বাংলা ট্রিবিউন:

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট নিয়েছিল তিন রোহিঙ্গা; যাদের বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম নগরীর সিডিএ এক নম্বর সড়ক থেকে আটক করা হয়। সেনবাগ থানার পুলিশ জানিয়েছে, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তিন রোহিঙ্গা পাসপোর্ট তৈরি করিয়েছিল। আর রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরির পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি)।

বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ আটক হওয়া ওই তিন রোহিঙ্গা হলো– মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ মুছা ও মো. আজিজ। তারা তিনজনই কক্সবাজারের উখিয়ার হাকিমপাড়ার শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, তিন রোহিঙ্গার কাছ থেকে জব্দ করা পাসপোর্টে দেখা যায়, মোহাম্মদ ইউসুফ আর মোহাম্মদ মুছার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর। পাসপোর্টে তাদের দুজনের বাবার নামই আলী আহমেদ। স্থায়ী ঠিকানা লেখা হয়েছে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নজরপুর গ্রাম। আর রোহিঙ্গা মো. আজিজের নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি। পাসপোর্টে তার বাবার নাম জামির হোসেন। স্থায়ী ঠিকানা লেখা হয়েছে একই উপজেলা ও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সেনবাগ গ্রাম। তাদের সবার পাসপোর্টেই জরুরি যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন নম্বর ও জাতীয় সনদপত্রের নম্বরও দেওয়া আছে।রোহিঙ্গা আজিজের পাসপোর্ট (ছবি– প্রতিনিধি)

এ ব্যাপারে সেনবাগ থানার উপ-পরিদর্শক গৌর চন্দ্র সাহা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) তিন রোহিঙ্গা মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ মুছা ও মো. আজিজের পাসপোর্টের বিষয়টি তদন্ত করতে বলেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানকে। তদন্ত করে আমি দেখি, রোহিঙ্গারা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেছে। তাদের পাসপোর্টে দেওয়া ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশপাশের কেউই তাদের চেনে না।’ উপ-পরিদর্শক আরও জানান, কাদরা ইউনিয়নের নজরপুর গ্রাম মূলত ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে, তবে ঠিকানায় তা ৭নং ওয়ার্ডে ছিল।

সেনবাগ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিষয়টি তদন্তের জন্য উপ-পরিদর্শক গৌর চন্দ্র সাহাকে দায়িত্ব দিই। তিনি তদন্ত করে দেখেন, ওই ঠিকানা ভুয়া ছিল। আমরা তাৎক্ষণিকই তা জানিয়ে দিই।’

এ ব্যাপারে ডিএসবি’র পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আগামীকাল পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে নথিপত্র যাচাই করবো। তারপর খতিয়ে দেখবো, ওই তিন পাসপোর্ট কীভাবে ক্লিয়ারেন্স পেল।’