ইমাম খাইর, সিবিএন:
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দক্ষ ও সফল রাষ্ট্রনায়ক জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি আধুনিক বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনানায়ক থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েই তিনি বলেছিলেন, ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বাংলার মানুষ তাই তাকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে উপাধী দিয়েছে পল্লীবন্ধু।
তিনি একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক ও সেনাপ্রধান ছিলেন। প্রশাসক ও কবির স্বপ্ন একসঙ্গে একাকার হয়ে ছিল বলেই তিনি হতে পেরেছেন গতিশীল, আধুনিক ও মানবতাবাদী মনের মানুষ।
রবিবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে নবগঠিত ‘পল্লীবন্ধু পরিষদ’ কক্সবাজার জেলা শাখার অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব খোরশেদ আরা হক কথাগুলো বলেন।
পরিষদের কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক মাস্টার এমএ মনজুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ১৯৯০ সালে দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এরশাদ পদত্যাগ করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সফলতা পরিচয় রাখেন সবখানে। নিজের প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে চেয়েছেন নতুন বাংলাদেশ। তাই তিনি বৃটিশ আমলের ঘুনেধরা প্রশাসন ভেঙে দিয়ে সৃষ্টি করেন উপজেলা পদ্ধতি-জনগণের নির্বাচিত প্রশাসন ব্যবস্থা।
পল্লীবন্ধু পরিষদের আহবায়ক হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা বক্তব্যে মাস্টার এমএ মনজুর বলেন, যুগ-যুগান্তরের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিবর্তন ও প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণের জনক পল্লীবন্ধু এরশাদ। তিনি বাস্তবায়িত করেন যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, পল্লী উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, ভূমি সংস্কার, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের হাজার হাজার প্রকল্প। এর মধ্যে কৃষি ও শিল্প উন্নয়নমুলক প্রকল্পের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া সড়ক উন্নয়নসহ যোগাযোগের আধুনিকায়ন তো এরশাদকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। তাই দেশের প্রয়োজনে এরশাদের মতো নেতৃত্ব আরও বেশি দরকার।
অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান মুফিজ। তিনি শুরুতে পল্লীবন্ধু পরিষদের নতুন যাত্রাকে অভিনন্দন জানান।
এরপর বলেন, নৌকায় উঠেও রাশেদ খান মেননরা বেঈমানি করতে পারে, আমাদের নেতা এরশাদ আওয়ামী লীগের সাথে বেঈমানী করে নি। তাই বারবার এরশাদের সমর্থন নিয়েই আওয়ামী লীগ ক্ষমতার মসনদে বসেছে। দুঃখের বিষয়, সরকারের অংশীদার হওয়ার পরও অবমূল্যায়ন নিয়ে মরতে হয়েছে সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, আপনারা ক্ষমতার আগে জন্ডিস রোগির মতো ছিলেন। আজ ওঠের মতো সবল হয়েছেন। আপনাদের নেতারা সম্পদের পাহাড় গড়েছে। চারিদিকে লুটপাট চলছে। যে যা পায়, সব পকেটে ঢুকাচ্ছে।
বিশেষ টিম পাঠিয়ে কক্সবাজারের পরিস্থিতি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান জাপা নেতা মুফিজ।
তিনি বলেন, কক্সবাজার শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট খানখান। রোহিঙ্গাদের কারণে সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে গেছে। কক্সবাজারকে বাঁচান। বিমানবন্দের নামে কোন মানুষকে যেন উচ্ছেদ করা না হয়। পুনর্বাসনের জন্য নির্মিতব্য ৩৬০ স্কয়ারফিট ছোট্ট ঘরে কোন মানুষ বসবাস করতে পারেনা। আমাদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ দিন। কক্সবাজারকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
প্রশাসন ও নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কক্সবাজার পৌর এলাকায় মেরামতের নামে অপচয় বন্ধ করুন। সংস্কার নয়, ডিসির ঘোষণা মতে, মজবুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন চাই।
চলমান ছাত্র রাজনীতির সমালোচনা করে জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি লাশ পড়েছিল বলে পল্লীবন্ধু এরশাদ ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করেছিলেন। তিনি সবসময় ছাত্র রাজনীতির বিপক্ষে ছিলেন। আজ শিক্ষাঙ্গণে ছাত্রদের অপরাজনীতির কারণে আবরারের মতো মেধাবীরা লাশ হচ্ছে। ৩০ বছর পরে হলেও ছাত্র রাজনীতি বন্ধে এরশাদের সেই ফর্মুলা নিয়ে ভাবছে জনগণ।
পল্লীবন্ধু পরিষদের জেলা সদস্য সচিব এসএম মাহাবুব সিদ্দিকী ও জাতীয় ছাত্র সমাজের জেলা সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন -জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পল্লীবন্ধু পরিষদের যুগ্মআহবায়ক রুহুল আমিন সিকদার, মহেশখালী উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও পল্লীবন্ধু পরিষদের সদস্য আবুল বশর পারভেজ, পল্লীবন্ধু পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম, ওলামা পার্টির জেলা সভাপতি মাওলানা শফিউল্লাহ জিহাদী, জাতীয় ছাত্র সমাজের জেলা সভাপতি সুলতান মাহমুদ, পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সিরাজুল মোস্তফা বাঁশি, মুফিজুর রহমান, ওবায়দুর রহমান কায়সার, পৌরসভা ১ নম্বর ওয়ার্ড জাপা সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন বাবুল কুতুবী। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ জাকির হুসাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন পল্লীবন্ধু পরিষদের জেলা সদস্য সচিব এসএম মাহাবুব সিদ্দিকী।
উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর পল্লীবন্ধু পরিষদ কক্সবাজার জেলার আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন হয়েছে। দেশের কোন জেলা পর্যায়ে প্রথম ঘোষিত ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির প্রথম অভিষেক কক্সবাজারে সফলভাবে সম্পন্ন হলো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •