মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

একটা কর্ণ ছেদন (Ear-hole) অনুষ্ঠানে উপহার সামগ্রী হিসাবে পাওয়া গেছে-সোয়া কোটি নগদ টাকা, প্রায় ৯৬ ভরি অর্থাৎ সোয়া কেজি স্বর্ণালংকার, প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মতো ইলেকট্রনিকস ও অন্যান্য মূল্যবান উপহার সামগ্রী। রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ বাহিনীর প্রধান নুর মোহাম্মদের কিশোরী কণ্যার কর্ণ ছেদন অনুষ্ঠানে এ উপহার সামগ্রী পাওয়া যায়। গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রত্যাসনের দিনে ৪ টি বড় সাইজের গরু ১৪ টি ছাগল জবাই করে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া এলাকার বহু মামলার পলাতক আসামী কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদের বাড়িতে এ রাজকীয় কর্ণ ছেদন (আন্ঞ্চলিক ভাষায় ‘কান ফুরানী’ অনুষ্ঠান) আয়োজন করা হয়। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ (বিপিএম-বার) সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নুর মোহাম্মদ ১৯৯১ সালে মিয়ানমার থেকে টেকনাফে আসে। সে ধীরে ধীরে তার সশস্ত্র বিশাল কুখ্যাত বাহিনী গড়ে তুলে। সে বাহিনী নিয়ে টেকনাফের গহীন অরণ্যে অবস্থান করে থাকে। সেখান থেকে দীর্ঘ প্রায় ২ যুগ ধরে বিভিন্ন অপরাধকর্ম চালিয়ে আসছে। নুর মোহাম্মদ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অপহরণ, ডাকাতি, অস্ত্র সহ বিভিন্ন ধরনের একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে পলাতক আছে। ভয়ংকর নুর মোহাম্মদ বাহিনী টেকনাফের পশুর হাঠ, মাদক ব্যবসার কিছু অংশ, মানবপাচার সহ টেকনাফের অপরাধ জগতের ডন হিসাবে পরিচিত। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরনার্থী আগমনের পর থেকে সে ও তার বাহিনী অপরাধ জগতের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। হয়ে উঠপ অপরাধ জগতের অঘোষিত কিং। গত ২২ আগস্টে এই নুর মোহাম্মদের মেয়ের বিশাল কর্ণ ছেদন অনুষ্ঠানে তার শীর্ষ্যদের একটা মহামিলন মেলা ঘটেছিল। অনুষ্ঠানে ডাকাত, অস্ত্রের কারিগর ও সরবরাহকারী, ইয়াবা কারবারের গডফাদার, পশুর হাঠের শীর্ষ চাঁদাবাজ, মানবপাচারকারী সহ বিভিন্ন দাগী অপরাধীদের উপস্থিতি ছিল বেশ লক্ষনীয়। এদের যারা উপহার দিয়েছে তারা কেউই ৫০ হাজার টাকার নীচে নগদ টাকা কিংবা যারা স্বর্ণ উপহার দিয়েছে তারা কেউ ২ ভরির নীচে স্বর্ণ অথবা ইলেকট্রনিকস উপহার দিয়েছে তারা কেউই ৬০/৭০ হাজার টাকার নীচে উপহার সামগ্রী দেননি। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ (বিপিএম বার) সিবিএন-কে জানান, স্থানীয় লোকনজের মাধ্যমে উপহারের তালিকা খতিয়ে দেখা গেছে প্রাপ্ত মোট উপহার সামগ্রীর মধ্যে প্রায় সোয়া কেজি স্বর্ণ, প্রায় অর্ধ্ব কোটি নগদ টাকা, ফ্রিজ-টেলিভিশন সহ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মতো ইলেকট্রনিকস ও মূল্যবান উপহার সামগ্রী উঠেছে। উপহার পাওয়া স্বর্ণের মধ্যে বেশীর ভাগ কানের দুল রয়েছে। গুরুর মেয়ের কর্ণ ছেদন অনুষ্ঠানে গুরুকে সন্তুষ্ট করতেই এ রকম মূল্যবান উপহার সামগ্রীর সমারোহ হয়েছে বলে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী সিবিএন-এর কাছে ধারণা করেছেন। এই ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদের ৪ টি বাড়ি ও ২ জন স্ত্রী রয়েছে। তারমধ্য একটি বহুতলা ভবন, একটি বাগানবাড়ি, একটি টিনের বাড়ি ও একটি টাউয়ার। স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে, নুর মোহাম্মদের মেয়ের ভোজ অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ মহা আয়োজনের পর থেকে ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ও তার বাহিনীর সদস্যের ধরার জন্য টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ বেশ ক’বার অভিযান চালিয়েছেন বলে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ (বিপিএম বার) সিবিএন-কে জানান। তিনি আরো জানান, কুখ্যাত ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ এখন পুলিশের নজরদারির মধ্যে রয়েছে এবং তার গতিবিধি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। সে দ্রুততম সময়ে আইনের জালে আটকা পড়তে পারে বলে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ (বিপিএম বার) সিবিএন-কে জানিয়েছেন। গত ২২ আগস্ট কর্ণ ছেদন অনুষ্ঠান থেকেই কুখ্যাত নুর মোহাম্মদ ও তার বাহিনীর সদস্যদের আটক করা হলো না কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ (বিপিএম-বার) বলেন, কোন সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে আাসামী গ্রেপ্তার করলে অনেক সময় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং নিরপরাধ ও নিরিহ লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সে চিন্তা থেকে ঐ অনুষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়নি। তবে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া লোকজনের মধ্যে যারা ওয়ান্টেড ও যাদের বিরুদ্ধে গুরতর অভিযোগ রয়েছে, তারা এখন পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে বলে সিবিএন-কে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ (বিপিএম বার) নিশ্চিত করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •