নিজস্ব প্রতিবেদক:
অবশেষে কক্সবাজার বেতারের বহুল বিতর্কিত আঞ্চলিক পরিচালক (আরডি) মো.মাহফুজুল হককে বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী কেন্দ্রে বদলী করা হয়েছে। তবে তিনি সংযুক্তিতে ময়মনসিংহ বেতার কেন্দ্রের আরডি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
তারস্থলে বাংলাদেশ বেতার, ঢাকার উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ও বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রেষনে কর্মরত মো. আজগর আলীকে কক্সবাজার বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক (চলতি দায়িত্ব)হিসাবে পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রনালয় থেকে রাস্ট্রপতির আদেশক্রমেউপসচিব মো. ঈষান আলী রাজা বাঙালী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আদেশ জারী করা হয়েছে।যার স্বারক নম্বর-১৫.০০.০০০০.০২১.১৯.০০২.১১-৮৯২। এ প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে,কক্সবাজার বেতারের আরডি হিসাবে পদায়নকৃত কর্মকর্তার প্রেষনে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পদায়ন সংক্রান্ত আদেশটি এত দ্বারা বাতিল বলে গণ্য হবে।এবং জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার বেতারের দুর্নীতিবাজ ও নারী লোভী আঞ্চলিক পরিচালক মো.মাহফুজুল হক ও কতিপয় কর্মচারীর আর্থিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং তাদের শাস্তির দাবিতে বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেমানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে কক্সবাজার বেতার শিল্পী সমন্বয় পরিষদ।প্রতিবাদী এ সমাবেশে বেতারের সর্বস্থরের শিল্পীরা অংশ নেন।
এদিকে, আরডির এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন), প্রথম আলো, সমকাল, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম, জনকন্ঠ, দৈনিকআজাদী, আজকের দেশিবিদেশ, দৈনিক কক্সবাজার,সকালের কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জাতীয় ওস্থানীয় কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করে তথ্য মন্ত্রনালয়।এ তদন্ত দল ঘটনার তদন্তে কক্সবাজারে অবস্থানকালীন সময়ে বৃহস্পতিবার এ বদলী আদেশজারী করা হয়।শিল্পীদেরঅভিযোগ,গত কয়েক বছর ধরে কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রটি দূর্নীতি ও নানা অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান আঞ্চলিক পরিচালক (আরডি) মাহফুজুল হক, দুইজন কর্মমচারীর সহযোগিতায় বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান এবং শিল্পীখাত এবং ইউনিসেফের প্রকল্প থেকে দুই বছরে অন্তত দুই কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি করেছেন। এছাড়াও তিনি এক ক্যাজুয়াল স্টাফের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ আরডিকে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দেন শিল্পী সমাজ। কক্সবাজার বেতার শিল্পী সমন্বয় পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বেতারের নাট্য প্রযোজক জসীম উদ্দিন বকুল ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য্য জানান, মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় শিল্পী, কলাকুশীল এবং সুশীল সমাজের আন্দোলনের মুখে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করে সিলেটে বদলী করা হয়। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরবর্তীতে কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রে দূর্নীতি ও নানা অনিয়ম আরও বেড়ে বেড়ে যায়। তারা আরও জানান,সরকারী চাকুরীজীবিদের জন্য বদলী কোন শাস্তি নয়,একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এবারওযদি কর্তৃপক্ষ এই দুর্নীতিবাজ আরডির শাস্তি নিশ্চিত না করে তাহলে দুদকের আশ্রয়নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •