মেদ কমাতে বেল্ট ব্যবহারের ফল ভয়ানক

সিবিএন ডেস্ক:
নতুন পোশাক পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলেন পেটের মেদে বাধ সাজছে পোশাকের সৌন্দর্য। ডায়েট না মানতে পারার গ্লানি ও শরীরচর্চার অভাবে মেদ বাড়ছে আড়ে-বহরে। আর তাকে বাগে আনতেই কম পরিশ্রমের উপায় খুঁজতে বসেন অনেকে। অনলাইনে করেন বেল্টের অর্ডার। ভাবেন, বিনা শ্রমে অল্প দিনে ঝরিয়ে ফেলা যাবে বাড়তি মেদ। কিন্তু সত্যিই কি কাজ হয় এতে?

চিকিৎসকদের মতে, আসল সত্যিটা জানলে এই ফাঁকিবাজি করে মেদ ঝরানোর আগে অন্তত দুইবার ভাবতে হবে। আসলে মুখরোচক খাবার খেয়ে বেশির ভাগ মানুষই ছোট থেকেই পেটে মেদ ভরে বসে থাকেন। এছাড়া জিনগত ভাবে বাঙালিদের অনেকেরই ভুঁড়ি হওয়ার প্রবণতা বেশি। চেহারা খারাপ লাগা ছাড়াও পেটে মেদ জমার কারণে অনেক অসুখবিসুখের শঙ্কা বেড়ে যায়।

তবে শঙ্কা নিয়ে কথা বলতে গেলে বেল্টের কর্মপদ্ধতি জানাটা আগে জরুরি। চওড়া বেল্ট পেটে টাইট করে আটকে নিয়ে বেশি তাপমাত্রার সাহায্যে ঘর্ম গ্রন্থি বা সোয়েট গ্ল্যান্ডের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে ওই অংশে প্রচুর ঘাম হয়। আর এই কারণে কিছুটা হালকা লাগে। সামান্য ছিপছিপে যে লাগে না তাও নয়। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এতটাই বেশি, যা শরীরের পক্ষে মোটেই ভালো নয়।

ভারতীয় পুষ্টিবিদ সুমেধা সিংহের মতে, ‘বাজারে পাওয়া বেশির ভাগ বেল্টে শরীরের মাঝের অংশের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়া হয় একশ পাঁচ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত। এর ফলে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকের র‌্যাশ তো বটেই, এগজিমা বা সোরিয়াসিসের প্রবণতা থাকলে তা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অতিরিক্ত ঘাম বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ওজন কমছে বলে মনে হলেও আসলে ঘাম ঝরার জন্যই একটু ঝরঝরে লাগে মাত্র। আসলে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে অনেকটা পানি বেরিয়ে যায় বলে ওজন কিছুটা কমলেও তা কিন্তু খুব সাময়িক।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, ‘চটজলদি মেদ কমানোর হাতিয়ার বেল্টের আরও অনেক ক্ষতিকর দিক আছে। ফাঙ্গাল ইনফেকশনের পাশাপাশি রক্তচাপ থাকলে তা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অনেকের হার্টে চাপ পড়ে বুক ধড়ফড় করতে পারে। ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি পেটে এই বেল্ট বেঁধে রাখলে পরবর্তীকালে পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ায়। আসলে স্পার্মের জন্য লাগাতার গরম মোটেও ভালো নয়। এর ফলে একদিকে স্পার্ম কাউন্ট কমে যায়, অন্যদিকে টেস্টিকুলার টেম্পারেচর বেড়ে যায় বলে স্পার্ম উৎপাদন বরাবরের জন্য ব্যহত হতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার প্রস্টেট ও টেস্টিক্যুলার ক্যানসারও ডেকে আনতে পারে।’

আর এক ভুল ধারণা হল, এই বেল্ট ব্যবহারের পরেই কনকনে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে নাকি রাতারাতি ওজন কমে যায়। জাপানের ‘সেন্ট মারিয়ানা ইউনিবার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত সমীক্ষা অনুযায়ী, এই কাজটি করে প্রতি বছরই অজস্র অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে মারাত্মক জ্বরের শিকার হয়।

ওজন কমাতে বেল্টের ব্যবহার দেশে দেশে এতটাই জনপ্রিয় যে, প্রতি বছর এই ধরনের বেল্ট দিয়ে মেদ কমানোর চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। ২০১০ সালে রাশিয়ায় আয়োজিত এমনই এক চ্যাম্পিয়নশিপে এক খেলোয়াড়ের মৃত্যুও হয়। তারপর থেকেই বেল্টের ব্যবহারে রাশ টানছে বিশ্বের উন্নততম দেশগুলো।

সর্বশেষ সংবাদ

চার হাজার ইয়াবাসহ নারী আটক

মহান একুশ পালন করলো জুভেনাইল ভয়েস ক্লাব

শহীদ মিনারে হোপ ফাউন্ডেশনের পুষ্পমাল্য অর্পণ

সাংবাদিক এফ এম সুমনের বাড়ি থেকে লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি

আমিরাতে করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশিসহ আক্রান্ত ১১

ইসলামী ব্যাংক রেসিডেন্সিয়াল মাদরাসায় মহান একুশ পালন

এবার আমিরাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশি নাগরিক

করোনাভাইরাসে শ’য়ে শ’য়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, মোট ২৩৬০

ছোটমহেশখালী যুবদলের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

হোয়াইক্যংয়ে ২১ তম ইসলামী মহা সম্মেলনের প্রথম দিন অতিবাহিত

চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

গভীর রাতে বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় গোলাগুলি

মহান শহিদ দিবসে জেলা প্রশাসনের আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

চকরিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধাঞ্জলী

চকরিয়ায়  ভাষা শহীদদের স্মরণে এমপি জাফর, উপজেলা প্রশাসন , দল ও  নাগরিকদের শ্রদ্ধা

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার- ১০

চকরিয়ায় যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরামের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

পেকুয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উপজেলা প্রশাসনের রক্তদান কর্মসূচি

চকরিয়ায় সালিশকার যখন মামলার আসামী!

মালুমঘাটে যাত্রীবাহী বাসের নিচে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল!