বিশেষ সংবাদদাতা:
মরিয়ম খাতুন রোমন্থন করেন একটা সময় ছিল যখন তাঁর বান্ধবীদের সন্তান জন্মদান, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এমনকি জীবনের জন্য হুমকি এমন সব চ্যালেঞ্জগুলো নীরবে সহ্য করতে হত।

মরিয়ম বলেন, “আমাদের সমাজে নারীরা পুরুষ কিংবা স্থানীয় মুরুব্বী-নেতাদের দলে ভিড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। আবার অনেক সময় আবার নারীদের বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকে।” প্রতিনিধিত্ব করতে না পারার কারণেই নারীদের অসুখ-ব্যাধি সারে না, তাদের সাথে ঘটে যাওয়া সহিংসতাগুলোও অজানা থেকে যায় এবং নারীরা তাদের নিজের ঘরেই বন্দি থাকে।

তাই মরিয়ম যখন শুনলেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগীতায় তাঁর সম্প্রদায়ে নারীদের নিয়ে আলাদা কমিটি হবে; তখন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অন্যান্য নারীদের মত সেও আপ্লুত হয়েছিল। সে সিদ্ধান্ত নেয় যে নিজেকে একজন যোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে সব বিষয় তাঁর নিজ হাতে সামধান করবে।

তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই আমার বন্ধু এবং পাড়া-প্রতিবেশিদের সাহায্য করতে চাই। কিন্তু এই কমিটি নতুন ধরণের। এখানে আমরা সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের সাথে বসে পরিচিত হয়ে কমিটি গঠন করেছি।”

রোহিঙ্গা নারীরা যাতে নিজেদের কথাগুলো নিজেরাই উত্থাপন করে, তথ্য অধিকার পায় এবং রেফারেল পদ্ধতিতে সেবা পায় সেজন্য আইওএম ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘নারী কমিটি’ বিষয়টি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করে। যেহেতু কমিউনিটি সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা, ক্যাম্পে আলোর ব্যবস্থা, অপহরণ কিংবা ঘরে সহিংসতার বিষয়গুলোতে নানারকম অভিযোগ ও মন্তব্য নিয়ে এগিয়ে এসেছিল তাই বিষয়ে নারীদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। এখন ১১০ জন রোহিঙ্গা নারী এইসব কমিটিতে সক্রিয় আছেন যাদের মধ্যে ১০ জন প্রতিবন্ধি নারীও রয়েছেন।

আইওএম-এর যৌনভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) ইউনিটের প্রধান মেগান ডেনিস স্মিথ বলেন, “চারটি বাধার কারণে নারীরা তাদের সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। এগুলো হলঃ তথ্যের অভিগম্যতা, ক্যাম্প কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে সদস্য হতে না পারা।”

নারীকে স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্তগ্রহণে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনায় গঠিত এই ‘নারী কমিটি’তে প্রতিটি বিষয়েই একজনকে ‘বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। যেমনঃ যৌনভিত্তিক সহিংসতা, স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা অথবা মানব পাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞরা তাদের নিজ নিজ বিষয়গুলোতা প্রশিক্ষণ নেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহায়তাকারী সংস্থার সাথে যোগাযোগ রাখে।

আইওএম-এর জিবিভি সমন্বয়ক রূম্পা দে বলেন, “নারী কমিটিগুলো এখন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করছে। নারীরা এখন তাদের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য পরামর্শ নেন এই নারী কমিটির। নারীরা নিজেরাই এখন তাদের সমস্যা সমাধান করছেন।”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •