মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

সমুদ্র সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টের উত্তর পার্শ্বে ঝাউবাগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭-৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৩ দিন ব্যাপী কক্সবাজার জেলা ইজতেমা। শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় তাবলীগ জামায়াতের এ ইজতেমা। ইজতেমায় অংশ নেয়া মহেশখালী উপজেলার সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমা শেষে বাড়িতে যাওয়ার জন্য একইদিন সকাল ১০ টার দিকে শহরের নুনিয়াছটায় আইডাব্লিউটিএ ঘাটে গিয়ে মহেশখালী যাওয়ার জন্য কোন নৌযান না পেয়ে চরম সংকটে পড়ে যায়। কারণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল থেকে রক্ষার জন্য ইতিমধ্যে সমুদ্র পথে সব ধরনের নৌ চলাচল সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। তাই চিন্তিত হয়ে পড়ে, সহস্রাধিক মহেশখালী উপজেলার ধর্মপ্রাণ মানুষ। ওপারে মহেশখালীতে আবার তাদের স্বজনেরাও চিন্তামগ্ন হয়ে পড়ে। এখন কিহবে ভেবে কাঁদাকাটি শুরু করে দেন আটকে পড়া অনেক মুসল্লী। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তারা।

এ সংকটের খবর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের কাছে পৌঁছালে বিষয়টি নিয়ে তিনিও বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ডিসি মোঃ কামাল হোসেন তাৎক্ষণিক রেসকিউ পূর্ণ নৌযানের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগে নেন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় তিনি নৌযানের ব্যবস্থা করে সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে মোট ১৯ ট্রিপে আটকে পড়া মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এক হাজারের বেশী মানুষকে তাদের নিজ নিজ বাড়িঘরে পৌঁছার ব্যবস্থা করে দেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এমন মহতি ও তড়িৎ উদ্যোগের কারণে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে এই দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সহস্রাধিক মানুষ তাদের বাড়িঘরে স্বজনদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে। চতুর্দিকে বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত উপকূলীয় এলাকা মহেশখালীর ধর্মপ্রাণ মানুষগুলো জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের আন্তরিকতার কারণে বাড়িঘরে নিরাপদে পৌঁছাতে পারায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন সিবিএন-কে বলেন, এটা আটকে পড়া মুসল্লীদের প্রতি কোন বদান্যতা নয়। এ দুর্যোগে নৌযানের অভাবে এপারে আটকে পড়া মহেশখালীর মানুষ গুলো তাদের নিজ নিজ বাড়িঘরে পৌঁছে দেওয়া জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন শুধু সে দায়িত্ব পালন করেছে। ইজতেমাতে এসে আটকে পড়া মানুষগুলো যদি এ ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাক্কালে তাদের বাড়িঘরে পৌঁছাতে না পারলে, সেটা জেলা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হতো বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। তাঁর মতে আটকে পড়া ধর্মপ্রাণ মানুষগুলো জেলা প্রশাসনের এই যাতায়াত সেবা পাওয়া তাঁদের ন্যায্য ও নাগরিক অধিকার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •