বলরাম দাশ অনুপম:

টানা ২২ দিনের প্রজনন মৌসুম শেষে এখন সাগরে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন কক্সবাজারের জেলেরা। গত ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় পর পরেই বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে মাছ শিকারে নেমে পড়েন এখানকার জেলেরা। আর জালে ধরা পড়া ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নিয়ে কক্সবাজার জেলার একমাত্র মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র শহরের নুনিয়ারছড়ার ফিশারী ঘাটের মোকামে ফিরছেন জেলেরা। এতে করে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে মৎস্য আড়তদার, ফিশিং ট্রলার মালিক থেকে শুরু করে মাঝি ও জেলেদের মুখে। শনিবার সকালে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে (ফিশারী ঘাট) গিয়ে দেখা গেছে-নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যে ফিশিং ট্রলারগুলো সাগরে ফের মাছ শিকারে গিয়েছিল এদের বেশীর ভাগ ফিশিং ট্রলার ফিরে এসেছে ট্রলার ভর্তি মাছ নিয়ে। আর আড়তদাররা সেই ইলিশগুলো বিভিন্ন জায়গায় পাঠানোর জন্য প্রক্রিয়াজাত করছেন।

পাইকাররা মাছ কিনে বরফ দিয়ে সাজিয়ে বাতাস নিরোধক কার্টনে ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বলতে গেলে বর্তমানে ইলিশে সয়লাব মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ছোট-বড় সব মোকাম। শুধু আড়তদার, ট্রলার মালিক কিংবা মাঝি-মাল্লারা নয় দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার পর আবারো তরতাজা ইলিশ মাছ কিনতে সাধারণ ক্রেতারা ভীড় করেছেন ফিশারী ঘাটে। সবমিলিয়ে আড়তদার, জেলে ও ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখরিত প্রতিটি ফিশারী ঘাটের সকল মোকাম।

শনিবার সকালে ফিশারী ঘাটে কথা হয় মৎস্য শিকার শেষে ফিরে আসা নাজিম উদ্দিন নামের এক মাঝির সাথে। তিনি বলেন-বর্তমানে অদূর সাগরে যেতে হচ্ছে না মাছ শিকারের জন্য। অল্প গেলেই হাতের নাগালে চলে আসছে স্বাদের ইলিশ। আর পর্যাপ্ত মাছ পেয়েই যেন যত সন্তুষ্ট তাদের। তিনি জানান-ছোট ছোট ইলিশের সঙ্গে বড় আকারের ডিমওয়ালা ইলিশও ধরা পড়ছে সাগরে।

হাবিব উল্লাহ নামের এক জেলে বলেন, ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় কয়েকদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটা কষ্ট করতে হয়েছে। অবশেষে নিষেধাজ্ঞা শেষে জালে মাছ পড়তে শুরু করছে। এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। ফিশারী ঘাটে মাছ কিনতে আসা ঘোনারপাড়ার রতন দাশ জানান-যে ট্রলারগুলো আসছে সবগুলোই ইলিশে ভর্তি। দামও অনেকটা সস্তা।

কক্সবাজার হাঙ্গর মৎস্য ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুসহ কয়েক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, ইলিশ ধরতে না পারায় ২২ দিন ধরে মাছঘাটে ইলিশ ছিল না। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে তারা খুশি।

এদিকে সবার সহযোগিতায় ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম খালেকুজ্জামান। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরো বলেন, আগামী মার্চ-এপ্রিলে যে জাটকা অভিযান চলবে, এটাকে যদি সঠিকভাবে বজায় রাখতে পারি তাহলে ইলিশের উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •