শাহীন মাহমুদ রাসেল:
কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই মুসল্লির ভাই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় শেখ মাহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

মামলা সসুত্রে জানা যায়, আহত মুসল্লি আব্দুল মালেক জুমার নামাজ পড়ার সময় মসজিদের ভেতরে মামলায় উল্লেখিত ৬ জন আসামি মারধর ও কুপিয়ে জখম করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলায় আসামিরা হলেন- নবাব মিয়া, রাজা মিয়া, ওসমান গণি, সাদ্দাম প্রকাশ সাউদ্যা, শেখ মাহিন ও ইউসুফ আলী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, খরুলিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী তার ৮ সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার কারবার করে আসছেন। এলাকাবাসী বাধা দিয়ে আসছিল পরিবারটির ইয়াবার কারবার নিয়ে। ইয়াবা কারবারের প্রতিবাদকারীদের অন্যতম ব্যক্তি হচ্ছেন একই এলাকার আবদুল মালেক নামের একজন গ্রামবাসী।

ইয়াবা পরিবারটির সদস্যরা গত দু’দিন আগে প্রতিবাদকারি আবদুল মালেককে মারধর করে তার টাকা-পয়সা এবং মোবাইলও ছিনিয়ে নেয়। সর্বশেষ আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইয়াবা কারবারিরা মসজিদের বাইরে ওঁৎ পেতে ছিল। মসজিদের ইমাম নামাজের ইমামতি শুরু করার সাথে সাথেই কারবারির দল ধারালো দা, কিরিচ ও লোহার রড নিয়ে মসজিদে হামলা শুরু করে।

এরপর মসজিদের উঠানেই কারবারি ইউসুফ ও তার ৪ পুত্র যথাক্রমে রাজা মিয়া, নবাব মিয়া, সাদ্দাম হোসেন এবং ওসমান গনি তাদের হাতে থাকা ধারালো রামদা, কিরিচ ও লোহার রড নিয়ে কোপাতে থাকে। ইয়াবা কারবারি পিতা-পুত্র পাঁচজনের এলোপাতাড়ি কোপে আবদুল মালেকের মাথাসহ সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ইউসুফ আলী ও তার ছেলেরা। মামলার সূত্র শেখ মাহিন নামে একজনকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।

মুসল্লির ভাই মান্নান বলেন, আমার ভাইকে ইউসুফ আলী ও তার ছেলেরা হত্যার উদ্দেশে কুপিয়েছে। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) খন্দকার ফরিদ উদ্দিন বলেন, মুসল্লির ভাই মান্নান বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। আমরা একজনকে আটক করেছি। মামালার অন্য আসামিদের আটক করার চেষ্টা চলছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •