মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ৯ টি ইউটিউব চ্যানেল এখনো চলছে। এ ৯ টি ইউটিউব চ্যানেল ৩২ টি শরনার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সমাবেশ এ ৯ টি ইউটিউব চ্যানেল বেশ ফলাও করে প্রচার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশী টিভি ও মিয়ানমারে চ্যানেলের খুব একটা কদর নেই রোহিঙ্গাদের মাঝে। তাই দেশ-বিদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারাও এসব চ্যানেলকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। গত ২৫ আগষ্ট রোহিঙ্গাদের মহা সমাবেশসহ নানান খবরা খবর নিয়ে এসব চ্যানেল গুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে সোমবার ৯ সেপ্টেম্বর রাতেও এসব চ্যানেল সক্রিয় ছিল। ক্যাম্পে অবস্থানকারী একজন রোহিঙ্গা মাঝি এ তথ্য সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাহাড়ি উঁচু জায়গায় খুব সহজেই এ চ্যানেল গুলো দেখা যায়। দেশের বাইরে থেকে বেশির ভাগ চ্যানেল পরিচালিত হয়। আর এজন্য কিছু ফুটেজ নিয়মিত পাঠানো হয় রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প থেকে।
কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেছেন, রোহিঙ্গা শরনার্থীরা অনলাইনভিত্তিক কিছু চ্যানেলের মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে, এমন অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে বিটিআরসি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়।
রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে সক্রিয় যে অনলাইন টিভিগুলোর নাম জানা গেছে, সেগুলো হচ্ছে, (১) ‘রোহিঙ্গা পিস টিভি’, (২) ‘রোহিঙ্গা নিউজ আরাকান টিভি’, (৩) ‘আরাকান আর ভিশন’,(৪) ‘আরাকান টাইমস’, (৫) ‘রোহিঙ্গা নিউজ’, (৬) ‘আরাকান টাইম টুডে’, (৭)‘রোহিঙ্গা টিভি’, (৮) ‘আরাকান নুর’ এবং (৯) ‘এএনএ টিভি’। এসব টিভিতে খবর ও অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় রোহিঙ্গা ভাষায়। সরাসরি ওয়েবসাইটে গিয়ে অথবা ইউটিউবে এসব চ্যানেল সহজে দেখা যায়। এ ছাড়া অনেক টিভিরই আলাদা ফেসবুক পেজ রয়েছে। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব চ্যানেল পরিচালিত হয়। এসব ফুটেজ আবার বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে শেয়ার করেছে রোহিঙ্গারা। এসব ফেসবুক গ্রুপ ও পেজ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রবাসী রোহিঙ্গা ও রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে থাকা কিছু যুবক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •