শাহেদ মিজান, সিবিএন:

রোহিঙ্গাদের দিয়ে এনজিওদের বাংলাদেশ বিরোধী ষড়ডন্ত্র দিনে দিনে গভীর হচ্ছে। মুক্তি কক্সবাজার কর্তৃক রোহিঙ্গদের সরবরাহ করা দেশীয় অস্ত্রেরর বিশাল চালান ধরার পড়ার এবার ধরা পড়লো এক দেশীয় অস্ত্রত্রের চালান। এবারও আরেক বিতর্কিত এনজিও শেড ওই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রোহিঙ্গাদের মধ্যে সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার উখিয়ার থেকে এসব দেশীয় অস্ত্রগুলো জব্দ করে প্রশাসন। চাষের সরঞ্জামের নাম করে রোহিঙ্গাদের এসব দেশীয় অস্ত্র সরবরাহ করাকে অশনি সংকেত দেখছেন স্থানীয়রা। এনজিওদের এই অপতৎপরতায় বাংলাদেশ বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র প্রত্যক্ষ হচ্ছে বলে মনে স্থানীয় সুশীল লোকজন। তাই এনজিওদের ষড়যন্ত্র রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, মানবতার দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সহযোগিতা করেছে। তবে কোনোভাবেই এত বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গাকে ঠাঁই দেয়া সম্ভব কখনই হবে না। তারপরও মানবতার খাতিরে সাময়িক আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের মোড় এখন ভিন্ন দিকে। তারা এখন বাংলাদেশ ছেড়ে না যেতে অনড় অবস্থান নিয়েছে! দিনে দিনে তারা বাংলাদেশে থেকে যেতে প্রত্যাবাসনের উল্টো দিকে হাঁটছে। এতে বহু প্রচেষ্টায় আয়োজন করা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দুইবার ভেস্তে গেছে।

শুরু থেকে অভিযোগ উঠে, এনজিওগুলো প্রত্যাবাসনে বিরোধীতা করছে। এই নিয়ে স্থানীয়রা শুরু থেকে ক্ষুব্ধ। এই নিয়ে সোচ্চার রয়েছে সুশীল মহল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সেভাবে ব্যবস্থা না নেয়ায় এনজিওরা এখন বাংলাদেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এনজিওদের বাধার কারণেই দুইবার রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে। তারা একটি বৈশ্বিক ‘কালো’ শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং নিজেদের আখের গোছানোর জন্যই প্রত্যাবাসনে কঠোরভাবে বিরোধীতা করছে। বিদেশী মিডিয়াগুলোও প্রত্যাবাসন বিরোধীতায় ‘উদ্দেশ্যমুলক’ কাজ করছে।

সর্বমহলের অভিযোগ, এনজিওদের আস্কারা পেয়ে রোহিঙ্গারা দিনে দিনে বেপরোয়ার হয়ে উঠেছে। স্বদেশে ফিরে যাওয়াতো দূরের কথা; তারা এখন বাংলাদেশে চিরদিন থেকে যেতে প্রকাশ্য ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। একই তারা ‘ওভার কনফিডেন্স’ হয়ে এখন স্থানীয়দের উপর চড়াও হচ্ছে। তার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন হ্নীলার জাদিমুরার যুবলীগ নেতা নিহত ওমর ফারুক। এই অপতৎপরতার বড় ধরণের ধৃষ্টতা হলো গত ২৫ আগষ্টের অকল্পনীয় রোহিঙ্গা সমাবেশে। এই সমাবেশের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা কার্যত বাংলাদেশকে বড় ধরণের হুমকি দিয়েছে। এই পরপরই উখিয়া থেকে এনজিও মুক্তি কর্তৃক সরবরাহের জন্য বিপুল দেশীয় অস্ত্র জব্দ এ আশঙ্কার চূড়ান্ত রূপ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার উখিয়া থেকে এনজিও শেড কার্যালয় থেকে আইওএম’র লোগো সম্বলিত বিপুল দেশীয় অস্ত্র জব্দ করেছে প্রশাসন। এই ঘটনা এখন সর্বত্র তোলপাড় চলছে। এই ঘটনার পর থেকে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় লোকজন। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা কেন্দ্রিক এনজিওদের বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র অনেক গভীর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইওএম নিয়ে সন্দেহটা মারাত্মকভাবে প্রকট হয়েছে। কারণ আইওএম’র বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসন বিরোধীতার বেশ অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন লোকজন বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে এনজিওদের ষড়যন্ত্র তলে তলে অনেক গভীর হয়েছে। তবে এখনো সময় আছে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তবে আর সম্ভব হবে না। প্রত্যাবাসন প্রতিক্রিয়া যতই পিছিয়ে যাবে ততই আশঙ্কা আরো বাড়বে। এতে রোহিঙ্গাদের প্রভাবও বাড়বে। সেই সাথে বাড়বে এনজিওদের দৌরাত্ম্যও। তাই এখনই সময় এনজিওগুলোর লাগাম টেনে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা। তা না হলে খুব শিগগিরই এর মাশুল গুনতে হবে বাংলাদেশকে।

এই প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ে এনজিওগুলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে। তারা বাংলাদেশ গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমি মনে করছি তারা একটি বৈশি^ক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে আমাদের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।’