সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
“আজকের পথশিশু, আগামীর স্বপ্নদ্রষ্টা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে সংস্থার নিজস্ব মঞ্চ সায়মুন সংসদ উন্মুক্ত মঞ্চে ছিন্নমূল পথশিশুদের মাঝে ৩৩ জনকে টি-শার্ট বিতরণ করেন। এসময় কক্সবাজার সিটি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সংস্থার চেয়ারম্যান নুরুল আবছার (সিকদার) বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন ও লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং এই নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন শাখা ও পরিষদ বহুমূখী কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝড়ে পড়া শিশুদের নিয়েও কাজ করবে বলে জানান। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রুহুল আমিন সিকদার, প্রভাষক মোহাম্মদ আফজাল, মিজানুর রহমান, আহমদ ছফা, করিম তাজ, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জহিরুল আলম রুবেল, মনজুর আলম, জনি বড়ুয়া, রাজিব দাশ, মং ওয়ান নাইনসহ অনেকে।

পথশিশুদের সম্পর্কে কিছু লিখা:
ছিন্নমূল পথশিশু জীবন : যে জীবন শুধু বঞ্চনার: ওরা আর সব সাধারণ শিশুর মতো নয়। এ বয়সে ওদের কেউ মায়ের কোলে, কেউ স্কুলে কেউ থাকতে পারত পরিবারের অটুট বন্ধনে। কিন্তু নিয়তির ফেরে এসব কিছুই পাওয়া হয় না ওদের। ওরা রাস্তায় ঘুমায়। পথে পথে ঘোরে। ক্ষুধার দায়ে রাস্তায়ই বেছে নেয় জীবিকার পথ। ওরা টোকাই, ওরা ছিন্নমূল পথশিশু। কেনই বা ওরা পথশিশু? ওদের জন্য রাষ্ট্র-সমাজের করণীয় কী? সামাজিক এ সমস্যার সমাধানই বা কোন পথে?

সঠিক হিসাব নেই পথশিশুর কত পথশিশু রয়েছে, তার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান নেই সরকারের হাতে। এক হিসাবমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ পথশিশু রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকেরই বাস রাজধানী ঢাকায়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) হিসাবমতে, শুধু ঢাকা শহরে প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার পথশিশু রয়েছে।

এই বিপুলসংখ্যক শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য পুষ্টিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত; যাদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। খোলা আকাশ, পার্ক, ফুটপাত, রেলস্টেশন, ফেরিঘাট লঞ্চটার্মিনাল কিংবা বাসস্টেশনে এরা থাকে। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, টঙ্গি রেলস্টেশন, হাইকোর্ট মাজার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, পলাশী মোড়, দোয়েল চত্বর, চানখারপুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিক্যাল, গাবতলী, সদরঘাট ও বিভিন্ন ফুটওভারব্রিজ এলাকায় পথশিশুদের দেখা মেলে বেশি।

শিশুদের নিয়ে কাজ করে—এমন একাধিক সংস্থা জানিয়েছে, পথশিশুদের নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো দেশটির সর্বশেষ আদমশুমারিতে ভাসমান মানুষ সম্পর্কে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বলছে, দেশটিতে চার লাখের মতো পথশিশু রয়েছে, যার অর্ধেকই অবস্থান করছে রাজধানী ঢাকায়। অন্যদিকে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। ঢাকার হিসাব অবশ্য তাদের কাছে নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ঢাকাতেই ছয় লাখ পথশিশু রয়েছে। সারা দেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখ।

অন্ধকারের জীবন: পথশিশুরা ক্ষুধার জ্বালা, একাকিত্বের কষ্ট বা সঙ্গ দোষে তারা নানা ধরনের মাদক নিচ্ছে। এমন এক মাদক ড্যান্ডি। ড্যান্ডি সেবনের বিষয়ে রমনা পার্ক এলাকার পথশিশু সুজাত বলে, ‘ক্ষুধা লাগে। ড্যান্ডি খেলে ঝিমুনি আসে, ঘুম আসে। তখন ক্ষুধার কথা মনে থাকে না। ’ বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মাদকে আসক্ত। সংগঠনটির তথ্যানুযায়ী ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২২৯টি স্পট রয়েছে, যেখানে ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে। পথশিশুরা সাধারণত গাঁজা, ড্যান্ডি, পলিথিনের মধ্যে গামবেল্ডিং দিয়ে এবং পেট্রল শুঁকে নেশা করে। এ ছাড়া মিছিল-মিটিং, বিভিন্ন রাজনৈতিক শোডাউনে কিংবা হরতালের পিকেটিংয়ে অহরহ পথশিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে কিংবা একবেলা পেটপুরে খাওয়ার বিনিময়ে এসব দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে শিশুরা। শোডাউন ছাড়াও পিকেটিং, ভাঙচুর কিংবা ককটেল নিক্ষেপের মতো বিপজ্জনক কাজেও ব্যবহার হচ্ছে এরা।

মেয়ে পথশিশুদের নির্মম জীবন: ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পথশিশু সুরাইয়ার মতে অত্যাচার সইতে না পেরে সে বাড়ি ছাড়া বছর পাঁচেক আগে। এখন বয়স তার ১৩ বছর। সে জানায়, এই উদ্যানেই এক ভ্রাম্যমাণ নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। সেই নারী সুরাইয়াকে বাসায় নিয়ে যায়। ওখানে দুজন তাকে ধর্ষণ করে। পরে ওই নারী তাকে কোনোমতে রিকশায় তুলে দেয়। ওই বাসা থেকে আবারও সে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলে আসে। সুরাইয়া বলে, ‘বুঝতে পারিনি। কী থেকে কী হয়ে গেল, কারো কাছে এ কথাটা বলব—কেউ তো বিশ্বাস করতে চায় না। ’ মেয়েটি বলে, ‘লোকজন সুযোগ পেলে নানা রকম খারাপ কথা বলে। ’ সদরঘাটের অপর পথশিশু সুলতানা। সে বলে, ‘বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করছে। আমি নানিবাড়ি আছিলাম। নানিবাড়িতে অভাব, তাই পথে আইয়া পড়ছি। ’ সেও একাধিকবার যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, এ রকম শত শত কিশোরীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। আমাদের সকলের উচিত এদের পাশে থেকে অন্ধকার জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •