মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

পায়রা, মংলা ও সুন্দরবনের তুলনায় কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানার আশংকা কমে আসছে। পক্ষান্তরে পায়রা, মংলা ও সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানার আশংকা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলছে। শনিবার ৯ নভেম্বর বিকেল ৩ টার আবহাওয়ার ২৫ নম্বর বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগরে আরো ক্ষিপ্র হয়ে উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অর্থাৎ কক্সবাজারের বিপরীতমূখী সুন্দরবন, পায়রা ও খুলনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর ৭৪ কিঃমিঃ এর মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ১৩৫ কিঃমিঃ থেকে ১৫৫ কিঃমিঃ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিষয়টি কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের প্রধান ও সহকারী আবহাওয়াবিদ মোঃ আবদুর রহমান রহমান আবহাওয়া বুলেটিনের বরাত দিয়ে সিবিএন-কে জানিয়েছেন।

এই আবহাওয়াবিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো-কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ থেকে আশংকামুক্ত কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সিবিএন-কে বলেন, ঘূর্ণিঝড় সাগরে থাকাবস্থায় কক্সবাজারকে কখনো পুরোপুরি আশংকা মুক্ত বলা যাবেনা। তবে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল পায়রা, মংলা ও সুন্দরবনের তুলনায় কক্সবাজারে আঘাত হানার আশংকা ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। ঘূর্ণিঝড় ঝুঁকি হ্রাস পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আর গতি পরিবর্তন করার আশংকা আছে কিনা, জানতে চাইলে সহকারী আবহাওয়াবিদ মোঃ আবদুর রহমান বলেন-গতি পরিবর্তন করার সম্ভাবনা খুব একটা নেই, তবে সাগরে ঘূর্ণিঝড় থাকাবস্থায় সেটা নিশ্চিত করে বলা যাবেনা। এজন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত রাখতে বলেছেন। তিনি আরো জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে আঘাত না হানলেও বুলবুল এর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকবে, কক্সবাজারে আগামী ২ দিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হবে এবং কোথাও কোথাও হালকা দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের প্রধান মোঃ আবদুর রহমান আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে, খুলনা, মংলা, সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন এলকায় এটি শনিবার ৯ নভেম্বর দিবাগত শেষ রাতে অথবা রোববার ১০ নভেম্বর ভোরে আঘাত হানতে পারে।

এদিকে, কক্সবাজার বিমানবন্দরে শনিবার ৯ নভেম্বর সারাদিন বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। বিমানের পূর্ব নির্ধারিত কোন সিডিউল পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে, বিকেল ৩ টা হতে চট্টগ্রাম হজরত শাহ আমানত (রহ.) বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান উঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সিভিল এভিয়েশন সুত্রে জানা গেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •