নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ বলেছেন, মানসম্মত চিংড়ি উৎপাদনের জন্য এসপিএফ পোনার কোন বিকল্প নেই। তাই পর্যায়ক্রমে সবাইকে এসপিএফ পোনা উৎপাদনে এগিয়ে আসতে হবে। প্রজনন মৌসূমে সাগরে ৬৫ দিন মৎস্য আহরন বন্ধ থাকায় মাছের উৎপাদন বেড়েছে এবং এতে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছ আবারো পাওয়া যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৮ নভেম্বর কক্সবাজারের অভিজাত এক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত “মানসম্মত চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যে খামারের জন্য উন্নতমানের পোনা নিশ্চিতকরন” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রিম্প এন্ড ফিস ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হক।
মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শ্রিম্প এন্ড ফিস ফাউন্ডেশন ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। নিষিদ্ধকালীন সময়ে মানসম্মত চিংড়ি পোনা উৎপাদন নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে দুপুর ১ টায় শুরু হওয়া কর্মশালায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বক্তব্য উপস্হাপন করেন চিংড়ি হ্যাচারী বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন এবং মৎস্য আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিএসএফএফ কর্মকর্তা এম আই গোলদার।
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে মানসম্মত চিংড়ি উৎপাদন করতে হবে ও এজন্য “স্পেসিফিক প্যাথোজেন্ট ফ্রি” (এসপিএফ) পোনা উৎপাদনের উপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, সাগরে ৬৫ দিন মৎস্য আহরন নিষিদ্ধকালীন সময়ে এসপিএফ পোনার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
বিএসএফএফ’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ পরিচালক মোঃ কুদ্দুছ আকন্দ, উপ পরিচালক (চিংড়ি) শামীম হায়দার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আশরাফ হেসাইন মাসুদ, হ্যাচারী কনসালটেন্ট শামসুল হাদী খান, মঈন উদ্দীন আহমদ, অং ক্য ম্রা ও আনিসুর রহমান প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের ২য় পর্যায়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গত বছর সমূহে বাংলাদেশে চিংড়ির উৎপাদন ও রপ্তানী, জেলাভিত্তিক চিংড়ি চাষ এলাকা, এসপিএফ পোনা দিয়ে চাষ করার সুফল ও উৎপাদনের সুবিধা, কক্সবাজার অঞ্চলের বাগদা চিংড়ি হ্যাচারী সমূহের বিদ্যমান সুবিধার বিবরণ ও বিশ্বে বাগদা চিংড়ির এসপিএফ ব্রুড / পিপিএল উৎপাদন ও বিপননকারী সংস্হা সম্পর্কে প্রানবন্ত আলোচনা করা হয়।
মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাগন, উৎপাদনমূখী বাগদা চিংড়ি হ্যাচারী মালিক, কনসালটেন্ট, টেকনিশিয়ান, চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরন কারখানা মালিক ও রপ্তানীকারকরা উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহন করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •