এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া:

চকরিয়া পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের কুম্বুরঘোনায়  আবু হানিফ মানিক (২৫) নামে যুবক হত্যার ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে চকরিয়া থানায় মামলা করেছেন নিহতের ভাই আবু ছিদ্দিক। থানা মামলা নং- ৩৯, জিআর ৪৮৭/১৯।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে দায়েরকৃত ওই মামলার প্রধান আসামী কাছিম আলী সিকদার পাড়ার মৃত বদিউল আলমের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন।

এ মামলায় আরো ৬-৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী দেখানো হয়েছে।

এজাহারনামী অন্যান্য আসামীরা হলো- একই এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন ও মো. সাগর, মৃত বদিউল আলমের ছেলে মাহামুদুল করিম ও রেজাউল করিম, মৃত নজু মিয়ার ছেলে নুরুল আমিন ও নুরুল কবির, মৃত ইসহাক আহামদের ছেলে আক্তার হোছন কালু এবং সাহারবিল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ নয়াপাড়া গ্রামের মৃত নুরুল কবিরের ছেলে মো. জুনাইদ।

অভিযুক্ত ১নং আসামী রিয়াজ উদ্দিন গংয়ের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে নিহতের বড় ভাই মো: ইব্রাহিম (৩৫)কে একই কায়দায় হত্যা করা হয়।

২০১৩ সালে নিহতের অপর ভাই মো: আবু তাহের (২৮)কে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। তৃতীয়বারের মতো হত্যাকাণ্ডের ঘটনার শিকার হলো মো: আবু হানিফ প্রকাশ মানিক।

এদিকে রবিবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মো. মতিউল ইসলাম, চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুর রহমান। এসময় তাঁরা নিহত আবু হানিফের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সাথে কথা বলে এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ বিচারের আশ্বাস দেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা আবু হানিফ মানিক হত্যাকান্ড নিয়ে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন দিনদুপুরে প্রকাশ্যে এ জঘন্য হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।

অপরদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিহত আবু হানিফ মানিকের ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ রবিবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে চকরিয়ায় নিজ বাড়িতে পৌঁছলে নিহতের স্ত্রী, স্বজন ও শোকাহত এলাকাবাসীর গগণ বিদারী কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠে। পরে বিকাল ৫টায় স্থাণীয় মাঠে নিহত আবু হানিফ মানিকের জানাযা শেষে তাকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযায় উপস্থিত হাজারো জনতা দূর্বৃত্তদের হামলায় নিহত মানিকের খুনীদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্ঠান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানান।

নিহত হানিফ ওই এলাকার মৃত নুরুল হোসেনের ছেলে।

নিহত আবু হানিফ মানিকের ভাই ও মামলার বাদী আবু ছিদ্দিক শনিবার রাতে থানায় দায়ের করা এজাহারে দাবী করেন, আমাদের বসতভিটার পুরাতন জমি রেলওয়ের জন্য সরকারীভাবে অধিগ্রহন করায় সম্প্রতি তা ভেঙ্গে ফেলা হয়। পরিবারের লোকজনের আবাস স্থলের জন্য গত শনিবার সকালে পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের কুম্বুরঘোনা এলাকায় আমার মামা মো. শফি আলম ও বশির আলমের ৪০ বছর ধরে ভোগ দখলীয় সম্পতিতে বাড়ি নির্মান করেন ছোটভাই মানিকসহ অন্যান্যরা। সকাল ১১টার দিকে একই এলাকার মৃত বদিউল আলমের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন, মাহামুদুল করিম, ও রেজাউল করিম, নজু মিয়ার ছেলে নুরুল কবির ও নুরুল আমিন গং ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের বাড়ি নির্মানের জমিতে অনুপ্রবেশ করিয়া আমার ভাইসহ অন্যান্যদের বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা দা, কিরিচ, লোহার রড়, হন্তি ও লাঠি নিয়ে নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় দূর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্র ও হন্তির আঘাতে আমার ভাই আবু তৈয়ব (২৮) ও আবু হানিফ মানিক (২৫) এবং ভাতিজা কায়সার হামিদ গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পরপরই প্রথমে তাদেরকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মারা যায় আবু হানিফ মানিক। গুরুতর আহত আবু তৈয়ব ও ভাতিজা কায়সার হামিদ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মামলার বাদী আবু ছিদ্দিক আরও বলেন, পরবর্তীতে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ আমার ভাই আবু হানিফ মানিকের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তার ময়না তদন্ত করা হয়। এসব কাজে ব্যস্ত থাকায় থানায় মামলা করতে বিলম্ব হয় বলেও জানান তিনি।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ কে এম শফিকুল আলম চৌধূরী বলেন, পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের কুম্বুরঘোনা এলাকায় জমির বিরোধ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আবু হানিফ মানিক নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় নিহতের ভাই আবু ছিদ্দিক বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক আরো ৬-৭ জনকে আসামী করা হয়। ওসি তদন্ত আরও বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত: গত শনিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের কাছিম আলী সিকদার পাড়ার কুম্বুরঘোনা এলাকায় বাড়ি নির্মানের সময় দিনপুপুরে দূর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় একই এলাকার মৃত নুরুল হোসাইনের ছেলে আবু হানিফ মানিক। এসময় দূর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে নিহতের ভাই আবু তৈয়ব ও ভাতিজা কায়সার হামিদকে। বর্তমানে তারা আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •