সংবাদদাতাঃ

কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর শিল্প এলাকার গ্যাংষ্টার বাবুল গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে সন্ত্রাসীরা। ইসলামপুর ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে এলাকার ত্রাস ও বাবুল বাহিনীর প্রধান গিয়াস উদ্দীন বাবুলকে গ্রেফতার করে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ফোর্স। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসলামপুর শিল্প এলাকায় উৎপাদনশীল কয়েকটি লবন কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে তার অনুসারী সন্ত্রাসীরা। আর এতে বেকার হয়ে পড়েছে শত শত শ্রমিক।
সূত্রে প্রকাশ, একাধিক ওয়ারেন্ট ভূক্ত আসামী, মাদক ব্যবসায়ী, ইসলামপুর শিল্প এলাকার দুধর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ গিয়াস উদ্দীন বাবুলকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। এর জের ধরে তার বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহনেওয়াজ, রিয়াজ উদ্দীন, সোনা মিয়া ও আবু তালেবের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী একত্রিত হয়ে বুধবার সকালে ইসলামপুর বাজারে মহড়া দেয়। এর একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন লবন কারখানায় হামলা ও ভাংচুর করে ও শ্রমিকদের বের করে দেয়।
মক্কা সল্ট ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সেলিম উল্লাহ কাদেরী জানান, শাহনেওয়াজের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সকাল বেলায় কারখানায় ঢুকে শ্রমিক ও কমচারীদের বের করে দেয়। পার্শ্ববর্তী শাহ মজিদিয়া সল্ট ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্হাপক মোর্শেদ বলেন, সোনামিয়া ও রিয়াজের নেতৃত্বে অপর একদল সন্ত্রাসী কারখানায় ঢুকে ব্যাপক ভাংচুর করে ও শ্রমিক-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে কারখানায় তালা লাগিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই সময়ে এরকম আরো বিভিন্ন লবন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে বাবুল বাহিনী। এতে শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।
মিল মালিকরা জানান, দেশের বৃহত্তম এই লবন শিল্প জোন সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাঁন ঘোনা এলাকার মৃত ফরিদ মেম্বারের ছেলে গিয়াস উদ্দীন প্রকাশ বাবুলের নেতৃত্বাধীন এই বাহিনী এলাকায় চুরি-ডাকাতি, ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সড়ক ডাকাতি ও বন উজাড়সহ আরো বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রয়েছে। এ ছাড়া লবনবাহী কার্গোবোট ও ট্রাক থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে এরা। চাঁদা না দিলে খালে বোট আটক করে ইঞ্জিন, গিয়ার ও প্রপেলারসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি লুটে নেয় বলে জানিয়েছেন বোটের মাঝিরা। এলাকার সাবেক এক বিতর্কিত জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ মদদে বাবুল ও শাহনেওয়াজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।
আটক বাবুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিঞ্জাসাবাদ করলে ইতিপূর্বে সংঘটিত আরো বিভিন্ন অপরাধের রহস্য উম্মোচন হতে পারে বলে জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •