cbn  

এম.মনছুর আলম,চকরিয়া (কক্সবাজার) :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী জনপদে ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে হাজারো পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা অভিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি কমে যাওয়ার পরপর নদীর দুই তীরে বিভিন্ন পয়েন্টে শুরু হয় নদীর তীর ভাঙ্গন। এতে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ৩০টি বসতঘর। বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীরবর্তী শত শত বসতঘর, দোকান-পাট, মসজিদ মাদরাসা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে নদীর এ ভাঙ্গন আতঙ্কে এখনো নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে উপজেলার হাজারো পরিবার। এ অবস্থার কারনে নদীর তীর লাগোয়া এলাকায় বসবাসরত প্রায় লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী নদীর ভাঙ্গনে চরম আতঙ্কে ভুগছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, বর্তমানে মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী ভাঙ্গনের কবলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নস্থ বাটাখালী ব্রীজের উত্তর প্রান্তে নাপিতের টোড়া, পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল বারী পাড়া, ছাবেতপাড়া, চরপাড়া, কাজীরপাড়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরছঘাটা, জলদাশপাড়া ও বাটাখালী সেতুর দুই পাশের চারটি গ্রামের অন্তত শতাধিক বসতঘর। এছাড়াও বিএমচর ইউনিয়নের বেতুয়াবাজার সেতু পয়েন্ট, কন্যারকুম, কুরিল্যার তলা, বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা, গোবিন্দপুর, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক, লামারপাড়া, মন্ডলপাড়া, জলদাসপাড়া, পূর্ব বড় ভেওলার সেকান্দর পাড়া, শমসু মিয়ার বাজারস্থ জলদাশপাড়া পয়েন্ট, কোনাখালী ইউনিয়নের কাইদ্যার ডিয়া, বাংলা বাজার, সিকদাপাড়া পয়েন্ট ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগর ঘোনাস্থ বুড়িপুকুর পয়েন্টেসহ একাধিক জনপদ নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। নদীর এ ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে যে কোন সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে এলাকার হাজারো ফসলী জমি, খতিবে আজম সড়কসহ বেশ ক’টি সড়ক, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিম খানাসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যমতে জানা গেছে, খরস্রোতা এ মাতামুহুরীর ভয়াবহতায় ইতোমধ্যে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিগত দুই দশক ধরে বসতি হারিয়ে অন্তত ১০হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছেন। গৃহহারা এসব পরিবার বেঁচে থাকার তাগিদে ঠাই নিয়েছে বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে। নদীতে বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে পৌরসভার গুরুত্বপুর্ণ শহররক্ষা বাঁধ, ছিকলঘাটা-কৈয়ারবিল সড়ক, ভাঙ্গারমুখ ফাসিয়াখালী ঘুনিয়া সড়ক ও কোনাখালী-বাংলা বাজার- বদরখালী সড়ক।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো.আলমগীর চৌধুরী বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে পৌরসভার বিভিন্ন জনপদে মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। এতে অন্তত ১০-১২টি বসতঘর এবারের ঢলের পানিতে নদীতে তলিয়ে যায়। এখনো নদীর ভাঙ্গনে চরম হুমকিতে রয়েছে পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল বারী পাড়া, ছাবেতপাড়া, চরপাড়া, কাজীরপাড়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরছঘাটা, জলদাশপাড়া ও বাটাখালী সেতুর পয়েন্টসহ চারটি গ্রামের অন্তত শতাধিক বসতি।

তিনি আরো বলেন, নদীর এ ভয়াবহ ভাঙ্গন উপক্রম থেকে বিভিন্ন স্থাপনা সমূহ ভাঙ্গনরোধ নিরসনের জন্য চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত ওসমান বলেন, মাতামুহুরী নদী সৃষ্টির পর থেকে কাকারাবাসী নদীর ভাঙ্গনের তান্ডবের কবলে পড়ে ইউনিয়নের হাজারো বসতি বিলীন হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, অতীতের ন্যায় এ বছর বর্ষাতে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার তান্ডবে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে এ ইউনিয়নের মাঝেরফাড়ি, কামাল মাস্টারের ঘাটা, রুদ্রপাড়াসহ আশপাশ এলাকার বিপুল জনবসতি। নদীর ভাঙ্গনের কবল থেকে কাকারা জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী চকরিয়া শাখা কর্মকর্তা তারেক বিন সগীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাতামুহুরী নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে পাউবো ইতোমধ্যে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছেন। বিশেষ করে নদীর ঝুঁকিপুর্ণ পয়েন্টে বসানো হচ্ছে সিসি বক্লদ্বারা টেকসই স্পার।

তিনি বলেন, নতুন করে যেসব এলাকায় নদীর ভাঙ্গন হয়েছে তা সনাক্ত করে অর্থ বরাদ্ধের জন্য উধর্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। অর্থ বরাদ্ধ প্রাপ্তি সাপেক্ষে উপজেলার এসব ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলে তিনি জানান।##

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •