মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত ‘রামুর চাকমারকুল মাদ্রাসায় গুলি বর্ষণ, হামলা, ৮ ছাত্র আহত’ শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদগুলো উল্লেখিত ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক।

প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, মাদ্রাসার মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণাসহ নানা কারণে বেশ বির্তকিত হয়ে পড়েছেন। এসব অভিযোগে তিনি জেলও কেটেছেন। এই সব কারণে তার উপর আস্থা হারিয়ে নাখোশ হয়ে পড়েছেন মাদ্রাসা দাতা সদস্যরা।

অন্যদিকে তার অনিয়ম দুর্নীতির তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাদ্রাসাকে কব্জা করে রাখা, নিজের অভিযোগের তদন্ত ভেস্তে দেয়া, এবং দাতা সদস্যদের ফাঁসাতে মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম নানা ষড়যন্ত্রে নেমেছে। দীর্ঘদিন তিনি দাতা সদস্যদের ফাঁসাতে নানাভাবে ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছেন। এমনকি প্রকাশ্যেও তিনি নিজে অঘটন ঘটিয়ে দাতা সদস্যদের ফাঁসানোর হুমকি দিতেন। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি মাদ্রাসায় তিনি একটি পরিকল্পিত হামলার ঘটনার ছক আঁকে। এই জন্য গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকাল মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম তার মাদ্রাসার কক্ষে তার ভাই চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামসহ আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে মাদ্রাসায় একটি গোপন বৈঠক করেন। ওই বৈঠক থেকে মাদ্রাসায় পরিকল্পিত হামলার পরিকল্পনা করা হয়। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সোমবার নিজের লোকজন দিয়ে মাদ্রাসায় ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেন। এতে সহযোগিতা করেছেন মুহতামিম সিরাজের আজ্ঞাবহ মাদ্রাসার রোহিঙ্গা ছাত্র। হত্যা, ডাকাতি ও চুরিসহ ৮/১০ টি মামলা পলাতক আসামী নূরুল আমিন সিকদার তার অবৈধ বন্দুক দিয়ে গুলি ছুঁড়েছেন। অথচ সংবাদ মাধ্যমে আমাকে ও দাতা সদস্যদের উপর এই হামলা দায় চাপাচ্ছেন মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম। কিন্তু ওই সময় আমি মাদ্রাসায় দায়িত্বরত ছিলাম।

আমি দৃঢ়তার বলছি, মাদ্রাসার হামলা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা মুহতামিমের গভীর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। তিনি সুনিপূণভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। এর ব্যাখ্যা হচ্ছে, হামলার তিনদিন আগে তিনি তার ভাইদের নিয়ে মাদ্রাসায় গোপন বৈঠক করেন। গুলিবর্ষণ করা হয় ফাঁকা করা হয়। তবে হামলা ও ভাংচুর হয়নি। ছাত্রদেরও মারধর করা হয়নি। অথচ শিশু ছাত্রদের বেত দিয়ে পিটিয়ে ছবি তুলে লোকজনের সহানুভূমি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় আমার কক্ষে আমি ছিলাম না। তাদের হামলার উদ্দেশ্য ছিলাম। কিন্তু ওই সময় আমি মাওলানা সোলাইমানের কক্ষে অবস্থান করায় হামলা থেকে রক্ষা পাই।
সময় মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম মাদ্রাসায় ছিলেন না। আমি তখন মাদ্রাসায় দায়িত্বরত থাকলেও হামলার সাথে আমাকে অভিযুক্ত করে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাংবাদিক দিয়ে আগে থেকে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। না হলে অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় ও স্থানীয় অধিকাংশ মিডিয়ায় কিভাবে সংবাদ প্রকাশ করা যায়? এসব ঘটনাই প্রমাণ করেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা মুহতামিম পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছেন।

তিনি এরকম একটি ঘটনা ঘটিয়ে আমাকে ও দাতা সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দায়েরের পাঁয়তারা করছিলো। কিন্তু তার এই জঘণ্য ও অসৎ উদ্দেশ্য পুরণ হবে না। আসল ঘটনা ইতোমধ্যে ফাঁস হয়ে গেছে। এই নিয়ে আমরা থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়ায় রয়েছি। তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ আসল ঘটনা উন্মোচন করবেন।

এই আমাদের জড়িয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদেও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি।

প্রতিবাদকারী
মাওলানা আবদুর রাজ্জাক
দাতা সদস্য ও সিনিয়র শিক্ষক
চাকমারকুল মাদ্রাসা, রামু।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •