শাহেদ মিজান, সিবিএন:

জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশন সত্তে¡ও কক্সবাজার জেলাজুড়ে ৮০ টাকা নিচে কোথাও পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে না। উপরন্তু অধিকাংশই ৮০ টাকা উপরে বিক্রি করা হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত ৭০ এবং মিয়ানমার থেকে আমাদনি করা পেঁয়াজ কক্সবাজারে পৌঁছার পর বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজারে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে নির্দেশ দিয়েছিলো কক্সবাজারেরর জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। কক্সবাজার শহরসহ অন্যান্য উপজেলা ও এলাকায় গতকাল শুক্রবারও ৮০ টাকার উপরে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানী হয়েছে এবং হচ্ছে। এতদিন মিয়ানমারের পেঁয়াজগুলো চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করতে হলেও এখন কক্সবাজারে সরাসরি টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ সরবরাহ হবে। টেকনাফ থেকে সংগ্রহ করতে গেলে কক্সবাজারের ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ কিনতে পড়বে কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ টাকা। সে হিসেবে কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা মিয়ানমারের আমদানীকৃত পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারবে। তাই বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজারে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের মানতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেঁয়াজ আমদানি ও জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশ সত্বেও কক্সবাজার শহরস জেলার কোথাও ৫০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়নি। ৫০ দূরের কথা; ৭০ টাকাকে পাশ কাটিয়ে ৮০ টাকার উপরে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। গতকাল শুক্রবার কক্সবাজার শহরের কয়েকটি বাজার ও দোকান ঘুরে গেছে অধিকাংশতে ৮০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে। তবে বড়বাজারে পাইকারি দোকানগুলোতে ৭০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করেছে। বুধবার বড়বাজারে জেলা প্রশাসক অভিযান চালিয়ে প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি না করায় এক প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিলো। সে কারণে বড়বাজারে ৭০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য সব স্থানে ৮০ টাকা বিক্রি করা হয়েছে।

বেশি দামে বিক্রির দোহাই দিয়ে সব অধিকাংশ দোকানী ও পাইকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ৮০ নিচে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। ক্রেতারা জেলা প্রশাসনের নির্দেশের কথা বললেও তা আমলে নেয়নি কোথাও। বরং এই নিয়ে ক্রেতাদের বাড়াবাড়ি করেছে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা।

মহেশখালী থেকে স্থানীয় সাংবাদিক ফরিদুল আলম দেওয়ান জানান, মহেশখালীর সদরসহ সব এলাকায় ৮০ নিচে কোথাও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। স্থান ভেদে ৮০ থেকে ১১০ পর্যন্ত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেখানেও ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিহজ সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে বৃহস্পতিবার থেকে সরাসরি কক্সবাজার শহরে পেঁয়াজ সরবরাহ শুরু হয়েছে। ওইদিন রাতে তিনটি ট্রাকে করে শহরে ১৫ টন পেঁয়াজ পৌঁছায়। শুক্রবার সকালে বিভিন্ন দোকানে সেগুলো সরবরাহ হয়। এই পেঁয়াজগুলো সরবরাহ হলে জেলা প্রশাসনের নতুন নির্ধারিত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পারার কথা না।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব টেকনাফের স্থলবন্দর এবং এখানকার বাজার পরিদর্শন করেছেন। তাঁর (যুগ্ম সচিব) মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবো সারাদেশে পেঁয়াজের দাম যেন ৫০ টাকা নির্ধারণ করে। কারণ মিয়ানমার থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানী হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সংকট কাটিয়ে না উঠা পর্যন্ত ৭০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু অনেক অসাধু ব্যবসায়ী সেই সিদ্ধান্ত মানছে না। এখন মিয়ানমারের আমদানীকৃত পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি করার জন্য নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •