এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সমবায়ী প্রতিষ্ঠান কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বহুল প্রতিক্ষিত ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল ২৮ সেপ্টেম্বর। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। এবারের নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্যসহ মোট ১২টি পদে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী রয়েছেন ৩৪ জন। তন্মধ্যে সভাপতি পদে ৩জন, সহ-সভাপতি পদে ২জন, সম্পাদক পদে ৩ জন ও সদস্য পদে ২৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
সরজমিনে নির্বাচনী মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনকেও হার মানিয়েছে বৃহত্তম সমবায়ী প্রতিষ্ঠান বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির এই নির্বাচন। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই রঙিন নির্বাচনী পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, তোরণ নির্মাণসহ এমন কিছু বাদ পড়েনি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায়। সমিতির ভোটারদের মন জয়ের জন্য আঞ্চলিক ভাষায় গান রচনা করে পাড়ায় পাড়ায় গাড়ি নিয়ে নিজের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এতেই পুরো নির্বাচনী জ্বরে কাপছে বদরখালী এলাকা। বদরখালীর ৫০ হাজার জনগোষ্ঠী এ সমিতির ভাগ্যন্নোয়নের উপর নির্ভরশীল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে , এবারের নির্বাচনে ১২টি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন সর্বমোট ৩৪ জন প্রার্থী। এসব প্রার্থীর মধ্য থেকে ১২টি পদের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১৫০০ (সভ্য) ভোটার। সমিতির এ নির্বাচনে সদস্য পদ ছাড়া সম্পাদকীয় পদে যারা নির্বাচন করছেন তারা হলেন সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি হাজি নুরুল আলম সিকদার (চেয়ার), সাবেক চারবারের সম্পাদক দেলোয়ার হোছাইন এম এ (গোলাপফুল) ও সাবেক সহ-সভাপতি মাস্টার শাহাব উদ্দিন। সহ-সভাপতি পদে আলী মোহাম্মদ কাজল (বাই সাইকেল), আনছারুল ইসলাম (মই)। সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক জয়নাল আবেদীন খাঁন (আনারস), সাবেক দু’বারের সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বিএ (দেয়ালঘড়ি), নুরুল আমিন জনি (চাকা)। এছাড়াও সমিতির ৯টি সদস্য পদে ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করা সভাপতি ও সম্পাদক পদের কয়েক প্রার্থী কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ইতিমধ্যে কোন কোন প্রার্থী সর্বনিন্ম ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত গোপনে সভ্যদের মাঝে বিলি করছেন বলে সূত্রে জানায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদরখালীর এক ও দুই নম্বর ব্লকের বেশ কয়েকজন ভোটার বলেন, তিন বছর পর পর আমাদের (ভোটার) মূল্যায়ন হয় ভোট আসলেই। এবারও সভাপতি ও সম্পাদক পদের কয়েকজন প্রার্থী ভোট পাওয়ার জন্য তালিকা করে সর্বনিন্ম ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিলি করেছেন।’
সভাপতি ও সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের পদে প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকা দুই পদের দুইজন প্রার্থী বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে টাকা বিলি শুরু করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ওই প্রার্থীরা ইউনিয়নের এক নম্বর ব্লকের তেচ্ছাপাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া ও দুই নম্বর ব্লকের শহরিয়া পাড়া, সাতডালিয়া পাড়া, ভারুয়াখালী পাড়া, নতুন ঘোনা, কুতুবনগরসহ বিভিন্ন পাড়ার সভ্যদের কাছে মোটা অংকের টাকা বিলি করেছেন। বিষয়টি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কালোটাকা বিতরণকারী প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভোটের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের অভিযোগ।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধি এক প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী হাজি নুরুল আলম সিকদার তার নির্বাচনী কার্যালয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিয়ত সভ্যরা টোকেন দিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন বলে সচেতন ভোটার ও প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন। তবে, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী হাজি নুরুল আলম সিকদার সভ্যদের টাকা বিতরণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে এটি একটি অপপ্রচার বলে তিনি জানান।
সম্পাদক পদের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ সমিতির সভ্যদের বিপুল ভোটে বিগত দুই বার সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। তৎসময়ের মধ্যে দায়িত্বে থাকাবস্থায় আমি চেষ্টা করেছি সমিতির সভ্যদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে। সমিতির কোন কর্মকান্ডে সভ্য বা ভোটারেরা হয়রানী হয়েছেন তেমন কোন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলাম না। অতীতে যে সব সুযোগ-সুবিধা সমিতির সভ্য (ভোটারেরা) আমার কাছ থেকে পেয়েছেন, তার বিনিময়ে সভ্যরা এবারের নির্বাচনেও আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন বলে আশা করি।’
এ ব্যাপারে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘কোন কোন পদের কোন প্রার্থী টাকা বিলি করছেন তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রস্তুতি চুড়ান্ত করা হয়েছে। নিয়োগ করা হয়েছে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদেরও। বদরখালী কলোনিজেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট ৯টি বুথে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহন চলবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •