মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

উখিয়া উপজেলার মধ্য রত্নাপালং বড়ুয়া পাড়া গ্রামে একই বাড়িতে বুধবার ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত্রে যেকোন সময় জবাই করে ৪ জনকে খুন করা হত্যাকারী একজন হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী। চট্টগ্রাম থেকে আসা ফরেনসিক এক্সপার্ট টিম ঘটনাস্থলে যে পায়ের চাপ গুলো পেয়েছে, সেগুলো শুধুমাত্র একজনের পায়ের চাপ বলে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার কাছে তারা মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি বিশ্বস্ত সুত্র সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন। সুত্র মতে, উখিয়ার চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার হত্যাকান্ডটি প্রাথমিক ধারণা মতে, পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হতে পারে। হত্যাকান্ডের অনেক ক্লু ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এসব ক্লু প্রকাশ করছে না।

এদিকে, স্থানীয় কিছু লোকজন সিবিএন-কে ধারণামূলকভাবে বলেছেন, খুন হওয়া রোকন বড়ুয়ার স্ত্রী মিলা বড়ুয়া (২৫) সুন্দরী মহিলা হওয়ায় হয়ত নারী ঘটিত কারণেও এই হত্যাকান্ড ঘটতে পারে। তাদের মতে, মিলা বড়ুয়া খুবই সংরক্ষণশীল ছিলো। রোকন বড়ুয়ার পরিবার আগে খুব একটা স্বচ্ছল না হলেও রোকন বড়ুয়া কুয়েত যাওয়ার পর পরিবারটি আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছল হয়ে যায়।

এদিকে, উখিয়া থানা পুলিশ হত্যাকান্ডের মোটিভ উদঘাটনে খুন হওয়া সনী বড়ুয়া’র পিতা শিবু বড়ুয়া ও তার স্ত্রী, তাদের বাড়িতে থাকা একজন ড্রাইভার সহ মোট ৫ জনকে বৃহস্পতিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উখিয়া থানায় আনা হয়েছিল। উখিয়া থানা কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার পর তাদেরকে একইদিন রাত্রে ছেড়ে দিয়েছে বলে উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার সিবিএন-কে জানিয়েছেন। তিনি জানান, চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারের বিষয়ে মামলা দায়ের এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুন হওয়া ৪ জনের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার রাত্রে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে আানা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ময়নাতদন্ত হতে পারে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিবিএন-কে জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, এসপি এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ও উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান, উখিয়ার ইউএনও প্রকৌশলী মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী, র‍্যাবের কর্মকর্তারা, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজারের নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট দীপংকর বড়ুয়া পিন্টু, উখিয়ার ওসি মোহাম্মদ আবুল মনসুর, ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার, রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চৌধুরী সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও ধর্মিয় নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘরের ভিতর খুন হয়ে থাকা প্রতিটি লাশের গলায় জবাই এর চিহ্ন রয়েছে। খুন হওয়া ঘরের ভিতর টেলিভিশন চলমান ছিল, নাস্তার প্লেটে নাস্তা ছিলো, বাড়ির দরজা, জানালা বন্ধ ছিল। এক রুমে ৪ টি বালিশ ছিলো। কিন্তু খুন হওয়া ৪ টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে পৃথক ৩ টি রুমে। স্থানীয় লোকজন বৃহস্পতিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে দরজার নীচ থেকে খুন হওয়া সখী বড়ুয়ার রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
কুয়েত প্রবাসী রোকন বড়ুয়া বৃহস্পতিবার ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১১ টার ফ্লাইটে কুয়েত থেকে বাংলাদেশ আসার জন্য রওয়ানা হয়েছেন বলে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের ট্রাস্টি এডভোকেট দীপংকর বড়ুয়া পিন্টু সিবিএন-কে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, ঢাকা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর রোকন বড়ুয়া শুক্রবার ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টার আভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছার কথা রয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম থেকে আসা সিআইডি’র ফরেনসিক এক্সপার্ট টিমের লোকজন বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণে রেখেছেন। শুক্রবার ২৭ সেপ্টেম্বর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর তারা হত্যাকান্ড সম্পর্কে প্রাথমিক মতামত দিতে পারেন বলে বিশ্বস্থ সুত্র সিবিএন-কে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, উখিয়া উপজেলার রত্মাপালং ইউনিয়নের মধ্য রত্নাপালং বড়ুয়া পাড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে একটি বাড়িতে একই পরিবারের জবাই করা ৪ জনের লাশ পাওয়া যায়। লাশ ৪টি হলো মৃত প্রবীণ বড়ুয়ার স্ত্রী (১) সখী বড়ুয়া (বয়স-৬৩), সখী বড়ুয়ার পুত্র, কুয়েত প্রবাসী রোকন বড়ুয়ার স্ত্রী (২) মিলা বড়ুয়া (বয়স-২৫), মিলা বড়ুয়ার পুত্র (৩) রবীন বড়ুয়া (বয়স-৫), মৃত প্রবীণ বড়ুয়ার আরেক পুত্র শিবু বড়ুয়ার কন্যা (৪) সনী বড়ুয়া (বয়স-৬) সহ ৪ জন। খুনের খবর পেয়ে পুলিশ সকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির চাদের সিড়ি দিয়ে নীচে প্রবেশ করে ৪ টি জবাই করা লাশ দেখতে পায়। পরে তাঁরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •