মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

যেসব প্রতিষ্ঠানে ওলী-বুজর্গদের দোয়া, পদচারণা ও ছোঁয়া রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান মহিরুহের মতো গায়েবী মদদ পেয়ে বিস্ময়করভাবে দাড়িয়ে যায়। আবার সেসব প্রতিষ্ঠান মানবকল্যাণে নিবেদিত ও গণমানুষেকে কল্যাণের পথে নিয়ে আসে। তাঁর একটা উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হলো কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স। যে প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর লক্ষ, লক্ষ মানুষকে সাধারণ শিক্ষা, দ্বীনি শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা সহ বিভিন্ন ধরনের সেবা নিরবে ও সুশৃঙ্খলভাবে দিয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স শুধু একটা স্থাপনা কিংবা গতানুগতিক কল্যানমূখী সেবা ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি ওলি-আউলিয়াদের আগ্রহ ও পদচারণার বড় নির্দশন। পীরে কামেল হজরত মীর আখতার (রহ.) ও হাদিয়ে জামান হজরত আবদুল জব্বার (রহ.) এর আগ্রহে প্রতিষ্ঠিত ও স্মৃতিধণ্য কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স জাতির জন্য একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসাবে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান পীরকেবলা, বাহারুল উলুম হজরত মাওলানা আলহাজ্ব কুতুব উদ্দিনের নির্দেশনায় ও মহাপরিচালক আলহাজ্ব এ.এম সিরাজুল ইসলামের সুদক্ষ ও বলিষ্ঠ পরিচালনায় নিরন্তর এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ট বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বুধবার ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আগে বিভিন্ন গুনীজনদের কাছ থেকে বায়তুশ শরফে বিষয়ে ব্যাপক কর্মকান্ডের কথা শুনেছি। আজকে পরিদর্শনে এসে শুনার চেয়ে অনেক বেশী বাস্তবে দেখতে পেলাম। বিচারপতি বোরহান উদ্দিন কক্সবাজার বায়তুশ শরফের অধীন বিশাল জামে মসজিদ, জব্বারিয়া একাডেমি, চক্ষু হাসপাতাল, কুতুব উদ্দিন মাদ্রাসা, এতিমখানা, ত্রিরত্ন লাইব্রেরী, কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র সহ বায়তুশ শরফের বিভিন্ন অংগ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান দেখে অভিভূত হন এবং বিস্ময় প্রকাশ করেন। বিচারপতি বোরহান উদ্দিন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মচারীর সংখ্যা জানতে চাইলে, মহাপরিচালক আলহাজ্ব এ.এম সিরাজুল ইসলাম কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের সকল স্টাফদের মাসিক বেতন-ভাতা প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা, স্টাফের সংখ্যা প্রায় ৪ শ’ জন এবং ছাত্র-ছাত্রী ও এতিমের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বলে জানান। মহাপরিচালক আলহাজ্ব এ.এম সিরাজুল ইসলাম থেকে এ তথ্য জেনে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন অনেকটা অবাক হয়ে বলেন, এখানে না আসলে সেটা কখনো বুঝা যেতনা এবং মহান আল্লাহতায়লার অসীম রহমত আছে বলে এ মহীরুহসম প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সুশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নিয়োজিত সকলের ভূয়সী প্রশংসা ও কল্যাণ সহ সকল প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন । এর আগে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে পৌঁছালে কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক আলহাজ্ব এ.এম সিরাজুল ইসলাম তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করে নেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস.এম আব্বাস উদ্দিন, বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ছৈয়দ করিম, চক্ষু হাসপাতালের যুগ্ম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এস.এম কামাল উদ্দিন, শিক্ষক মোহাম্মদ তৈয়ব, রেজাউল করিম, গিয়াস উদ্দিন, নিজামুল বাহার, হল সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসংঙ্গত, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোরহান উদ্দিন কক্সবাজার জেলা জজশীপের অধীন আদালত সমুহ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আওতাধীন আদালত সমুহ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সমুহ পরিদর্শনের জন্য গত ২১ সেপ্টেম্বর ৬ দিনের সফরে কক্সবাজার আসেন। বৃহস্পতিবার ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি কক্সবাজার ত্যাগ করবেন বলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস.এম আব্বাস উদ্দিন সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •