সিবিএন:

আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পরিবার থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান চাঁদপুর সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হাসাদী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার (৬৯)।

দুর্ভাগ্যক্রমে আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার কোন কথা বলতে পারেন না। একজন মানসিক রোগী। ৫-৬ মাস ধরে চিকিৎসায় ছিলেন এমএসএফ-ওকা উখিয়ার কুতুপালং হাসাপাতালে। গত ২২ আগষ্ট, ২০১৯ এমএসএফ হাসপাতালের হিউম্যানট্রিয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসার সালমান খান বিষটি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি- পারিবারিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন বিভাগ, কক্সবাজারে কর্মরত অফিসার আতিকুর রহমান রাব্বিকে জানালে তিনি ২৫ তারিখ কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে আব্দুর রাজ্জাকের সাথে দেখা করেন। মি. রাব্বি জানান প্রশ্ন করলে উত্তরটি লিখে দেন। দীর্ঘ ৪-৫ ঘন্টা চেষ্টায় বাড়ীর ঠিকানাগুলো লিখেন গ্রামের নাম হামাদী, পোস্ট অফিস-মুনসপুর, থানা-চাদুর, জেলা- কুমিল্লা ।

আসলে তিনি বাড়ীর ঠিকানা ভুল লিখেন। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলা থেকে বিভাজিত হয়ে চাঁদপুর জেলার সৃষ্টি। এই জেলা সৃষ্টির আগেই তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বলে জানান তাহার ছোট ছেলে মনির (৩২)। সকল তথ্য নিয়ে মি. রাব্বি বাংলাদেশ সরকারের অনলাইনে ঠিকানা মিল না পেয়ে গ্রামের নাম পান হাসাদী, ৬ নং ওয়ার্ড, বিষ্ণুপুর, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর জেলায়। এতে তিনি ওই ঠিকানা দিয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ট্রেসিং ফরম পূরণ করে জাতীয় সদর দপ্তরের পারিবারিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন (আরএফএল) বিভাগে প্রেরণ করেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পারিবারিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন বিভাগ (আরএফএল) এর পরিচালক জনাব জাফর ইমাম উক্ত ফরমটি চাঁদপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে প্রেরণ করে অল্প সময়ের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারকে খুঁজে দেওয়ার তাগিদ দেন। চাঁদপুর জেলা ইউনিট যুব স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে খুঁজে পান তার পরিবারকে। ছবি দেখে তাহার বোন ও স্ত্রী তাহাকে চিনেন এবং খুশিতে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এতে তাহার পরিবার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কক্সবাজার পারিবারিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন অফিসারের সাথে যোগাযোগ করে আজ ৪টা সেপ্টেম্বর পিতাকে দেখতে আসেন মনির ও তার চাচারা।

আজ সন্ধা ৭ টার সময় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কক্সবাজার ইউনিট আরএফএল যুব সদস্যরা ভিকটিমকে কুতুপালং থেকে কক্সবাজারে নিয়ে এসে ইউনিট ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আবচার, সেক্রেটারি আবুহেনা মোস্তাফা কামাল, ইউনিট লেভেল অফিসার ইয়াহইয়া বখতিয়ার ও মিডিয়ার উপস্থিতিতে আতিকুর রহমান রাব্বির সঞ্চালনায় ভিকটিমকে ছেলে মনিরের হাতে তুলে দেন এবং কক্সবাজার ইউনিটের খরচে তার বাড়ী পৌছানোর ব্যবস্থা করে দেন।

ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আবচার জানান, আমরা অতীতেও এই রকম মানবতার কাজে ছিলাম বর্তমানে আছি এবং ভবিষ্যতে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •