হাবিবুর রহমান সোহেল :

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি ও পার্শ্ববর্তী রামুর বিভিন্ন পূজা মন্ডপে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত  হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই উপক্ষে মন্ডপে মন্ডপে চলছে সাজের আয়োজন। পূজা শুরুর বাকী আর মাত্র কটা দিন। ২৯ সেপ্টেমম্বর শুভ মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন তথা দেবীপক্ষের। পুরাণমতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গা মহালয়ার দিন পা রাখবেন মতর্যলোকে। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে দুর্গাপূজার ব্যাপক প্রস্তুতি। মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি আর ডেকোরেশনের শেষ ঘষামাজার কাজ। এদিকে দুর্গোৎসবকে সামনে পুরো উল্লেখিত দু উপজেলায় উৎসবমূখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। আর পূজাকে সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর এরই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পূজা উদযাপন পরিষদের সাথে মতবিনিময় করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি, থানার ওসি মোঃ আনোয়ার ও রামুর আলোচিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রনয় চাকমা, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের এবং গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়িঁর আইসি পরিদর্শক মোঃ আবছার। ইতোমধ্যে দুর্গোৎসব উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে দু উপজেলায় জিআর চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।এবার এই দু উজেলায় মোট ২২টি মন্ডপে এই পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে রামু উপজেলায় ১৯ টি, আর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৩ টি মন্ডপ রয়েছে। রামুর মন্ডপ গুলোর মধ্যে বেশির ভাগই রামু সদরে। আর বাকী গুলো কাউয়ারকুপে ১ টি, কচ্ছপিয়ায় ১টি এবং ঈদগড়ে ১ টি মন্ডপ রয়েছে। আর নাইক্ষ্যংছড়ির ৩ টির মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে একটি, বাইশারী ও ঘুনধুমে একটি করে মন্ডপ রয়েছে। এবছর দেবী দুর্গা আগমন করবেন ঘোটকে আর গমনও করবেন ঘোটকে। দুর্গাপূজার আর মাত্র কটা দিন বাকী থাকলেও ৪/৫ দিন থেকে সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে কড়া নাড়ছে দূর্গোৎসবের আনন্দের বারতার। শুধু সনাতনী সম্প্রদায় নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাংলাদেশে সকল সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছে এ দুর্গোৎসব একটি সামাজিক উৎসবও বটে।
ককসবাজার জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ, সাধারন সম্পাদক বাবুল শর্মা ও কচ্ছপিয়া পূজা কমিটির সভাপতি সজল শর্মা এবং সাধারণ সম্পাদক সুবধন দাশ জানান, এবছর দুর্গাপুজাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এখন থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রতিমা ও পুজার মঞ্চ তৈরির কাজ। তারা পুজাকে সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে উদ্যাপনের জন্য প্রশাসনসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। রামু থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের জানা, পুজাকে কেন্দ্র করে বরাবরের মতোই পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর সে লক্ষ্যই ইতোমধ্যে পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের পূজায় ৫ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলে জানান, ওসি রামু। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার জানান, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নিরাপত্তায় কাজ করবে পুলিশ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •