মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি, কোস্ট গার্ড অফিসে আটক শেখ সালাহ উদ্দিনকে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম গিয়ে উদ্ধার করার পর বদরখালীর উত্তেজিত জনগণ শান্ত হয়েছে। বিষয়টি এমপি আলহাজ্ব জাফর আলম সিবিএন-কে জানিয়েছেন। একই বিষয় পুলিশের বদরখালী তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় জনসাধারণের বরাত দিয়ে এমপি জাফর আলম সিবিএন-কে জানান, এর আগে রোববার ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৭ টার দিকে কোস্ট গার্ডের বদরখালী অফিসের আশরাফ নামক একজন হাবিলদার মোবাইলে বদরখালীর আওয়ামীলীগ নেতা মাস্টার আবুল কাসেমের পুত্র শেখ সালাহ উদ্দিনকে তাদের অফিসে ডেকে নিয়ে বেদম মারধর করে বলে অভিযোগ উঠে। স্থানীয় জনসাধারণ এ ঘটনার খবর পেয়ে চরম উত্তেজিত হয়ে উঠে। স্থানীয় জনসাধারণ কিছুক্ষণের মধ্যে মাইকিং করে মিছিল, বিক্ষোভ প্রদর্শন ও কোস্ট গার্ড অফিসের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। শত শত জনসাধারণ কোস্ট গার্ড অফিস ঘেরাও করে শেখ সালাহ উদ্দিনের মুক্তির দাবীতে শ্লোগান দিতে থাকে। কোস্ট গার্ডের সদস্যরা তখন উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করে। তখন জনতা আরো বেশী উত্তেজিত ও মারমুখী উঠে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তিনি উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। জনতার দাবীর মুখে একপর্যায়ে এমপি জাফর আলম নিজে কোস্ট গার্ডের অফিসে গিয়ে আটক সালাহ উদ্দিনকে নিয়ে আসে। এমপি জাফর আলম থেকে কেন শেখ সালাহ উদ্দিনকে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ধরে নিয়ে প্রহার ও আটকে রেখেছিল, এমন প্রশ্নের তিনি সিবিএন-কে বলেন-“কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তবে আমি যতটুকু স্থানীয় লোকজন থেকে জেনেছি, শেখ সালাহ উদ্দিন একজন প্রতিবাদী রাজনীতিবিদ। সে কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন অপকর্ম ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বার বার প্রতিবাদ করায় কোষ্ট গার্ড তার উপর ক্ষুদ্ধ ছিলো। সেজন্য কোস্ট গার্ডের সদস্যরা তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে, অস্ত্র ও ইয়াবা নিয়ে তাকে চালান দিতে চেয়েছে। আমি গিয়ে বলেছি, এটা আপনারা কখনো করতে পারবেন না। তারপর শেখ সালাহ উদ্দিনকে কোস্ট গার্ডের অফিস থেকে আমি উদ্ধার করে নিয়ে এসে উত্তেজিত জনতাকে তাকে দেখানোর পর জনতা শান্ত হয়। পরে আমি নিজে শেখ সালাহ উদ্দিনকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এসেছি।”

ঘটনার বিষয়ে কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে জানতে চাইলে, তারা ঘটনার কথা স্বীকার করে এ বিষয়ে সিবিএন-কে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •