গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় মগনামা হাইস্কুল সড়কের উন্নয়ন নেই ৩৬ বছর। গ্রামীন অবকাঠামোর অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম মগনামা ইউনিয়নের হাইস্কুল সড়কটি বর্তমানে বেহাল দশায়। বিগত প্রায় তিন যুগ সময় থেকে সড়কটি উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে। চার চেয়ারম্যানের শাসনামলে ওই সড়কটির জন্য একটি টাকাও বরাদ্ধ দেয়নি। সড়কটির বর্তমানে ইট নেই। বিপুল অংশ ব্রিক সলিং বিলুপ্তি হওয়ায় বর্তমানে সড়কটি কাচা সড়কে রুপান্তর। যান চলাচল অনেক আগে থেকে থেমে গেছে। এমনকি লোকজন পায়ে হেটেও যাতায়ত করতে হিমশিম খাচ্ছে। মগনামা ইউনিয়নের খুবই পরিচিত হাইস্কুল সড়ক। প্রাচীনকাল থেকে মগনামায় যাতায়াতের জন্য হাইস্কুল সড়কটির সম্প্রাসরন হয়েছিল। উপকুলবর্তী অবিভক্ত মগনামা ইউনিয়নের জনগনের যাতায়াতের জন্য এর গুরুত্ব যুগ যুগ ধরে অপরিসীম।

কিন্তু কালের বিবর্তনে সড়কটির পতন দেখা দিয়েছে। উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মধ্যভাগে হাইস্কুল সড়কটির অবস্থান। মগনামা বাইন্যাঘোনা থেকে সড়কটি বহমান। ব্যাঙখোয়াল ঘোনা হয়ে মুহুরীপাড়ার উপর দিয়ে সড়কটি মগনামা হাইস্কুলে গিয়ে শেষ হয়েছে। ১৯৯২সালে উপকুলবর্তী ওই ইউনিয়নের একমাত্র সড়ক হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের আওতায় আসে। সে সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মগনামা হাইস্কুল থেকে মুহুরীপাড়া হয়ে বাইন্যাঘোনা আশ্রয়ন প্রকল্প পর্যন্ত সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের উদ্যেগ নেয়। সড়কটির পশ্চিম অংশ থেকে ব্রিক সলিং কাজ আরম্ভ করে। মুহুরীপাড়ার পুর্ব প্রান্ত জুবাইদুল হক চৌধুরীর ঘোনা পর্যন্ত প্রায় দেড় কি.মিটার ব্রিক সলিং দ্বারা উন্নয়ন হয়েছে। একইভাবে বাইন্যাঘোনা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের রাস্তার মাথা থেকে আশ্রয়ন প্রকল্প হয়ে বাইন্যাঘোনার পশ্চিম অংশে প্রায় আধা কি.মিটার ব্রিক সলিংয়ের আওতায় উন্নয়ন হয়েছে। নুরুল আলমের বাড়ি থেকে ব্যাঙখোয়াল ঘোনার দক্ষিন ও পুর্ব অংশ পর্যন্ত প্রায় এক কি.মিটার ব্রিক সলিং দ্বারা সংস্কারকাজ থেকে বাদ পড়ে যায়। ওই দেড় কি.মিটারে ইট না থাকলেও মাটি ভরাট কাজ সে সময় বাস্তবায়ন হয়েছে। এদিকে জনগুরুত্বপুর্ন ওই সড়কটি বিগত ২৭ বছর ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সড়কটির মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়ন হয়েছিল প্রায় ৩২বছর আগে।

অবিভক্ত মগনামার সাবেক চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক নুরুল ইসলাম সড়কটিতে মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়ন করে। উজানটিয়া করিমদাদ মিয়ার জেটিঘাট থেকে সড়কটি দক্ষিন মগনামা ও মধ্য মগনামা হয়ে মগনামা বাজারে গিয়ে মিশেছে। প্রায় ৯কি.মিটার সড়কটির দৈর্ঘ্য। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এড.জহিরুল ইসলাম প্রথম ওই সড়কটির উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে।

এদিকে খাইরুল এনাম,মুহাম্মদ ইউনুস চৌধুরী,শহিদুল মোস্তফা চৌধুরীসহ সাবেক এ তিন চেয়ারম্যানের মেয়াদকালীন সময়ে সড়কটির জন্য একটি টাকাও বরাদ্ধ দেয়া হয়নি। শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের বর্তমান সময়েও এখনো পর্যন্ত একটি টাকাও বরাদ্ধ দেয়নি। জোট সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় সড়কটির জন্য বরাদ্ধ বন্ধ করে দেয়। সড়কের বহমান পাড়ার মানুষগুলো আওয়ামী রাজনীতির আদর্শিক। মুহুরীপাড়া গ্রামে দেড় হাজার ভোটারের মধ্যে অন্তত ২০/৫০জন ভোটার ছাড়া সবাই নৌকা প্রতীকের ভোটার। জাতীয় নির্বাচনে এ গ্রাম থেকে মানুষ নৌকার মিছিলে অগ্রভাগে থাকে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন। এরপরেও সড়কটির উন্নয়ন সাধিত হচ্ছেনা।

সড়কটি বেহাল দশা থাকয় এসব শিক্ষার্থীরা চরমভাবে ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। মগঘোনা, মুহুরীপাড়া, দরদরীঘোনা, রুকুরদ্বিয়া, বাইন্যাঘোনার বিপুল জনগোষ্টির যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ সড়কটি।

মামুন, রাকিব, লিলি, আরবী, আরিফ, সাইদুর রহমান রিফাত, আয়েশা ছিদ্দিকাসহ শিক্ষার্থীরা জানায়, হাই স্কুল সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক। আমরা পায়ে হেটেও যেতে পারিনা। ইট উঠে গেছে। অধিকাংশ স্থানে কাচা সড়কে পরিনত হয়েছে।

সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুল এনাম জানায়, সড়কটি অশুভ শক্তির কুদৃষ্টির মধ্যে আছে। আমি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ১৯৯৯ সালে একবার পুনঃসংস্কার করেছিলাম। এরপর জামাত-বিএনপির কোন চেয়ারম্যান একটি টাকাও বরাদ্ধ দেয়নি। আমি এ পরিস্থিতির জন্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রাজুকে দায়ী করছি। প্রতিহিংসার কারনে তার দপ্তর থেকে একটি টাকাও উন্নয়নের জন্য দেয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম জানায়, আসলে সড়কটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে রয়েছে। আমিও চেষ্টা করছি বরাদ্ধের জন্য। আমি প্রকৌশলীকে বলেছি রাস্তাটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আনতে।

এলজিইডি পেকুয়ার প্রকৌশলী জাহেদুল আলম জানায়, আমরা কয়েকবার পরিকল্পনা তৈরি করে উর্ধ্বতন মহলে পাঠিয়েছি।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত)উম্মে কুলসুম মিনু জানায়, এডিপির বরাদ্ধে হাইস্কুল সড়কটির সংস্কারের জন্য ছক তৈরি করেছি। সড়কটি অনেক আগে উন্নয়ন হওয়ার প্রয়োজন ছিল।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •