নিরাপদ সড়ক ও মানব ঝুঁকি

আবুল হাসেম

নিরাপদ সড়ক বলতে, সেই সব সড়ক,যা জীবন, জীবিকার জন্য হুমকি নয়।তা হবে পরিকল্পিত, অনুমোদিত, পরিবেশ বান্ধব, জননিরাপত্তা মূলক ইত্যাদি। অর্থের যথাযথ প্রয়োগ ও সুপরিকল্পিত ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যময় অবস্থাকে নিরাপদ সড়ক বলা যায়। আর মানব ঝুঁকি বলতে? সহজে বুঝা যায়,কোন কিছুতে মানব জাতির জন্য ভয়ংকর প্রভাব, হুমকি, সংকট ইত্যাদি কে। কোন কিছু যখন প্রদত্ত স্বাভাবিক নিয়ম কানুনের বিপরীতে গিয়ে সংকট তৈরী করে,তখন আমরা তাকে ঝ্ুঁকি বলতে পারি। আজকাল আমরা দেখতে পাচ্ছি,আমাদের সড়কের বেহাল দশা। দেশের প্রায় সব জেলায়, বিভিন্ন স্থানে সড়কের করুণ দৃশ্য। এ দিকে কক্সবাজার ও এগিয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে শত শত রোড এক্সিডেন্টে শত শত মায়ের সন্তান হারানোর আহাজারি, বাবা মা হারানোর আর্তনাদ, স্ত্রী হারানোর মায়াময় শোক স্মৃতি ইত্যাদি। এ সবের জন্য আমরা সবাই ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। দেখা যাচ্ছে সড়ক সংস্কার, মেরামত, নতুন ভাবে পাকা করণের পর উদ্বোধনের আগেই তা ধ্বসে পড়ার মত দুঃস্মৃতি। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায়,সড়কের কাজ শুরু করার আগে প্রকৌশলী, টিকাদার, স্থানীয় জনপ্রতিনীধি, রাজনিতিবিদদের দুর্নীতি, ভাগাভাগির কারসাজি, কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে বাগবিতন্ডায় রক্তাক্ত মারামারি ইত্যাদি। যাই হোক আমাদের সরকারের উচ্চ জীবন মানের লক্ষ্য মাত্রা অর্জনের টার্গেট থাকলে ও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না,কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে। তারপরও আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্য মাত্রা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রাসঙ্গিক কথা:

সেদিন (২৭/৭/১৯) সি.এন.জি. করে কলেজের দিকে যাচ্ছিলাম। আমাদের ডিপার্টমেন্টের বি.এস.সি.( অনার্সের) সিনিয়র আপুদের দেখলাম, খোশ মেজাজে কথা বলতে বলতে অটোটে করে পাশ দিয়ে কলেজে যাচ্ছে। হঠাৎ মহা বিপদ সংকেত?? খুরুশকুল রাস্তার মাথাস্থ ও রুমালিয়ার ছড়াস্থ সংযোগ সড়ক ” কক্সবাজার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ পর্যন্ত এসে,সবাই গাড়ি চাপা পড়ে,ওনারা ৩ জন ছাত্রী, ২ জন পুরুষ সহ দেহের উপর গাড়ী চাপা পড়ে। চারদিক রাস্তায়,থৈ থৈ পানি। অনেক কষ্ট করে আমরা ৪/৫ জন মিলে তাদের উদ্ধার করি। তারা কি ভাবে কলেজে যাবে ?? গায়ের প্যান্ট পর্যন্ত ছিঁড়ে শরীর দেখা যাচ্ছে। পরে তারা পাশের স্থানীয়দের সহায়তায়,কাপড় ছোপড় কাদা মুক্ত, পরিষ্কার করে, কোন রকম বাড়ি ফেরে যায়। আল্লাহ অনেক বড় দূর্ঘটনা হতে রক্ষা করেছে। অপরদিকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশের জনপ্রিয়, ১ম সারির একজন চিত্রনায়ক, ” ইলিয়াস কাঞ্চন ” যিনি এ দেশের চালচিত্র জাগতের একজন জীবন্ত কিংবদন্তীর নাম,যিনি সড়ক দূর্ঘটনায় নিজ স্ত্রীকে হারিয়ে এখনো পর্যন্ত সেই দুঃস্মৃতি ভুলতে পারছেন না। তিনি সেই সময় হতে এখনো পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর নিরাপদ সড়কের দাবীতে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। কিন্তু তার সেই স্মৃতি মায়া হয়ে থেকেই গেল।তারপরও সেই সংগ্রামী, দুঃসাহসিক, এক সিপাহসালার নাম ” ইলিয়াস কাঞ্চন “। তিনি সহ এ দেশের প্রায় সচেতন মানুষ এখনো নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন, সংগ্রাম ও কাজ করে যাচ্ছে। যাতে মানব ঝুঁকি কিছুটা হলেও হ্রাস করা যায়।

প্রাসঙ্গিক সমালোচনা:

এ দেশে কিভাবে উন্নয়ন হবে, যে দেশে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অর্থ বরাদ্দের আগে,তা কি ভাবে ভক্ষণ করবে এ নিয়ে চতুর্মুখী পরিকল্পনা শুরু হয়, আর পরে তা কাজে লাগায় সংশ্লিষ্ট বিচক্ষণ লোকজন। যে দেশে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের ৪০% ও কাজ হয় না, সে জাতি কি ভাবে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে?? যে দেশের রাজধানী তে ও দুপুরবেলা সহ সারা দিন রাস্তায় ময়লা আবর্জনার স্থুপ জমে থাকে, সে জাতির ভবিষ্যৎ কি ভাবে উজ্জ্বল হবে??? যে জাতির রাজধানী সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশ দিয়ে দুর্গন্ধের কারণে হাটা যায় না, তাদের ভবিষ্যৎ এ কি আছে তা,আপনারা চিন্তা করুন।

জনদুর্ভোগঃ

এসব ইস্যু তে আমরা খুব দূর্ভোগে জীবনযাপন করতেছি। এসব সংকটময় পরিস্থিতি তে ৩য় শক্তির আবির্ভাব ঘটে। তারা জনজীবন কে এক ধরনের জিম্মি করে,বাড়তি ফায়দা হাসিলে ব্যস্ততম সময় পার করে। এমন পরিস্থিতি তে ট্যুরিস্ট,সাধারণ যাত্রী, ছাত্র-ছাত্রী রা বেশ বিপাকে পড়ে। তাদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়,করা,হয়। ড্রাইভাররা এক ধরনের সিন্ডিকেট তৈরী করে। উপায় না পেয়ে যাত্রীদের ৫ টাকার ভাড়ায় ৪/৫/৬ গুণ টাকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এসব কিন্তু মিথ্যা না, এসব বাস্তব সম্মত কথা। সম্প্রীতি আমরা যারা,কক্সবাজার শহরে বসবাস করি, এমন পরিস্থিতি তে, আমরা খুব দূর্ভোগে জীবনযাপন করতেছি। সব সময় দেখা যায় সড়কের ২ পাশে যাত্রী দ্বারা লোকারণ্য পরিবেশ।

পরিস্থিতিঃ

এমন পরিস্থিতির কবল হতে কেউ রক্ষা পায় না। যারা এসব কাজ হতে দুর্নীতি করে ফায়দা হাসিল করে,তাদের সংশ্লিষ্ট অনেকে আবার এসব পরিস্থিতি তে চরম ভোগান্তি তে পড়ে। এমন সময় সব প্রশাসনিক লোক,যেমন,পুলিশ, বিডিআর,বিজিবি, এক কথায় সবাই বিপদে পড়ে। আবার দেখা যায়, তারা সরাসরি বিপদে না পড়লেও তাদের আত্মীয়-স্বজন কেউ এগুলোর কবল হতে রক্ষা পায় না।

ল যাই হোক সামনে আমাদের অনেক খুশির দিন আসতেছে, এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে, রাস্তা ঘাটে চলাচলের সময় নিজে সতর্কতা অবলম্বন করব ও অন্যকে সতর্ক করব। কারণ এ রকম খুশির দিনগুলোতে সড়ক দূর্ঘটনা বেশি ঘটে। আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসটি তখনি সার্থক হবে, যখন এতে একটু হলেও মানব জাতির উপকার হয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে তৌফিক দিন,যাতে আমরা এ দেশের সড়ক গুলোকে নিরাপদ সড়কে রুপ দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করতে পারি।আল্লাহ হাফেজ!

লেখক : আবুল হাসেম

সেক্রেটারি জেনারেল :

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সেচ্ছাসেবী সংগঠন,

১) বাঁধন,( সেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন) কক্সবাজার।

cbn কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন) এ প্রকাশিত কোন সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।-কক্সবাজার নিউজ ডটকম  

সর্বশেষ সংবাদ

বিএসএফের বাংলাদেশে অবৈধ প্রবেশের ছবি প্রকাশ

উখিয়া-টেকনাফে পানির স্তর নীচে নেমে গেছে : সাবের হোসেন চৌধুরী

হাইব্রিড ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় যুবলীগ নেতা আবছারের বিরুদ্ধে মামলা

সাংবাদিক পরিচয়ে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে আটক -১০

‘যুবলীগের দায়িত্ব পেলে ভিসির পদ ছেড়ে দেব’

মরহুম ইসহাক মিয়া গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২৪ অক্টোবর শুরু

আধুনগর পালপাড়া মন্দির সড়কে কালভার্ট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

প্রেমিকা রূপসাকে ‘বউ’ বানালো রাশেল

বর্ণাঢ্য উৎসবে শেখ রাসেলের জন্মদিন উদযাপন করলো জেলা যুবলীগ

বিজিবিতে চাকরি এইচএসসি পাসে

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে : পরিবেশ মন্ত্রী

চকরিয়ায় ইমাম হোসাইন (রা:) সুন্নিয়া মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন

কক্সবাজারের সাংবাদিকদের জন্য সেভ দ্য চিলড্রেনের ‘মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’

‘ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ছিলেন একজন গুনি ও জাতীয় মাপের শিল্পী’

আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা শূণ্যের কোটায়

এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত

লোহাগাড়া থানার বিশেষ অভিযানে আটক ৬

কক্সবাজার শহরের শীর্ষ ছিনতাইকারী আরিফ ডিবি পুলিশের হাতে আটক

কক্সবাজারে সংসদীয় কমিটির সভায় তথ্য প্রকাশ : দু’বছরে বন পরিবেশের ক্ষতি ৪ হাজার ২ শ’ ২০ কোটি

কক্সবাজার অনলাইন প্রেস ক্লাবের সম্মেলন জানুয়ারিতে, সদস্য অন্তর্ভুক্তি চলছে