মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:

চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় দিনদিন উৎপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে মরণনেশা ইয়াবা’র কার্যক্রম। সেবন ও পাচার কাজে জড়িতরা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নিচ্ছে পরিত্যক্ত স্থান, কোলাহলমুক্ত পথঘাট, পরিত্যক্ত কুঁড়েঘর, বাসভবনের আলাদা কক্ষকে। জনপ্রতিনিধিদের অনেকে এসব জেনেশুনে নিরব ভুমিকা রাখার অভিযোগ তুলেন সাধারণ লোকজন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অত্যন্ত সুচতুর প্রক্রিয়ায় ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। এলাকার অনেকে অল্প সমেয়ে বাড়ি-গাড়ির মালিক, নামে-বেনামে ব্যাংক একাউন্ট, জায়গা সম্পদের মালিক বুনে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এর উৎস উৎঘাটনের চেষ্টা করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। আর এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে নামীদামী পরিবারের ছেলেরাও।

আরো জানা গেছে, বিগত কয়েক মাস আগে সাফারি পার্কের দক্ষিণ সংলগ্ন গ্রামে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকা মুল্যের ১০ হাজার পিস ইয়াবার চালান নিয়ে তুমুল বিরোধ চলছিল স্থানীয় তিন যুবকের। ওই ইয়াবা টেবলেটগুলো পাচার জনিত কারনে এ বিরোধ চলে বলে জানা যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় মেম্বার ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির সহযোগিতায় জনসম্মুখে স্টাম্পের মাধ্যমে তা সমাধা করা হয়।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার দিবাগত রাত ১১ টা থেকে এলাকার লোকজন নিয়ে সারারাত অভিযান পরিচালনা করেন ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম। সাথে ছিলেন স্থানীয় যুবলীগের সভাপতি মোঃ রাসেলের নেতৃত্বে কমিউনিটি পুলিশসহ ১৫ জনের একটি দল। এসময় মোঃ শাহাজাহান নামের রংমহল এলাকার এক অঘোষিত ইয়াবা গডফাদার ইয়াবার বড় চালানসহ অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়ে যায়। ডুলাহাজারা পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ইয়াবার বড় চালানের লেনদেন ও একটি বাড়িতে অবৈধ মেলামেশা করতে রাত যাপনের খবর পেয়ে এ অভিযান চালানো হয়। পরে ইয়াবা বিরোধী পনের জনের দলটি এলাকার বিভিন্ন মাদকের সম্ভাব্য পয়েন্টগুলো তল্লাসি চালায়। তবে অভিযানের অগ্রিম খবর পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ী শাহাজান। তার বিরুদ্ধে থানা পুলিশের খাতায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।

মাদক নির্মূলে অভিযান চলছে জানিয়ে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ ফরিদুল আলম বলেন, আমার এলাকায় মাদক সেবন ও ব্যবসা যেই করুক কাউকে ছাড় দেব না। অভিযোগ ও ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরপরই জড়িতদের আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।

অপরদিকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সাফারি পার্ক এলাকায় চলছে মাদকের কার্যক্রম। অসাধু গুটি কয়েক পার্ক কর্মচারী মাদকে জড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাদের স্বজনরাও দিবারাত্রি চালিয়ে যাচ্ছে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায়। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর গভীর রাত পর্যন্ত পার্কের পরিত্যক্ত এলাকায় কলেজ সংলগ্ন উত্তর পাশে চলছে ইয়াবা সেবন ও ইয়াবা চালানের লেনদেন। জড়িত এসব মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে আইনের আওতায় এনে সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর। অন্যতায় ধ্বংস হবে স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ যুবসমাজ।

এ ব্যাপারে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের টুরিষ্ট পুলিশের ইনচার্জ সুনীল কুমার ঘোষ জানান, পার্ক এলাকায় বালুর স্তুপ ও তৎসংলগ্ন এলাকা, কলেজের পার্শ্ববর্তী পার্ক এলাকায় মাদক সেবন ও লেনদেনের খবর আমরা পেয়েছি। জড়িতদের আটকে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) এ.কে.এম শফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, যদিও পার্ক এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের আলাদা সেক্টর রয়েছে। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে! অন্যান্য এলাকার মাদকের পয়েন্টগুলোতে পুলিশের অভিযান চলবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •