প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

জন্ম দিয়ে বড় করা এবং স্বাবলম্বী হওয়া সন্তাদের পুরো দায়িত্ব পালন করেন পিতা-মাতা। সন্তানদের জন্য তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ করেন। আবার পিতা-মামা যখন অক্ষম হয়ে যায় বা অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন সন্তাকেই পুরো দায়িত্ব কাঁদে নিতে হয়। এটাই ধমীয় ও সামাজিক রীতি। কিন্তু অনেক সময় রীতির ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটে। বার্ধক্য বা অসুস্থতাসহ অন্য কোনো কারণে অক্ষম পিতা-মাতাকে অনেক সন্তান সেবা ও দেখভাল করে না। কিন্তু অধিকাংশই সন্তানই পিতা-মাতার সেবা ও দেখভালো করে। এই ভালো সন্তানদের মধ্যে অনেক আছেন একেবারে ব্যতিক্রম। তারা  পিতা-মাতার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ করে দেন অনায়সে। বিসর্জন দেন নিজের সুখ ও শান্তি। তেমনি এক যুবক আসাদুল হক সানি। মৃত্যুপথযাত্রী টিউমার আক্রান্ত মাকে দীর্ঘ দুই বছর সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা ও সেবা দিয়ে আবার ফিরিয়ে এনেছেন স্বাভাবিক জীবনে। মায়ের সেবা-যত্নের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার ঘোষিত প্রথমবারের ‘মমতাময়’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন সানি। গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এই খেতাবের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন সানিকে। সানিসহ দুইজনকে এই খেতাব দেয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কানিজ ফাতেমা মোস্তাক সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

জানা গেছে, সানির বাবা ২০০৬ সালে মারা যান। মা বিমানবন্দর সরকারি বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষিকা হোসনে আরা বেগম দুই বছর আগে পেটে টিউমার নিয়ে ক্যান্সারের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিলেন। চলে গিয়েছিলেন মৃত্যুর কাছাকাছি। কক্সবাজার ও চট্ট্গ্রামের চিকিৎসার তার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আশা ছাড়েননি ‘মমতাময়ী’পুত্র সানি। তিনি মাকে বাঁচাকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে পড়েন। মাকে নিয়ে গেলেন ঢাকার নামকরা হাসপাতালে। মায়ের রোগের অবস্থা অত্যন্ত জটিল পর্যায়ে চলে যাওয়ায় দেশের প্রধান প্রধান চিকিৎসকদের নিয়ে কয়েকটি হাসপাতালের সম্বনিত চিকিৎসা দেয়া হয়। হয় জটিল অপারেশন। মমতাময়ী পুত্র সানির মাকে বাঁচানোর ফরিয়াদ আল্লাহ শুনেছিলেন। অপারেশন সাকসেস হয়ে আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছিলো মা। ধীরগতির চিকিৎসা অব্যাহত রেখে এবং সন্তানের নিরলস সেবা পেয়ে সানির মা আজ ৯০ভাগ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবুও এখনো প্রতিমাসে তাঁকে চেকআপের জন্য ঢাকা নিয়ে যেতে হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মায়ের অন্তিম মুহুর্তে একটুও দুর্বলবোধ বা অবহেলা করেননি সানি।

যুবক সানি বলেন, বাবাকে হারিয়ে আমরা অনেক একা হয়ে গিয়েছিলাম। মা-ই ছিলো আমরা  দুইভাইয়ের শেষ সম্বল। অসুস্থ হয়ে মাও আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন- তা আমি কোনোভাবে মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই যেকোনো মূল্যে মাকে বাঁচানোর যুদ্ধে নামি। মাকে বাঁচাতে চিকিৎসা ও সেবার কোনোটির বিন্দুমাত্র ত্রুটি রাখিনি। যখন যা দরকার হয়েছিল সব করেছি। অনেক টাকা খরচ হচ্ছিল। কিন্তু আমার মনস্থির ছিলো নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও মাকে বাঁচাতে হবে। সেভাবে মায়ের চিকিৎসা সেবা করেছি। আল্লাহ আমার আবারো আমাদের মাাঝে স্বাভাবিকভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই জন্য মহান আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া।

তিনি আরো বলেন, আমরা দুই ভাই। আমার ভাইটা পুরোভাবে স্থায়ী অসুস্থ। তাই মায়ের চিকিৎসা এবং সেবা দুটোই আমাকে একা করতে হয়েছে। সব করেছি  নিরলসভাবে। কোনোদিন কখনো ক্লান্তি আসেনি আমার। প্রতিটি সন্তান যেন মা ও বাবাকে এভাবে যত্ন রাখেন তাই আমার প্রত্যাশা। সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। মা যেন শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠেন।

জেলা প্রশাসন  সূত্রে জানা গেছে, মা-বাবাকে সেবা করতে সন্তানদের উদ্বুদ্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তার জন্য মা-বাবার সেবক সন্তানদের ‘মমতাময় ও মমতায়ী’ খেতাবে ভূষিত করা হচ্ছে। বিশ্ব প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে এই খেতা ও সম্মাননা দেয়া হয়।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •