ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী:

মহেশখালীতে প্রেমিকের বাড়ীর দরজায় গিয়ে বিয়ের দাবীতে অনশন করেছে ৭ মাসের অন্তসত্বা এক কিশোরী প্রেমিকা। তারা দুজনই অপ্রাপ্ত বয়স্ক এবং মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী। ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের রাজুয়ার ঘোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অবশেষে পুলিশ গিয়ে প্রেমিকের বাবাকে আটক করে অনশনরত প্রেমিকাকে সহ নিয়ে গেছে থানায়।  অনশনরত প্রেমিকা ছাত্রীর নাম সারজিনা সৈয়দা তিশা (১৬)। সে উপজেলার কালারমার ছড়া ইউনিয়নের নয়া পাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে এবং কালারমার ছড়া আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী।

অপর দিকে প্রেমিক হাফেজ মোহাম্মদ শাহেদ খাঁন (১৭) হোয়ানক ইউনিয়নের রাজুয়ার ঘোনা গ্রামের আলী সিকদারের পুত্র। সে হাফেজী শেষ করে পানিরছড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দশম শ্রেণীতে পড়ে।

অনশনরত ছাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রেমিক হাফেজ মোহাম্মদ শাহেদ খাঁন এর সাথে দীর্ঘ ৩ বছর ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক রেয়েছে। প্রেমিকের বাড়ীর পাশে নানার বাড়ীতে বেড়াতে এসে তাদের পরিচয়ের সুত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর থেকে প্রেমিকার বাড়ীতে প্রেমিক শাহেদ খাঁন এর যাতায়াত ও তাদের মধ্যে পরস্পর মন দেয়া নেয়া হয়। এক পর্যায়ে প্রেমিকের আশ্বাসে দৈহিক ও শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়। ফলে সে বর্তমানে নিজেকে ৭ মাসের অন্তসত্বা বলে দাবী করে বিয়ের দাবীতে শনিবার সকাল ১১টা থেকে রাজুয়ার ঘোনাস্থ প্রেমিকের বাড়ীর দরজায় এসে অনশন শুরু করে বলে জানায়।

স্থানীয় হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার অাবু বকর ও ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল কবির বিষয়টি হোয়ানক পুলিশ ক্যাম্পে জানালে ক্যাম্পের আইসি এস,আই বাসু দেব বিকেল ৫টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রেমিকের ও তার অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রেমিকের বাবা মৃত আব্দুর রসিদের পুত্র আলী সিকদারকে আটক করে অনশনরত প্রেমিকাকে সহ থানায় নিয়ে যায়।

প্রেমিক সারজিনা সৈয়দা তিশার অভিযোগ, বিগত ১৫ দিন পূর্বেও সে একবার আমাকে তার বাবার বাড়ীতে নিয়ে এসে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। ওই সময়ে তার বাবা মা সামাজিক ভাবে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিয়ে আশ্বাস দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। গতকাল সকালে পুনরায় প্রেমিক হাফেজ মোহাম্মদ শাহেদ খাঁন তাকে তার নিজ বাড়ী থেকে নিয়ে এসে বাবার বাড়ীর সামনে বসিয়ে রেখে সে আত্নগোপনে চলে যায়। সে প্রেমিকের বাবার বাড়ীতে ঢুকার পর তার মা বাবা তাকে মারপিট ও টানা হেঁচড়া করে গেইটের বাইরে বের করে দেয়।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, মেয়েটি নিজেকে ৭ মাসের অন্তসত্ত্বা বলে দাবী করছে। তারা অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এলাকাবাসীরা জানান, প্রেমিক প্রেমিকা দুজন অপ্রাপ্ত বয়স্ব হলেও স্থানীয় একটি মহল দুজনার মধ্যে বিয়ে পড়িয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •