নুরুল আমিন হেলালী :

কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ পুর্ব বোয়ালখালী ৫নং ওয়ার্ড়ের জলদাস পাড়ায় রাতে কাটছে বনবিভাগের উঁচু পাহাড় আর তাতে দিনে তৈরী করছে অবৈধ বসত ঘর। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী চক্র পাহাড় কেটে ধ্বংস করছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে। এতে করে হুমকিতে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। যেন দেখার কেউ নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, একটি প্রভাবশালী চক্রকে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসতঘর তৈরী করছে বর্ণিত এলাকার লেডু রাম দাসের পুত্র অর্জুন দাস, কালি দাস, গোবিন্দ দাস, মুকুন্ডু দাসের পুত্র শিশু পাল ও চরন দোলা। এলাকাবাসির মতে, সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ৪/৫টি ডেম্পার এসে এসকেভটর নিয়ে পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে যায় প্রভাবশালী পাহাড় কাটা চক্র। আর সকাল হলেই তাতে ঘর তৈরী করে অর্জুন দাস গং। বনবিভাগ হঠাৎ করে দায়সারা অভিযান পরিচালনা করলেও কিছুতেই থামছেনা পাহাড় কাটা।
জানা গেছে, কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ, ইসলামপুর, ও ঈদগাঁওতে প্রতি বছর শুকনো মৌসুম এলেই নির্বিচারে চলে পাহাড়কাটা। আর বর্ষা মৌসুমে ঘটে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা। একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিন ওই এলাকা থেকে ডেম্পার, ট্রলি এবং ঠেলাগাড়ি দিয়ে পরিবহন করছে পাহাড়কাটা মাটি। এভাবে পাহাড়কাটার কারণে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে পাহাড় ও বনাঞ্চলের আয়তন। একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রভাবশালীরা বনবিভাগের জমিতে বসবাসসহ নানা অজুহাতে চালাচ্ছে এই পাহাড় নিধনযজ্ঞ।

অনেক স্থানেই টিলার ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত করে বাড়িঘর তৈরি করা হচ্ছে। পাহাড় কেটে ঘর তৈরীর বিয়যে সংশ্লিষ্ট বনবিট কর্মকর্তা মোকলেসুর রহমান জানান, বনবিভাগের পাহাড় কেটে ঘর তৈরীর খবর পাওয়ার সাথে সাথে অভিযান চালিয়ে কিছু মালামাল জব্দ করেছি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে অভিযুক্ত অর্জুন দাস জানায়, পাহাড়ের উপরের গুলোও তাদের ঘর।সেখানে সংকুলান না হওয়ায় পাহাড় কেটে নিচে আলাদা ঘর করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালীদের নেতৃত্বেই চলে এই পাহাড়কাটা। তারা সংশ্নিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চালান এই অপরাধকর্ম। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে কেউই এই ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে চান না।

সচেতন মহল মনে করেন, যারা মাটির ঠিকা রাখে, তারাই প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে ট্রাক দিয়ে মাটি পরিবহন করছে। তাদের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় ট্রাক নিয়ে প্রবেশ করতে না দিলে অথবা ট্রাকগুলো আটকে মামলা দিলে পাহাড়কাটা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •