cbn  

সিবিএন ডেস্ক :

রাজনীতির মুল উদ্দেশ্য থাকতে হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশ-জাতির কল্যানে কাজ করা বলে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলের উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইম মুহম্মদ এরশাদ সারা জীবন সেই লক্ষ্যেই কাজ করে গেছেন। প্রায় ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ২৭ বছরই তিনি ক্ষমতার বাইরে থেকে জনগনের জন্য রাজনীতি করেছেন।

তিনি বলেন, দেশ আজ দুর্নীতির ভয়াবহ কালো থাবায় ক্ষত বিক্ষত। দুর্নীতি দমনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী। দেশবাসী বিশ্বাস করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কণ্যা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী জনআকাঙ্খার দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। চলমান অভিযান তারই ইঙ্গীত বহন করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপে জাতি আশাবাদি হয়ে উঠছে।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ স্মরণে বাংলাদেশ জনতা লীগ আয়োজিত স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আমাদের কাজ করতে হবে।

তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশে পরিবর্তনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের চলমান নির্বাচনী পদ্ধতি পরিবর্তনের চিন্তা করতে হবে। সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও মেধাবী রাজনীতিকদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনীতিকে আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। আনুপাতিক হারে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার নতুন রাজনীতির সূচতনা করতে হবে।

চলমান নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, যারা জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করেন তারা এলাকায় গিয়ে নির্বাচিত হতে পারেন না, আবার অনেক আঞ্চলিক নেতা সংসদে নির্বাচিত হয়ে তার এলাকার উন্নয়নের কথা ভাবে কিন্তু জাতীয় ভাবনা তাদের মাথায় আসে না। এজন্য ভোটের পদ্ধতি পরিবর্তন করে ভোটের আনুপাতিক হারে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার বিধান করতে হবে।

প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা কায়েমের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নিয়ে এরশাদের শাসনআমলে সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে সর্বমহলে তা গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে। এখনও তা পরিপূর্ণতা নাই। প্রাদেশিক ব্যাবস্থা চালু হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হবে, ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমবে। তখন কোন কাজের জন্য জেলা শহরের কোন মানুষকে ঢাকায় আসতে হবে না।

জনতা লীগ চেয়ারম্যান শেখ ওসমান গনি বেলালের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস চেয়ারম্যান শেখ শহীদুজ্জামান, এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, বিডিপি চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, যুব মিশন সভাপতি কামরুজ্জামান সুরুজ, বিজেএল নেতা আল আমিন খান সাগর, মো. সামাদ মিয়া প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন, চেয়ারম্যানে উপদেষ্টা ড. নুরুল আজহার, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, সুলতান মাহমুদ, ছাত্র বিষয়ক সহ-সম্পাদক মিজানুর রহমান মিয়া, বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. শহীদুননবী ডাবলু প্রমুখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, দুর্নীতি একেবারে অপ্রতিরোধ্য বললেও অতুক্তি হবার কথা নয়। যা আমাদের জাতিস্বত্ত্বাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীকে জাতির স্বার্থে-রাষ্ট্রের স্বার্থে এই সকল কিছুর বিরুদ্ধে তার লড়াই অব্যাহত রাখবে বলে বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রীর এই লড়াইয়ে দেশ-জাতি-জনগন সকল সময়ই তার পাশে থাকবে।

তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, উত্থান-পতন, সাফল্য-ব্যর্থতায় বর্ণিল জীবনের অধিকারী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রবল প্রতিরোধের মুখেও একটি রাজনৈতিক সংগঠন ধরে রেখেছিলেন ও বহু অনুসারী সৃষ্টি করেছেন। তিনি ইতিহাসের পাতায় অমোচনীয় স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

লেবার পার্টি চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যার যতটুকু কৃতিত্ব তাকে তা দেয়া উচিত। ভুল-ত্রুটির মধ্যেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভালো কাজগুলোর প্রতি সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব।

এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, রাষ্ট্র এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি আমাদের ক্ষত-বিক্ষত করছে। এ অবস্থা থেকে দেশ-জাতিকে মুক্ত করতে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •