এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :

বর ও কণে পক্ষের সিদ্বান্তের আলোকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উত্তর ঘুনিয়া এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে স্থানীয় দিগরপানখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছিল সোমবার (২ সেপ্টেম্বর)। বিয়ে উপলক্ষে গতকাল রোববার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে কণের বাড়িতে উৎসবমুখর আয়োজনে মেহেদী রজনী উদযাপনের কথা।

কিন্তু লোকমুলে বাল্যবিয়ের এই ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে গতকাল সকালে কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা মাসুদা আক্তার। এসময় উভয়পক্ষের অভিভাবকদেরকে ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আর বাল্যবিয়ে দিবেনা মর্মে মুচলেকা নেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের তড়িৎ প্রদক্ষেপের কারণে অসময়ে বাল্যবিয়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছেন অষ্টম শ্রৈণীর ওই ছাত্রী।

চকরিয়া উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা মাসুদা আক্তার বলেন, গতকাল রোববার সকালে ইউএনও স্যারের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উত্তর ঘুনিয়া এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে স্থানীয় দিগরপানখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীতে ছাত্রীর সাথে সোমবার বাল্যবিয়ের হতে যাচ্ছে একই এলাকার বদিউল আলমের ছেলে মোহাম্মদ সাগরের। বিয়ের অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে দু’পক্ষ সকল প্রস্তুতি শেষ করার পর গতকাল রোববার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে বর এবং কনের বাড়িতে আয়োজন চলছিল মেহেদী অনুষ্ঠানের। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান স্যারকে জানালে তিনি আমাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ মতো গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় আমার অফিসের আরও দুইজন কর্মচারীসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীকে সাথে নিয়ে বর ও কনের বাড়িতে যাই। এসময় উভয় পক্ষের অভিভাবককে বাল্যবিয়ের সুফল-কুফল সম্পর্কে জানালে তারা আর বাল্যবিয়ে দিবেনা মর্মে সম্মত হয়। পরে তাদের ইউএনও স্যারের কাছে নিয়ে আসি।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে তথ্য অফিসের কর্মকর্তা মাসুদা আক্তারকে এ বিয়ে বন্ধ করে দু’পক্ষের অভিভাবকদের ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে আসার নির্দেশ দিই। পরে দু’পক্ষের অভিভাবকরা আর বাল্যবিয়ে দিবেনা মর্মে মুচলেকা দিলে পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •