মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ উত্তাল হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। তাঁদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি কাল শনিবার মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের ওপর আঘাত হানতে পারে। তবে উপকূলে আঘাত হানার আগে বুলবুল কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

জেলা আবহাওয়া দপ্তর থেকে সিবিএন-কে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ জন্য দেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারকে শুক্রবার ভোর ৬ টা থেকে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে সাগরে চলাচল না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় শুক্রবার ৮ নভেম্বর বিকেল ৪ টায় জেলা প্রশাসনের শহীদ এটিএম জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতি সভা ডেকেছে। বিষয়টি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে, উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হবে। জরুরীভিত্তিতে আরো ত্রান সামগ্রী পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। জেলার ৮ টি উপজেলা প্রশাসনকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে পৃথক পৃথক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন আরো জানান, প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হবে। ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের দ্রুত কর্মস্থলে ফেরার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে।

ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান সম্পর্কে কক্সবাজার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি আরেকটু ডানদিকে ঘুরতে পারে। আবহাওয়াবিদদের যে পর্যবেক্ষণ, তাতে মনে হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের ওপরে আঘাত হানার আশংকা বেশী। আগামী রোববার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানতে পারে।

এসময় বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে উপকূলে চলে আসার আগে ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বাতাসের গতিবেগ উপকূলে আঘাত হানার সময় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে। ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার। তিনি বলেন, ‘বুলবুল’–এর কারণে দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। শুক্রবার বিকেলের পর উপকূলীয় অঞ্চলে হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হবে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়টি বয়ে যাওয়ার সময় বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়বে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •