সাংসদ নদভী

গর্জনিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ফুটবল টুর্ণামেন্ট

টেকনাফ বাহারছাড়ায় মহিলা মেম্বারের মাথা ফেটে দিলো কমিউনিটি পুলিশ সভাপতি

মানবপাচার মামলায় জামিন পাওয়া শিশুটি আলাউদ্দিন নয়

শহরের উত্তর নুনিয়ারছড়ায় ১৪৪ ধারা অমান্য করে অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণ

রামুর কচ্ছপিয়ায় ডাকাত গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের উদ্বোধন

‘আগামী শুস্ক মৌসুমে খনন হবে কানারাজার গুহা’

কক্সবাজার বায়তুশ শরফে ইছালে ছওয়াব মাহফিল শুরু রোববার

প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করলেন সাবেক এমপি এথিন রাখাইন

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি

সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল ও কানিজ ফাতেমা মোস্তাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা

শাপলাপুর ইউনিয়নের উন্নয়নের স্বার্থে নৌকা মার্কায় ভোটদিন- এমপি আশেক